ভারতকে ভয়, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সাংবিধানিক রদবদল আনতে চলেছে ইমরান প্রশাসন!
পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ইমরান খান প্রশাসনের অধিকার আরও দৃঢ় করতে সাংবিধানিক বদল আনতে চলেছে ইসলামাবাদ। জানা গিয়েছে দুই বছর আগে নওয়াজ শরিফের দল যে কাউন্সিল অবুলুপ্ত করে দিয়েছিল সেই কাউন্সিল ফের ফিরিয়ে আনতে চলেছে ইমরান খান প্রশাসন।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের কাউন্সিল গঠন
উল্লেখিত কাউন্সিলটি ১৯৭৪ সালে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অন্তরবর্তিকালীন সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রাদেশিক সরকার ও ইসলামাবাদের পারিস্তানের মূল সরকাররে মধ্যে যোগ স্থাপন ছিল সেই কাউন্সিলের মূল লক্ষ্য। তবে আদতে এটা ছিল কাশ্মীরের উপর ইসলামাবাদের নজরদারি চালানোর কাউন্সিল। এই কাউন্সিল স্বভাবত পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন থাকে।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রশাসন
পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নিজস্ব প্রেসিডেন্ট রয়েছে। মন্ত্রিগোষ্ঠীর সমর্থিত চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার প্রদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে থাকেন। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বর্তমান প্রেসিডেন্টের নাম মাসুদ খান। সিইও তথা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন পিএমএলএন দলের রাজা ফারুখ হায়দার।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নিজস্ব বিধানসভা
পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নিজস্ব বিধানসভা রয়েছে। স্বশাসিত বিধানসভা থাকলেও পাকিস্তান সরকারই তা নিয়ন্ত্রণ করে। পাকিস্তানের সেন্ট্রাল বোর্ড নয়, বরং আজাদ জম্মু-কাশ্মীর কাউন্সিলই প্রদেশের বাজেট ও রাজস্ব সম্পর্কিত বিষয় দেখভাল করে।

পিওকে-র সায়ত্বশাসন
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে ফারুখ হায়দারের নেতৃত্বাধীন পিওকে সরকার ১৩তম সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে আজাদ জম্মু-কাশ্মীর কাউন্সিলকে অবুলুপ্ত করে আরও বেশি স্বায়ত্বশাসন লাভ করে। তবে সেই ক্ষমতায় ফের হস্তক্ষেপ করে ইমরান খান প্রশাসন এই কাউন্সিলকে ফিরিয়ে আনছে। অবশ্য মাঝের এই দুই বছরের সময়তে কাউন্সিল ছাড়াই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সরকার বেশি রাজস্ব আয় করেছিল।

পিওকে নিয়ে ভারতের হুমকি
এদিকে পাকিস্তানকে পাক-অধিকৃত কাশ্মীর অবিলম্বে খালি করে দেওয়ার জন্যও জানানো হল। জম্মু ও কাশ্মীরের পাক-অধিকৃত অঞ্চলগুলিতে ‘ব্যাপক পরিবর্তন' আনার পাকিস্তানের প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করেছে ভারত। গিলগিট-বালটিস্তান নিয়ে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের বিরোধিতা করে পাকিস্তানকে ওই অঞ্চলকে বলপূর্বক দখল করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

কাশ্মীর নিয়ে পাক-চিন লেনদেন
পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বাল্টিস্তান অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা একটু একটু করে পাকিস্তান চিনকে 'দান' করেছে। এই অঞ্চলের এই এলাকাগুলি চিনের হাতে তুলে দেওয়ার মূল লক্ষ্য ছিল চিন-পাকিস্তান ইকনমিক করিডোরের রাস্তা আরও মসৃণ করা। ৩২১৮ কিলোমিটার লম্বা এই করিডোর আদতে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের 'ড্রিম প্রোজেক্ট।'

পিওকে বাসিন্দাদের চিন বিরোধী বিক্ষোভ
সেই ড্রিম প্রজেক্টের অন্তর্গত আরও একটি প্রোজেক্ট হল পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঝিলাম নদীর উপর নির্মীয়মাণ একটি বাঁধ। আর এতেই খেপেছেন সেখানকার বাসিন্দারা। করোনা উপেক্ষা করে চিনের বিরোধিতায় রাস্তায় নেমেছেন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা। সোমবার এরমই এক মিছিল দেখা যায় মুজাফফারাবাদে।

পিওকের বাসিন্দাদের ইসলামাবাদকে কড়া বার্তা
এছাড়া সম্প্রতি হ্যাক করা হয় পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের গণসংযোগ আধিকারিকের সরকারি ওয়েবসাইট। আর সেখানে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি গতবছরের বালাকোট অভিযান পরবর্তীতে দুই দেশের যুদ্ধবিমানের ডগফাইট নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয় সেই বার্তায়। এছাড়া কাশ্মীরে পাক সেনা ও পুলিশের মানবাধিকা লঙ্ঘনের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয় ওই বার্তায়।












Click it and Unblock the Notifications