জাতিসংঘে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বিরুদ্ধে ভারতের তীব্র প্রতিবাদ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে কাশ্মীর ইস্যু ও সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে বক্তব্য রাখেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। আর তাঁর সেই বক্তব্যকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করল ভারত। ভারতীয় কূটনীতিক পেটাল গেহলট জাতিসংঘে জবাবি বক্তব্যে পাকিস্তানকে 'সন্ত্রাসবাদকে মহিমান্বিত করা' ও 'অযৌক্তিক নাটকীয়তা প্রদর্শনের' অভিযোগে তুলোধোনা করেন।
গেহলট বলেন, "আজ সকালে এই সভায় আমরা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে আবারও সন্ত্রাসবাদকে গৌরবান্বিত করতে দেখলাম। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে বরাবরই সন্ত্রাসবাদ ছিল। যত নাটকই করা হোক না কেন, সত্যকে ঢেকে রাখা সম্ভব নয়।"

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে চলতি বছর জম্মু কাশ্মীরে পর্যটক হত্যাকাণ্ডের পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তান একটি পাকিস্তান সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনকে দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। গেহলটের অভিযোগ, "একই পাকিস্তানই ওসামা বিন লাদেনকে এক দশক ধরে আশ্রয় দিয়েছিল, অথচ বিশ্বকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে তারা সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে অংশীদার।"
পাকিস্তানি মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে দশকের পর দশক ধরে দেশটিতে জঙ্গি শিবির চালানো হয়েছে।অন্যান্য বছরের মতো এবছরও কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন শেহবাজ শরিফ। তিনি কাশ্মীরিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, পাকিস্তান সবসময় কাশ্মীরের জনগণের পাশে রয়েছে এবং শীঘ্রই নাকি ভারতের 'অত্যাচার' বন্ধ হবে। একইসঙ্গে তিনি কাশ্মীরিদের স্বনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়ে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে গণভোটের দাবি জানান।
শরিফ দাবি করেন, পাকিস্তান সব ধরনের সন্ত্রাসবাদকে নিন্দা জানায়। তিনি বিদেশি মদতপুষ্ট সংগঠন যেমন তেহরিক ই তালিবান পাকিস্তান ও বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মিকে তাঁর দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য অভিযুক্ত করেন। পাশাপাশি ধর্ম, জাতি বা ব্যক্তিবিশেষকে লক্ষ্য করে ঘৃণাবাদ, বৈষম্য ও হিংসার বিরুদ্ধেও বক্তব্য রাখেন।
তবে ভারত শরিফের বক্তব্যকে ধোপে টেকেনি বলে উড়িয়ে দেয় ও এটিকে সীমান্ত পারাপারের সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মদতের আড়াল করার প্রচেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছে।এছাড়া পাকিস্তান অভিযোগ তোলে যে, পেহলগাঁও সন্ত্রাস হামলার পর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রেখে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে।
শরিফ জাতিসংঘে বলেন, "এই চুক্তি লঙ্ঘন যুদ্ধ ঘোষণার সমান আমাদের কাছে।"এদিকে ভারত জানিয়েছে, পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হামলায় ২৬ জন নিরপরাধ মানুষ নিহত হওয়ার পরই ১৯৬০ সালের বিশ্বব্যাংক সমর্থিত চুক্তি স্থগিত রাখা হয়েছে। সন্ত্রাসে পাকিস্তানের মদত বন্ধের বাস্তব পদক্ষেপ না দেখা পর্যন্ত এই চুক্তি পুনর্বহাল হবে না বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি।












Click it and Unblock the Notifications