১০৪ শতাংশ মার্কিন শুল্কের বোঝা ঘাড়ে চাপতেই ভারতকে মনে পড়ল চিনের, চাইল সমর্থন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে চিন মঙ্গলবার ভারতকে একযোগে মার্কিন শুল্ক নীতির "অপব্যবহারের" বিরুদ্ধে প্রতিরোধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিষয়টি সামনে এসেছে সেই সময়, যখন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চিনের পণ্যের উপর শুল্ক ১০৪ শতাংশ করার ঘোষণা করেছেন।
ভারতে অবস্থিত চিনের দূতাবাসের মুখপাত্র ইউ জিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X হ্যান্ডেলে এক বিবৃতিতে বলেন, "চিনের অর্থনৈতিক মডেল স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং শক্তিশালী উৎপাদন কাঠামোর উপর গড়ে উঠেছে, যা বিশ্বের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশ্বজুড়ে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির ৩০ শতাংশেরও বেশি চিনের অবদান রয়েছে"।

ইউ জিং আরও বলেন, "দুটি বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে, ভারত ও চিনের উচিত মার্কিন শুল্কের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে একসাথে দাঁড়ানো। বাণিজ্য সম্পর্ক পরিপূরক ও পারস্পরিক সুবিধার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে"।
তিনি আরও দাবি করেন, "শুল্ক যুদ্ধ কখনও কাউকে বিজয়ী করতে পারে না। গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিকে তাদের উন্নয়নের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার এই চেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে"।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর, চিনের পণ্যের উপর শুল্ক বাড়িয়ে ১০৪ শতাংশে পৌঁছে দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, তার এই পদক্ষেপের লক্ষ্য দেশীয় উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত করা এবং আমেরিকান কোম্পানিগুলিকে দেশে ফিরিয়ে আনা। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ সতর্ক করে বলেছেন, এই শুল্ক নীতি মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে পারে এবং আমজনতার ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
চিনের পক্ষ থেকেও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বেজিং মার্কিন পণ্যের উপর একই হারে ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এরই প্রেক্ষিতে ট্রাম্প দ্বিগুণ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন এবং অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চিন ও ভারতের একসাথে কাজ করার প্রস্তাব কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে একাধিক সীমান্ত ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও, বাণিজ্য ক্ষেত্রে একযোগে পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নীতির বিরুদ্ধে একটি বড় বার্তা হতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications