এবছরের 'এশিয়ার নোবেল' প্রাপকদের তালিকায় রয়েছে এই দুই ভারতীয়ের নাম
এবছরের ম্যাগসেসে পুরস্কার বিজয়ীদের তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। বিজয়ীদের তালিকাতে ভারতের ভারত ভত্বানি ও সোনাম ওয়াংচুকের নাম রয়েছে। সমাজে বিশেষ অবদানের জন্য এই পুরষ্কার দেওয়া হয়।
এবছরের রামোন ম্য়াগসেসে পুরষ্কার প্রাপকদের তালিকায় রয়েছে দুই দুই জন ভারতীয়ের নাম। প্রতি বছর বিরাট সামাজিক অবদান রয়েছে এমন ৬ জন করে এশিয়ায় কৃতি ব্যক্তিত্বকে এই সম্মান দেওয়া হয়। এটি এশিয়ার নোবেল পুরষ্কার নামেই পরিচিত। এবছর ভারত থেকে এই পুরষ্কার পেয়েছেন ড. ভরত ভত্বানি ও সোনম ওয়াংচুক।
রাস্তা থেকে মানসিক রোগী -দের ধরে ধরে এনে তাঁদের আশ্রয় দিয়ে খাইয়ে পরিয়ে চিকিফসা করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন ড. ভরত ভত্বানি। অন্যদিকে সোনম ওয়াংচুকের নিরলস প্রচেষ্টায় লাদাখ এলাকায় জলশিক্ষার আশ্চর্ষজনক উন্নতি ঘটেছে।

ড. ভরত ভত্বানি
আটের দশকে নিজেদের উদ্যোগেই ড. ভরত ভত্বানি ও তাঁর স্ত্রী রাস্তায় পড়ে থাকা মানসিক রোগীদের তাঁদের প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে এসে চিকিৎসা করা শুরু করেছিলেন। একে একে রগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ১৯৮৮ সালে তাঁরা শ্রদ্ধা রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার স্থাপন করেন। এই সেন্টারের মাধ্যমে তাঁরা রাস্তায় পড়ে থাকা ভবঘুরে মানসিক রোগীদের আশ্রয় দেওয়া, যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, এবং সবশেষে পরিবারের সঙ্গে তাঁদের মিলন ঘটিয়ে দেওয়া শুরু করেন। ধীরে ধীরে তাঁদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন পুলিশ কর্মী, সমাজকর্মীরাও।

সোনম ওয়াংচুক
যে বছর ড. ভত্বানি শ্রদ্ধা চালু করেন, সেই একই বছরে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। তারপর আর পাঁচজনের মতো বহুজাতিক সংস্থায় চারকি করতে না গিয়ে স্থাপন করেন স্টুডেন্ট্স এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল মুভমেন্ট অব লাদাখ। আসলে ওয়াংচুক দেখেছিলেন তাঁর 'ঘর' লাদাখে ৯৫ শতাংশ ছাত্রই বোর্ডের পরীক্ষায় পাস করতে পারে না। ওই সংস্থা গড়ে সোনম ওয়াংচুক লাদাখ এলাকার ছাত্রদের কোচিং করানো শুরু করেন। ১৯৯৪-এ চালু করেন নতুন প্রকল্প - অপারেশন নিউ হোপ। তাঁর কাজের সবচেয়ে বড় প্রমাণ তাঁর ছাত্ররা। ১৯৯৬ সালে যেখানে দশম শ্রেনীর বোর্ডের পরীক্ষায় মাত্র ৫ শতাংশ পরিক্ষার্থী পাস করেছিল, সেখানে ২০১৫ সালে পাস করেছে ৭৫ শতাংশ।
|
আরও যাঁরা এবছর পুরষ্কার পেলেন
এ বছরের ম্যগসেসে পুরষ্কার প্রাপকদের তালিকায় রয়েছেন আরও ৪ জন কৃতী ব্যক্তি। রয়েছেন একজন ফিলিপিনো, যিনি কম্যুনিস্ট বিপ্লবীদের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন। আছেন পোলিও আক্রান্ত এক ভিয়েতনামি। প্রতিবন্ধীদের অধিকার আন্দোলনে তিনি মুখ্য ভূমিকা নিয়েছেন। আছেন পূর্ব তিমোর দেশের বাসিন্দা এক মহিলা যিনি গৃহযুদ্ধের সময়ে গরীব মানুষদের জন্য কেয়ার সেন্টার গড়েছিলেন। আর আছেন একজন কাম্বোডিয়ান, যিনি গণহত্যার হাত থেকে পালিয়ে বেঁচেছিলেন। এবং খামের রুজের নৃশংসতার ঘটনা নথিবদ্ধ করতে সাহায্য করেছিলেন।

রামোন ম্য়াগসেসে পুরষ্কার
ফিলিপাইন রাষ্ট্রপতি রামোন ম্য়াগাসেসের নামে এই পুরষ্কার দেওয়া হয়। ১৯৫৭ সালে তিনি এক বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। প্রতিবছর সমাজে বিশেষ অবদান রাখা এশিয়ার ৬ জন কৃতী ব্যক্তিকে এই পুরষ্কার দেওয়া হয়। আগামী ৩১ আগস্ট তারিখে ফিলিপাইন্সের রাজধানী ম্যানিলায় এই পুরষ্কার প্রদান করা হবে।












Click it and Unblock the Notifications