১৫ দিনের দোলাচল কাটিয়ে প্রথম বৈঠকে ভারত-তালিবান, উঠল কোন কোন প্রসঙ্গ
১৫ দিনের দোলাচল কাটিয়ে প্রথম বৈঠকে ভারত-তালিবান, উঠল কোন কোন প্রসঙ্গ
আফগানিস্তান দখলের পর থেকেই ভারতের প্রতি তালিবানদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে উঠতে থাকে একগুচ্ছ প্রশ্ন। এমনকী আশঙ্কার মেঘ তৈরি হয় পাক-আফ সম্পর্ক নিয়েও। যদিও গতকালই ভারত-আফগানিস্তান সম্পর্ক নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে দেখা যায় শীর্ষ তালিব নেতা শের মহম্মদ আব্বাস স্তানেকজাকে। এবার কাতারে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তলের সঙ্গে মঙ্গলবার দোহাতে বৈঠক করতে দেখা গেল তালিবানের আরও বেশ কিছু শীর্ষ নেতাকে।

তীব্র আলোড়ন আন্তর্জাতি আঙিনায়
এই বৈঠকের পরেই নতুন করে আলোড়ন দেখা গিয়েছে আন্তর্জাতিক আঙিনায়। এদিকে প্রায় সপ্তাহ দুয়েকের চিন্তা-ভাবনার পর অবশেষে তালিবানের সঙ্গে এক টেবিলে বৈঠকে বসল ভারত। তাই এই বৈঠকের উপর যে সকলের চোখ থাকবে তা বলাই বাহুল্য। এদিকে একাধিক নেতা ছাড়াও তালিবানের পক্ষ থেকে প্রধান নেতা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আব্বাস স্তানেকজা। সূত্রের খবর, এই বৈঠকেই ভারতের পক্ষ থেকে তালিবানকে বেশ কয়েকটি কড়া বার্তাও দেওয়া হয়েছে।

আফগানিস্তানে আটকে পড়া ভারতীয়দের সুরক্ষায় জোর
এদিকে তালিব বৈঠক নিয়ে ইতিমধ্যেই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'আফগানিস্তানে আটকে পড়া ভারতীয়দের সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং শীঘ্রই দেশে ফিরে আসা নিয়েই মূলত এদিনের বৈঠকে আলোচনা হয়।' সেখানে আটকে পড়া ভারতীয়দের যাতে সবরকম সুরক্ষা দেওয়া হয় সেই বিষয়েও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে তালিব নেতাদের। অন্যদিকে গোটা আফগানিস্তান তালিবানেরা দখল নেওয়ার পর থেকেই তারা যেভাবে নিজেদের পছন্দের জায়গা হিসেবে একাধিক প্রাদেশিক রাজধানীর দখল নিয়েছে তা নিয়ে নিজেদের আপত্তির কথা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে ভারত।

সন্ত্রাসবাদ নিয়েও কড়া বার্তা ভারতের
এমনকী ভারতে সন্ত্রাসবাদী হামলা চালানোর জন্য যাতে কোনওভাবেই আফগানিস্তানের মাটিকে ব্যবহার করা না হয় সেকথাও স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তল। একথাও বলা হয়েছে বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে। এমনকী কাশ্মীর নিয়ে তালিবানি হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তাও সাফ জানানো হয়েছে। এদিকে কাশ্মীর নিয়ে কোনও হস্তক্ষেপ করবে না আফগানিস্তান, এমনটা এর আগেই স্পষ্ট জানানো হয়েছে তালিবানের তরফে।

মাসুদ আজহার নিয়েও কড়া বার্তা
যদিও কিছুদিন আগেই তালিবানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন জইশ-ই- মহম্মদের শীর্ষ নেতা মাসুদ আজহার। এমনতী জইশ ও লস্কর জঙ্গিরা কাশ্মীরে বড় হামলার ছক কষছে বলেও অনুমান ভারতীয় গোয়েন্দাদের। আর তাদের প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে আফগানিস্তানের মাটি। এই অভিযোগ যাতে আর শুনতে পাওয়া না যায় সেই বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে তালিবানদের।












Click it and Unblock the Notifications