মার্কিন ট্রায়ালে ভারতীয় গবেষকদের নিয়োগের ভাবনা, নেপথ্যে কোন আন্তর্জাতিক রসায়ন?
মার্কিন ট্রায়ালে ভারতীয় গবেষকদের নিয়োগের ভাবনা, নেপথ্যে কোন আন্তর্জাতিক রসায়ন ?
তরতরিয়ে এগিয়ে চলেছে ভারতের টিকাসাধনা! নানাবিধ করোনা টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পাশাপাশি বিপুল উৎপাদন-যজ্ঞ চলছে বিশ্বের বৃহত্তম টিকা উৎপাদক দেশে। শুক্রবার ভিডিও কনফারেন্সে আয়োজিত কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ-র (সিএসআইআর) বৈঠকে ভারতীয় গবেষকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন মোদী। দেশের পাশাপাশি বিদেশের সরকারও যে ভারতীয় বিজ্ঞানীদের ভরসা করছেন, তা স্পষ্ট মার্কিন রোগ সংক্রামক বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফৌসির সাম্প্রতিক বক্তব্যেই।

টিকার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ভরসা
সম্প্রতি ভারত-আমেরিকা স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পার্টনারশিপ ফোরাম আয়োজিত বৈঠকসভায় এ বিষয়ে আলোকপাত করেন ডঃ ফৌসি। তাঁর মতে, "দীর্ঘদিনের ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে আরও স্বাস্থ্যকর করতে উদ্যোগী আমরা। করোনা টিকার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করতে আন্তর্জাতিক ট্রায়ালে ভারতীয় গবেষকদের আমরা পাশে চাইছি।" ইতিপূর্বে মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রক এবং আইসিএমআর ও কেন্দ্রীয় জৈবপ্ৰযুক্তি বিভাগের যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে এ জাতীয় বহু অজানা তথ্য।

টিকা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারতের পাশে আমেরিকা
"করোনা মোকাবিলায় ভারতের অগ্রণী ভূমিকা সম্পর্কে অবহিত বিশ্ববাসী। আমি আশাবাদী যে ভারত ও আমেরিকা একত্রে কোভিডকে রুখতে সফল হবে", এমনই মত ডঃ অ্যান্টনির। অন্যদিকে দেশীয় নাগরিক সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহের ক্ষেত্রে উপাদান ও যন্ত্রপাতির জন্য যে মার্কিন মুলুকের উপর নির্ভরশীল ভারত, তা স্পষ্ট করেছেন আমেরিকার ভারতীয় দূত তরনজিত সিং সান্ধু। "টিকাকরণ বৃদ্ধি বা অর্থনৈতিক মেরামতির জন্য আমেরিকাকে পাশে দরকার ভারতের", মত তরনজিতের।

মার্কিন সংস্থা ও বেসরকারি ক্ষেত্রের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা ভারতের
মার্কিন-ভারত যোগসাজশ খুব নতুন নয়, ইতিপূর্বে রোটাভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার করেছে এই দ্বৈরথ, মত তরনজিতের। পাশাপাশি ভারতীয় সংস্থাগুলির তৈরি স্বল্প মূল্যের এইচআইভি টিকা আফ্রিকার দেশগুলিতে পাঠানো হয়। এর ফলে মার্কিন সংস্থা ও বেসরকারি ওষুধ ক্ষেত্রের মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়ন্ত্রণ করে ভারত, মত বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের। এদিকে মহামারীবিজ্ঞান, ডিজিটাল স্বাস্থ্য, সংক্রামক-অসংক্রামক রোগ, রোগ মডেল এবং মহামারী পূর্বাভাসের উন্নতিকল্পের জন্য দরকার ভারত-আমেরিকার প্রভূত বিনিয়োগ এমনটাই মত তরণজিতেরও।

এক বছরের ব্যবধানে একে-অপরের পাশে দুই দেশ
ভারত ও আমেরিকার মত শক্তিধর দেশে স্বাস্থ্যকাঠামোর সার্বিক উন্নয়নের জন্য স্বাস্থ্য অভিজ্ঞতা ও তথ্যের বহুল আদানপ্রদান দরকার, মত বিশেষজ্ঞদের। ইউএসআইএসপিএফ প্রধান মুকেশ আঘির মতে, "গত বছর আমেরিকার খারাপ সময়ে যেভাবে পাশে ছিল ভারত, একইভাবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে মার্কিন মুলুকও।" ভারতের সাহায্যকে মনে রেখে গিলিয়াড ও মার্কের মত সংস্থাকে ভারতের পাশে দাঁড়াতে সাহায্য করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন, সাফ জানান সান্ধু।












Click it and Unblock the Notifications