মস্কো-কিয়েভ চুক্তির জের, ইউক্রেন থেকে সূর্যমুখী তেল আমদানি করতে চলেছে ভারত
মস্কো-কিয়েভ চুক্তির জের, ইউক্রেন থেকে সূর্যমুখী তেল আমদানি করতে চলেছে ভারত
বিশ্বের সব থেকে বেশি ভোজ্য তেল আমদানিকারক দেশ ভারত। দীর্ঘ পাঁচ মাস পর ইউক্রেন থেকে সূর্যমুখী তেল আমদানি করতে চলেছে সানভিন গোষ্ঠীর তরফে জানানো হয়েছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ইউক্রেন থেকে ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টন সূর্যমুখী তেল ভারতে পৌঁছবে বলে মনে করা হচ্ছে। বাণিজ্য ক্ষেত্রে কৃষ্ণসাগর ব্যবহারের সম্প্রতি ইউক্রেনকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তুরস্কের ইস্তানবুলে রাষ্ট্রসংঘের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে বাণিজ্যক্ষেত্রে কৃষ্ণসাগরের ব্যবহার নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের একটি চুক্তি হয়।

পাঁচ মাস পর সূর্যমুখী তেল আমদানি
মুম্বই ভিত্তিক সংস্থা সানভিন গ্রুপের প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক সন্দীপ বাজোরিয়া জানিয়েছেন, ইউক্রেনের কৃষিপণ্য রফতানির জন্য কৃষ্ণ সাগরের কিছু করিডর খুলতে চলেছে। যার ফলে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টন সূর্যমুখী তেল ভারতে আসতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেন ভারতে সূর্যমুখী তেল রফতানির জন্য ওডেসা ও চোরনোমর্স্ক সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে পারে। বাজোরিয়া জানিয়েছেন, কবে ভারতে আমদানিকৃত সূর্যমুখী তেল পৌঁছবে তা জাহাজের ওপর নির্ভর করছে। সূর্যমুখী অপরিশোধিত তেল সরবরাহের ওপর ভারত ইউক্রেনের ওপর নির্ভরশীল। গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ১.৮৯ মিলিয়ন টন অপরিশোধিত সূর্যমুখী তেল আমদানি করেছে ভারত। তার মধ্যে ভারত ইউক্রেন থেকে ৭৪ শতাংশ, আর্জেন্টিনা ও রাশিয়া থেকে প্রায় ১২ শতাংশ সূর্যমুখী তেল আমদানি করা হয়।

কমল পাম তেলের দাম
রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে আর্থিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছে ইউক্রেন। বর্তমানে কৃষিভিত্তিক ইউক্রেনের পাম তেলের দাম কমে গিয়েছে। তাই মনে করা হচ্ছে ভারত সূর্যমুখী তেলের সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেন থেকে পাম তেল আমদানি বাড়বে। মনে করা হচ্ছে আমদানির পরিমাণ আগস্টে ৭৫০,০০০ টন। কিন্তু সেপ্টেম্বরে সেই পরিমাণ বাড়বে ৮০০,০০০ টন। ভারতে উৎসবে ভাজাভুজির পরিমাণ বেড়ে যায়। যেহেতু পাম তেলের দাম অনেকটাই কমে গিয়েছে। তাই অনেকেই পাম তেলকে প্রথম পছন্দের তালিকায় রাখবেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন চুক্তি
রুশ আগ্রাসনের ফলে কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে, খাদ্যপণ্যের ওপর বিশ্বের অনেক দেশ ইউক্রেনের ওপর নির্ভর করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইউক্রেন থেকে কৃষিপণ্য আমদানি করা সম্ভব হয় না। যার ফলে বিশ্বের একাধিক দেশে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ে। পাশাপাশি রাষ্ট্রসংঘ বিশ্বে খাদ্যসঙ্কট দেখা দেবে বলে সতর্ক করে। এরজন্য পশ্চিমি দেশগুলো রাশিয়াকে দায়ী করে। আন্তর্জাতিক চাপে ইস্তানবুলে রাষ্ট্রসংঘের আধিকারিকদের উপস্থিতি ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়া কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াতের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের কৃষি মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পরেই ইউক্রেনের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো বন্দর ছাড়বে। রাশিয়া ইউক্রেনের বাণিজ্যিক বন্দরগুলোর ওপর আঘাত করে। তবে এখনও ব্যবহারের উপযুক্ত বলেও ইউক্রেনের বাণিজ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications