কানাডার নির্বাচনে ভারতের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ, নাকচ করে কড়া জবাব ভারতের
কানাডায় 'নির্বাচনী হস্তক্ষেপ'-র ক্ষেত্রে ভারতকে দ্বিতীয় স্থানে রেখে যে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে, তা খারিজ করে দিল দিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক পাল্টা বিবৃতিতে বলেছে, কানাডা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে।
বিদেশ মন্ত্রক (MEA) কানাডিয়ান কমিশনের প্রতিবেদনকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে যে কানাডা নিজেই "অবৈধ অভিবাসন এবং সংগঠিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের" পরিবেশ তৈরি করেছে।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফের বলা হয়েছে, "আসলে কানাডাই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ক্রমাগত হস্তক্ষেপ করে আসছে। এটি অবৈধ অভিবাসন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করছে। আমরা ভারতের প্রতি প্রতিবেদনের সূচনা প্রত্যাখ্যান করি এবং আশা করি কানাডা এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমর্থন করা বন্ধ করবে"।
কানাডার কী অভিযোগ ছিল?
কানাডার বিদেশী হস্তক্ষেপ কমিশন তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে ভারত ২০২১ সালের নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীদের গোপনে অর্থ সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রক্সি এজেন্টদের ব্যবহার করেছে। এই অভিযোগ কানাডা-ভারত সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যা আগে থেকেই খালিস্তানপন্থী কার্যকলাপ এবং নয়াদিল্লির কূটনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে জটিল ছিল।
ওই রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, কানাডার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যে বিদেশি শক্তিগুলি হস্তক্ষেপ করে, তার মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারত। শীর্ষে আছে চীন। আর চীনের মতোই নিজেদের কূটনীতিবিদদের মাধ্যমে কানাডার ভোট প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে থাকে ভারত। আড়াল থেকেও হস্তক্ষেপের কাজটা করা হয় বলে অভিযোগ তুলেছে কমিটি।
যদিও সেই রিপোর্ট পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। সম্প্রতি ভারত কানাডার বিরুদ্ধে খালিস্তানপন্থীদের আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টির অভিযোগ এনেছে। ২০২৩ সালে হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ড নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়। কানাডায় ভারতীয় দূতাবাসের আশপাশে খালিস্তানপন্থীদের বিক্ষোভ ও উসকানিমূলক কার্যকলাপ নয়াদিল্লিকে ক্ষুব্ধ করেছে। আর তাতে সম্পর্কে তিক্ততা ক্রমশ বেড়েছে। এবার কার্যত সেখানেই উত্তেজনা আরও বাড়ল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞদের একাংশ।












Click it and Unblock the Notifications