রুশ অভিযানে বিধ্বস্ত ইউক্রেনকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, রাষ্ট্রসংঘে আনা প্রস্তাবে ভোট দিল না ভারত
রুশ অভিযানে বিধ্বস্ত ইউক্রেনকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, রাষ্ট্রসংঘে আনা প্রস্তাবে ভোট দিল না ভারত
ইউক্রেনে সামরিক অভিযানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করার জন্য রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাবে রাশিয়াকে দায়ী করা হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের এই প্রস্তাবে রাশিয়াকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আবেদন করা হয়। ভারত রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে এই প্রস্তাবে ভোট দানে বিরত ছিল। ইউক্রনের তরফে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে এই প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়।

১৯৩ সদস্যের রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে ভারত ছাড়াও বাংলাদেশ, ভূটান, ব্রাজিল, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইজরায়েল, নেপাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা সহ ৭৩টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। রাষ্ট্রসংঘে ইউক্রেনের আনা প্রস্তাবের পক্ষে ৯৪টি দেশ ভোট দিয়েছিল। প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে ১৪টি দেশ। ইউক্রেনের আনা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন ১৪টি দেশ। তারমধ্যে রয়েছে চিন, রাশিয়া, বেলরুশ, সিরিয়া, কিউবা, উত্তর কোরিয়া, ইরান, রাশিয়া সহ একাধিক দেশ।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রসংঘে আনা প্রস্তাবে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলে ভারত। ইউক্রেনের আনা প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করা হয়। পাশাপাশি প্রস্তাবে রাশিয়াকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়। ভারতের তরফে এই ক্ষতিপূরণের দাবি আদৌ ইউক্রেন ও রাশিয়ার তরফে কোনও ভূমিকা নেবে কি না সেই বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সাধারণ পরিষদে এই ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়া সংঘর্ষ সমাধানে কোনও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে ইউক্রেনের আনা প্রস্তাবে ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়ায় আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গিয়ছে।
রাষ্ট্রসংঘে ভারতের তরফে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক আইন যাচাই না করে এই প্রস্তাবে পক্ষে ভোট দেওয়া ভারতের পক্ষে সম্ভব নয়। এই ধরনের পদক্ষেপ এড়িয়ে চলাই ভালো, যা ভবিষ্যতে নতুন করে সমস্যার সৃষ্টি করে। বৈঠকে প্রতিকূলতা সৃষ্টি করে, এমন পদক্ষেপ এড়িয়া চলাই শ্রেয় হবে বলে ভারতের প্রতিনিধি রুচিরা কম্বোজ জানান। ভারতীয় প্রতিনিধি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমিকে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যকে তুলে ধরে বলেন, এখন যুদ্ধের সময় সময়। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সংঘর্ষ সমাধানের উপায় বের করতে হবে। কিন্তু ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে বৈঠকের পথে অথবা সমাধানের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেই কারণে ভারত এই প্রস্তাবে ভোটদানের থেকে নিজেকে বিরত রাখছে।
রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রুচিরা কম্বোজ বলেন, বিশ্বে ক্রমশ আর্থিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার অভিযানের জেরে সার, খাদ্যদ্রব্য ও জ্বালানির দাম বেড়ে। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে মুদ্রাস্ফীতি দেখা গিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ও স্থায়ী সমাধান বের করতে শান্তিপূর্ণ বৈঠকের প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।












Click it and Unblock the Notifications