চিনের ‘গুপ্তচর জাহাজ’ প্রবেশের একদিন আগেই শ্রীলঙ্কাকে সামুদ্রিক টহলদারি বিমান উপহার ভারতের
চিনের ‘গুপ্তচর জাহাজ’ প্রবেশের একদিন আগেই শ্রীলঙ্কাকে সামুদ্রিক টহলদারি বিমান উপহার ভারতের
মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বিমানবন্দরে প্রবেশ করবে চিনা জাহাজ ইউয়ান ওয়াং ৫। মহাকাশ গবেষণার কাজে এই জাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে চিনের তরফে জানানো হয়েছে। যদিও ভারতের অভিযোগ, চিন গুপ্তচরবৃত্তির জন্যই এই জাহাজ শ্রীলঙ্কায় পাঠাচ্ছে। শ্রীলঙ্কার বন্দরে এই জাহাজ নোঙর করার ঠিক আগে সোমবার কলম্বোকে ডর্নিয়ার ২২৮ সামুদ্রিক টহলদারী বিমান উপহার দিতে চলেছে ভারত। চার বছর আগে শ্রীলঙ্কা ভারতের কাছে সমুদ্র টহল দেওয়ার জন্য দুটো ডর্নিয়ার বিমানের আবেদন করেছিল বলে জানা গিয়েছে।

ভারতীয় নৌবাহিনীর ভাইস চিফ অ্যাডমিরাল সতীশ এন ঘোরমাডে ডর্নিয়ার হস্তান্তরের অনুষ্ঠানের জন্য দুই দিনের কলম্বো সফরে গিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকরা এই হস্তান্তরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকদের সঙ্গে ঘোমরাডের একাধিক বিষয়ে বৈঠক হবে বলে জানা গিয়েছে। টুইন ইঞ্জিন ডর্নিয়ার ২২৮ বিমান হিন্দুস্থান অ্যারোনটিক্স তৈরি করেছে। সমুদ্রের নজরদারির জন্য ভারতে এই বিমানের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ভারতের নৌবাহিনী ও উপকূল নিরাপত্তা বাহিনী মূলত এই বিমান ব্যবহার করে থাকে। এই বিমান শ্রীলঙ্কার বিমান বাহিনী সমুদ্রের ওপর নজরদারির জন্য ব্যবহার করবে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কার পাইলট ও প্রযুক্তিবিদরা ভারতীয় এই বিমানের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। শ্রীলঙ্কা ২০১৮ সালে সমুদ্রের ওপর নজরদারি বাড়াতে এই বিমানের আবেদন করেছিল ভারতের কাছে।
চিনের মহাকাশ গবেষণার কাজে ব্যবহৃত জাহাজ শ্রীলঙ্কার বন্দরে প্রবেশের খবর পাওয়ার পরেই ভারতের ডর্নিয়ার ২২৮ বিমানের হস্তান্তর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের গবেষণার কাজে ব্যবহৃত চিনের এই জাহাজ শ্রীলঙ্কার বন্দরে নোঙর করছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় ভারত। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা চিনা জাহাজের তাদের বন্দরে প্রবেশের কথা প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে তা স্বীকার করে নেয়। এরপরেই ভারত বিমান হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেয়। যদিও পরে ভারত নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসে।
আন্তর্জাতিক সংবামাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, শ্রীলঙ্কার প্রশাসন হাম্বানটোটা বন্দরটি চিনের জাহাজটিকে ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। এরপরেই চিনা রাষ্ট্রদূতের শাসানির মুখে পড়তে হয় শ্রীলঙ্কার সরকারকে। চিনা দূত হুমকিতে জানান, হাম্বানটোটায় ইউয়ান ওয়াং ৫ জাহাজটি ভিড়তে শ্রীলঙ্কা অনুমতি না দিলে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়বে। এমনিতেই শ্রীলঙ্কার বর্তমান পরিস্থিতি মোটেই ভালো নয়। আর্থিক সঙ্কটে জর্জরিত শ্রীলঙ্কা। হুমকির পরেই শ্রীলঙ্কা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসে। শ্রীলঙ্কা সরকারের মুখপাত্র বন্দুলা গুণবর্ধন জানিয়েছেন, 'রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভাকে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ভালো করার একটি প্রচেষ্টা। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যাতে মজবুত হয় সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'












Click it and Unblock the Notifications