ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনলে তা মস্কোর উপরে চাপানো আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন হবে না
ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনলে তা মস্কোর উপরে চাপানো আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন হবে না
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার থেকেই মস্কোর উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে রাশিয়া৷ অন্যদিকে দামে বেশি ছাড় দেওয়া অপরিশোধিত তেলের ভারতকে বিক্রির করার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া৷ ভারত চাইলেই বাজারের থেকে কিছুটা কম দামে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কিনতে পারে৷ ভারত রাশিয়ার দেওয়া এই প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারে সম্প্রতি এরকম খবর একাধিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়। অনেকেই মনে করেছিল ভারত যদি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনে তাহলে তা রাশিয়ার উপর চাপানো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভাঙারই সামিল হবে৷ সম্প্রতি এই বিষয়টি খোলসা করে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি।

মঙ্গলবার প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি বলেছেন যে এটি(ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনা) ইউক্রেন আক্রমণের কারণে রাশিয়ার উপর চাপানো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন হবে না। একটি সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে স্পষ্টভাবে জিজ্ঞাসা করা হলে, জেন সাকি বলেন, 'আমি বিশ্বাস করি না যে এটি ( ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনা?
নিষেধাজ্ঞাগুলি লঙ্ঘন করবে।' তবে, তিনি যোগ করেছেন যে এই ধরনের সিদ্ধান্ত ভারতকে ইতিহাসের ভুল অধ্যায়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে।সাকি বলেন, 'তবে এই মুহূর্তে ইতিহাসের বই লেখা হলে আপনি কোথায় দাঁড়াতে চান তাও ভেবে দেখুন। রাশিয়ান নেতৃত্বের জন্য যে কোনও সমর্থন একটি আগ্রাসী আক্রমণের সমর্থন যা স্পষ্টতই একটি ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলবে৷
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে সাকি আরও বলেন, 'যেকোনো দেশের প্রতি আমাদের বার্তা স্পষ্ট, রাশিয়ার প্রতি আমরা যে নিষেধাজ্ঞাগুলি স্থাপন করেছি এবং সুপারিশ করেছি তা মেনে চলুন।' এর আগে এই বিষয়ে একটি বিবৃতিতে, ভারতীয় বংশদ্ভুোত আমেরিকান কংগ্রেসম্যান অমি বেরা বলেছিলেন যে, এটি নিশ্চিত করা ভারতের দায়িত্ব যে তার পদক্ষেপগুলি রাশিয়া এবং তার আক্রমণকে সমর্থন করে না।
যদি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলি সঠিক হয় এবং ভারত ছাড়ের মূল্যে রাশিয়া থেকে তেল কেনার এই সিদ্ধান্ত নেয়, তবে নয়াদিল্লি ইতিহাসের সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্ত হবে৷ এটি করে ভারত ভ্লাদিমির পুতিনের পাশে থাকাই বেছে নেবে যখন সারা বিশ্বের দেশগুলি ইউক্রেনের জনগণের সমর্থনে এবং মস্কোর বিরুদ্ধে একত্রিত হয়েছে।
অমি আরও বলেছেন, 'বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং কোয়াডের নেতা হিসাবে, ভারতের দায়িত্ব রয়েছে যে তার কর্মগুলি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পুতিন এবং তার আক্রমণকে যেন সমর্থন করে না।' রাশিয়া ২৪ফেব্রুয়ারী ইউক্রেন আক্রমণ করে, একটি বিশাল শরণার্থী সংকট এবং কয়েকশ অসামরিক লোকের মৃত্যু ঘটিয়েছে।
যেখানে ভারত ধারাবাহিকভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে। যদিও রাশিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সমস্ত প্রস্তাবে ভারত বিরত ছিল। পশ্চিমের দেশগুলো ইউক্রেনে মস্কোর আক্রমণ বন্ধ করার জন্য রাশিয়াকে চাপ দেওয়ার নীতি নিয়েছে যার অংশ হিষেবে রাশিয়ার উপর বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক জরিমানা আরোপ করেছে।












Click it and Unblock the Notifications