দলের সাংসদরাও বিরোধীদের পাশে! যে কোনও মুহূর্তে গদি হারাচ্ছেন ইমরান?
চাপ বাড়ছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের। ক্রমশ তাঁর পাশ থেকে সরে যাচ্ছেন পাক সাংসদেরা। বৃহস্পতিবারই বেশ কয়েকজন সাংসদ ইমরানের থেকে তাঁদের সমর্থন তুলে নিয়েছেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, আর ক্ষমতায় টিকে থাকতে
চাপ বাড়ছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের। ক্রমশ তাঁর পাশ থেকে সরে যাচ্ছেন পাক সাংসদেরা। বৃহস্পতিবারই বেশ কয়েকজন সাংসদ ইমরানের থেকে তাঁদের সমর্থন তুলে নিয়েছেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, আর ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন কি না ইমরান খান।

সম্প্রতি ইমরানের সঙ্গী দলগুলিই দাবি করেছেন, জোটসঙ্গী হারানোর সম্ভাবনাও রয়েছে ইমরানের। খানের বিরুদ্ধে উঠছে একের পর এক অভিযোগ। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, অর্থনীতি, বিদেশ নীতি, সব ক্ষেত্রেই ইমরান খানের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠেছে। এমনিতেই পাকিস্তানে কোনও প্রধানমন্ত্রীর পুরো মেয়াদ সম্পূর্ণ করার রেকর্ড নেই।
ইমরানের ক্ষেত্রেও তেমনটা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি মাসেই ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারে বিরোধী শিবির। রাজা রিয়াজ নামে এক সাংসদ সম্প্রতি মুখ খুলেছেন সংবাদমাধ্যমে। তিনি দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের মত মিলছে না, তাই তাঁরা তাঁদের মত অনুযায়ী ভোট দেবেন। অন্তত ২০ জন ইমরানের বিপক্ষে ভোট দিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। শুধু রিয়াজ নয়, শাসক দলের অনেক সাংসদই ইমরানকে সমর্থনের প্রশ্নে বেসুরো হয়ে উঠেছেন।
কিছুদিন আগে বিরোধী দলের দফতরে আনাগোনা করতে দেখা গিয়েছে পাকিস্তান পিপলস পার্টির সাংসদদের।
জোটসঙ্গী বা দলীয় সাংসদদের পাশে না পেলে ইমরানের ক্ষমতা কতটা টিকে থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে। ইমরানের প্রতিপক্ষরা যথেষ্ট শক্তিশালী। বিপক্ষে একদিকে রয়েছে নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ, অন্যদিকে রয়েছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তান সেনার সঙ্গে পেরে উঠছেন না ইমরান খান। পাকিস্তানের ইতিহাস বলছে, পাকিস্তানের মসনদে টিকে থাকতে গেলে পাক সেনার সঙ্গে সমঝোতা থাকা জরুরি। সেই সমঝোতার মধ্যে দিয়েই চার বছর আগে ক্ষমতায় এসেছিসেন ইমরান খানও।
অনাস্থা প্রস্তাবের পর টিকে থাকতে গেলে সংসদের নিম্নকক্ষে মোট ৩৪২ সদস্যের মধ্যে ১৭২ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বিরোধীদের আশা, ক্ষমতায় থাকা দলের জোটসঙ্গী ও অসন্তুষ্ট সাংসদ ইমরান খানের সরকারকে অপসারণে তাদের পাশে থাকবে। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে বসেন ইমরান। ২০২৩ সালে ফের পাকিস্তানে নির্বাচন রয়েছে। আর তার আগেই নড়বড়ে ইমরানের সরকার।
বলে রাখা প্রয়োজন, গত কয়েকমাস ধরেই ইমরান খান-পাকিস্তান সেনার মধ্যে একটা সংঘাত চলছে! মূলত ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির পরবর্তী প্রধানের নিয়োগ নিয়েই মূলত সংঘাতের সূত্রপাত। বিশেষ করে একাধিক ইস্যুতে এরপর সংঘাতের সূত্রপাত। আর তা থেকেই ইমরান-পাকিস্তান সেনার মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে।
বলে রাখা প্রয়োজন গত ৬ অক্টোবর লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাদিম অঞ্জুমকে পরবর্তী আইএসআই প্রধান হিসাবে ঘোষণা করে পাক সেনা। তবে আইএসআই-এর বর্তমান প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়েজ হামিদের উত্তরসূরির নাম আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করার কথা ছিল ইমরান খানের। সেই নাম ঘোষণা নিয়েই মত বিরোধ তৈরি হয় বলে খবর।












Click it and Unblock the Notifications