Bangladesh: বাংলাদেশ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বললেন নরেন্দ্র মোদী?
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে সাম্প্রতিক বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে যে তিক্ত সম্পর্কের বাতাবরণ তৈরি হয়ে রয়েছে এই মুহুর্তে, সেই নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। আর এই আবহে এই আলোচনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত অগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতাচ্যুতি এবং অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ঢাকার রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পিছনে মার্কিন প্রশাসনের "ডিপ স্টেট" কোনো ভূমিকা পালন করেছে কিনা।

বৈঠকের আগে এক সাংবাদিক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। ট্রাম্প বলেন, "বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনের সাথে আমাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। এটি এমন একটি বিষয় যা প্রধানমন্ত্রী মোদী দীর্ঘদিন ধরে দেখছেন"। তবে ভারত কোন প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সেই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
বৈঠকের পর ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি জানান, "প্রধানমন্ত্রী মোদী বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে তার মতামত ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন"।
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এছাড়াও, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও গোয়েন্দা সম্পর্ক ভারতকে সতর্ক করেছে।
নয়াদিল্লি বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন যে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সীমান্তে ফেন্সিং দিতে আপত্তি জানাচ্ছে এবং ভারত-বিরোধী মনোভাব পোষণকারী ছাত্র নেতাদের সরকারে অন্তর্ভুক্ত করছে। সাম্প্রতিক সময়ে, বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরের কূটনীতিকদের তলব পর্যন্ত করেছে।
বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক ভারতে স্ব-নির্বাসিত অবস্থায় শেখ হাসিনার দেওয়া কিছু বক্তব্যকে "মিথ্যা ও বানানো" বলে নিন্দা জানিয়েছে। ভারত বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ধ্বংসের ঘটনাকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছে। বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি আশা প্রকাশ করেছেন যে, "বাংলাদেশের পরিস্থিতি এমনভাবে এগোবে যাতে ভারত গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে"। আর তেমনটাই বৈঠকে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
স্বাভাবিক ভাবেই, বর্তমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে দু'দেশের সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, এবার তা সময়ই বলবে।












Click it and Unblock the Notifications