CAA: ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে অযৌক্তিক বক্তব্য’, সিএএ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনকে কড়া জবাব বিদেশ মন্ত্রকের
সিএএ লাগু হওয়ার পর থেকেই ভারতের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিতর্ক চরমে উঠেছে। লোকসভা ভোটের আগে সিএএ চালু করার বিজেপিকে আক্রমণ করতে ছাড়ছে না কংগ্রেস, তৃণমূল সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। এবার সিএএ নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক লড়াই শুরু হল ভারতের। সিএএ নিয়ে শুক্রবার সকালে প্রতিক্রিয়া দিয়েছিল জো বাইডেনের সরকার। বেলাশেষে পাল্টা দিল ভারতও।
শুক্রবারই ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমেরিকা। ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদান নিয়ে ভারতে এই আইন প্রয়োগের উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে আমেরিকা সরকারের মন্তব্য যে একেবারেই ভালোভাবে নেয়নি নয়া দিল্লি, তা বিকেলই বুঝিয়ে দিল বিদেশ মন্ত্রক।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র শুক্রবার জানিয়েছেন, 'এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। দেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি এবং মানবাধিকারের প্রতি দীর্ঘস্থায়ী দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে তৈরি। আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান থেকে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন এবং পারসিক শরনার্থীরা যারা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাঁদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার জন্য সিএএ লাগু হয়েছে।'
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র আরও বলেন, সিএএ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রশাসন যা বলেছে, তা 'অযৌক্তিক, ভুল তথ্য দ্বারা পরিচালিত এবং ভুল জায়গায় প্রযুক্ত, সিএএ মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন। তা কেড়ে নেওয়ার আইন নয়। এই আইনে মানুষের রাষ্ট্রহীনতা, অধিকার এবং মর্যাদা রক্ষার কথা বলে।''
মার্কিন বিদেশ দফতরের একজন মুখপাত্র মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার জানিয়েছিলেন, "গত ১১ মার্চ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ভারত সরকার যে ঘোষণা করেছে সেটা নিয়ে আমরা গভীরভাবে চিন্তিত। ভারতে কীভাবে এই আইন কার্যকর হবে, সেদিকে কড়া নজর রাখছি। গণতন্ত্রের মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে অন্যতম ধর্মীয় স্বাধীনতা আর সকল সম্প্রদায়ের সমানাধিকার।"
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও মুসলিমকেই তাড়ানো হবে না। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি অহেতুক ভীতির পরিবেশ তৈরি করছে। মানুষকে ভুল বুঝিয়ে বিভ্রান্ত করছে।
Lok Sabha Election:লোকসভার লড়াইয়ের আগেই এক দেশ এক ভোট নীতি লাগু? রাষ্ট্রপতির কাছে রিপোর্ট পেশ কমিটির
গত ১১ মার্চ সিএএ লাগুর বিজ্ঞপ্তি জারি করে মোদী সরকার। এই আইন কীভাবে কার্যকর হবে তার উপর গভীর নজর রাখা হবে বলে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। ফলে সিএএ নিয়ে শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির আক্রমণকেই নয় একইসঙ্গে মোদী সরকারকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে কূটনীতিকেও। ফলে আগামী দিনে সিএএ নিয়ে চ্যালেঞ্জ শক্ত হবে মোদী সরকারের।












Click it and Unblock the Notifications