‘অপারেশন কাবেরি’ শুরু! ‘গৃহযুদ্ধে’র সুদান থেকে ভারতীয় ছাত্রদের ফেরানোর উদ্যোগ
'গৃহযুদ্ধ' শুরু হয়েছে সুদানে। সেনা বনাম আধা সমারিক বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ লাগায় বহু ভারতীয় ছাত্র আটকে রয়েছেন। সেইসব আটকে পড়া ভারতীয় ছাত্রদের ফেরানোর উদ্যোগ নিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক। এ জন্য শুরু হল 'অপারেশন কাবেরি'।
হিংসা-কবলিত সুদান থেকে ভারতীয় নাগরিকদের সরিয়ে নিতে অভিযান শুরু হয়েছে সোমবার থেকে। এয়ারফোর্সের সি ১৩০ বমান জেড্ডায় স্ট্যান্ডবাই রয়েছে। আইএনএস সুমেধা ভারতীয় নাগরিকদের সরিয়ে নিয়ে পোর্ট সুদানে ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছে।

ভারত চাইছে গৃহযুদ্ধ লেগে যাওয়া সুদান থেকে নাগরিকদের সরিয়ে নিতে। সেই কারণেই অভিযান শুরু করেছে ভারত। এই উদ্ধার অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে অপারেশন কাবেরি। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একটি টুইট করে বলেছেন, অপারেশন কাবেরি চলছে।
এই অপারেশন কাবেরিতে ভারতে ফিরতে প্রথম দিনেই সাড়া পড়ে গিয়েছে। ৫০০ ভারতীয় সোমবার পোর্ট সুদানে পৌঁছেছে। সুদানে আটকে পড়া সেইসব নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের জাহাজ এবং বিমান প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান বিদেশমন্ত্রী।
বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, আটকে থাকা ভারতীয় ছাত্র ও নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে তারা সচেষ্ট। সুদানে থাকা আমাদের সকল ভাইদের সহায়তা করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা তাদের শীঘ্রই ফিরিয়ে আনব। জয়শঙ্কর টুইট করে জানান, আমরা ধৈর্য্য ধরুন।

তিনি আরও জানান, আফগানিস্তান এবং ইউক্রেনের মতো যুদ্ধবিধ্বসস্ত অঞ্চল থেকে ভারতীয়দের আমরা ফিরিয়ে এনেছি নিরাপদে। বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির নাগরিকদের উদ্ধার করার জন্যও ভারত সচেষ্ট। বছরের পর বছর ধরে পরিচালিত একাধিক অভিযানে অপারেশন কাবেরি হয়েছে। আমরা এই মিশনে সফল। আবারও সফল হব।
বিদেশ মন্ত্রক এদিন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুটি সি-১৩০এস বিমান এবং নৌবাহিনীর জাহাজ আইএনএস সুমেধা আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য স্ট্যান্ডবাই হয়ে রয়েছে। এই বিমান ও জাহাজে করে ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনা হবে।
গৃহযুদ্ধ-বিধ্বস্ত সুদানে সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী সুদানে ভারতীয়দের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করার কয়েকদিন পরেই তাঁদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত- উভয় দেশই তাদের ভূমি ব্যবহারের আশ্বাস দিয়েছে। ফলে সহজেই এই অপারেশন সফল হবে। উল্লেখ্য, সুদানে সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক র্যারপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফের মধ্যে দেশজুড়ে একটি মারাত্মক ক্ষমতা দখলের লড়াই শুরু হয়েছে।
স্বৈরাচারী ওমর আল-বশিরের পতনের চার বছর পর এবং সামরিক অভ্যুত্থানের দুই বছরের মধ্যেই নতুন বেসামরিক সরকার গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের কারণে এই হিংসার সূত্রপাত হয়েছিল। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছিল।












Click it and Unblock the Notifications