কৃষক আন্দোলন নিয়ে 'ডিবেট'-এর জেরে চাপে মোদী সরকার, ব্রিটেনকে পাল্টা তোপ ভারতের
তিনদি আগেই কৃষক আন্দোলনের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। দিল্লি সীামন্তে এখনও চলছে কৃষকদের অবস্থান বিক্ষোভ। এই আবহে মোদী সরকারের চাপ বাড়িয়ে কৃষি আইন নিয়ে আলোচনা হয় ব্রিটিশ সংসদে। 'কৃষকদের সুরক্ষা' এবং ভারতে 'সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা' নিয়ে আলোচনা হয়। যা নিয়ে এবার পাল্টা তোপ দেগেছে ভারত। প্রসঙ্গত, সোমবার কৃষক অধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টার একটি আলোচনা চলে ব্রিটিশ সংসদে৷ যেখানে লেবার পার্টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাট এবং স্কটিশ ন্যাশনাল দলের একাধিক সদস্য বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন৷ যেখানে কৃষকদের আন্দোলন নিয়ে ভারত সরকারের মন্তব্যের সমালোচনা করা হয়েছে৷

'ভারসাম্যহীন আলোচনা'
লন্ডনে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের তরফে এই আলোচনা প্রসঙ্গে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, 'আমরা খুবই দুঃখিত। যেভাবে ভারসাম্যহীন ভাবে এই বিতর্ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতে তথ্যের অভাব রয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং তার সংস্থাগুলিকে নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে। ভারতে থাকা ব্রিটিশ এবং বিশঅবের অন্যান্য মিডিয়াও সবটা দেখেছে। এখানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্বের প্রশ্নই ওঠে না।'

কৃষি আইন নিয়ে বিতর্কের পক্ষে পিটিশন
সূত্রের খবর, ভারতে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ও কৃষক আন্দোলন নিয়ে সংসদ হলে বিতর্কের দাবি উঠছিল দীর্ঘদিন থেকে। অবশেষে দেশের রীতি মেনে এই বিষয়ে জনমত গ্রহণও শুরু হয়। আর সেই পিটিশনেই ব্রিটেনের সংসদে কৃষি আইন নিয়ে বিতর্কের পক্ষে সই কই করেছেন ১ লক্ষ ৬ হাজারের বেশি মানুষ। এরপরই এই ইস্যুতে আলোচনা হয় ব্রিটিশ সংসদে। যা নিয়ে অবশ্য অসন্তুষ্ট দিল্লি।

২৬ নভেম্বর থেকে দিল্লির সীমানায় অবস্থানরত কৃষকরা
গত বছর ২৬ নভেম্বর থেকে দিল্লির সীমানায় নয়া কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেছিল আন্দোলনকারী কৃষকরা৷ যে আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ব্যাপক আকার নিয়েছে৷ আন্দোলনকারী কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন পাঞ্জাব, হরিয়ানার বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত মুখ৷ আন্দোলন প্রত্যাহার করাতে এবং সমাধান বের করতে সরকারের সঙ্গে ১০ দফা বৈঠকে বসেছেন কৃষকরা৷ কিন্তু, সবই ব্যর্থ হয়েছিল৷

উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানী দিল্লি
সবশেষে সুপ্রিম কোর্টের তৈরি কমিটি নয়া তিন কৃষি আইন নিয়ে আন্দোলনকারী কৃষক সংগঠন এবং সরকারের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট তৈরির দায়িত্ব নিয়েছে৷ এত সবের মাঝে গত ২৬ জানুয়ারি কৃষকদের ট্রাক্টর ব়্যালিকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানী দিল্লি৷ লালকেল্লার দখল নেন বিদ্রোহী কৃষকরা৷ যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে শতাধিক কৃষকের উপর মামলা দায়ের করে দিল্লি পুলিশ৷ সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে টুলকিটকাণ্ডে গ্রেফতার হন দেশের ৩ সমাজ কর্মী৷

কিছুটা হলেও প্রচারের বাইরে চলে গিয়েছিল কৃষকদের আন্দোলন
এত সব ঘটনার পর আন্দোলন প্রত্যাহার না করলেও, কিছুটা হলেও প্রচারের বাইরে চলে গিয়েছিল কৃষকদের আন্দোলন৷ ২৬ জানুয়ারির পর থেকে দিল্লির সীমানায় কৃষকদের আন্দোলন কিছুটা হলেও স্তিমিত হয়ে পড়েছে৷ ট্রাক্টর ব়্যালিকে কেন্দ্র করে হওয়া অশান্তি এবং তার জেরে দিল্লি পুলিশের কৃষকদের উপর করা মামলা আন্দোলনের নেতৃত্বে অনেকটা হলেও প্রভাব ফেলেছে৷












Click it and Unblock the Notifications