দেবযানী মামলায় সমালোচিত হওয়ায় 'ব্যথা' পেয়েছিলেন প্রীত ভরারা!

নিউ ইয়র্কে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি কনসাল জেনারেল দেবযানী খোবরাগাডেকে ভিসা জালিয়াতি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে। এক্ষেত্রে ন্যূনতম কূটনীতিক সৌজন্যটুকুও মানা হয়নি বলে অভিযোগ। যেমন, দেবযানী খোবরাগাডে সন্তানের দেখভালের ব্যাপারে ব্যবস্থা করার আর্জি জানালেও তাতে কর্ণপাত করেনি পুলিশ। দাগি অপরাধীদের মতো তাঁকে অর্ধনগ্ন করে 'ক্যাভিটি সার্চ' করা হয়। প্রীত ভরারা মামলা রুজু করার ব্যাপারে এবং দেবযানী খোবরাগাডেকে হেনস্থা করার ক্ষেত্রে পুলিশকে মদত দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুরোদস্তুর কূটনীতিক যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। ভারতও মার্কিন কূটনীতিকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেয়। ভারতের সরকার ও গণমাধ্যম অভিযোগ তোলে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবী প্রীত ভরারার লক্ষ্য হল আমেরিকার অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়া। তাই শ্বেতাঙ্গ প্রভুদের খুশি করতেই তিনি 'অতি সক্রিয়তা' দেখাচ্ছেন।
এই অভিযোগে তিনি যে 'ব্যথা' পেয়েছিলেন, তা এবার জানালেন প্রীত ভরারা। তিনি বলেছেন, "দেবযানী খোবরাগাডে ভারত থেকে একজন পরিচারিকা নিয়ে এসেছিলেন। ভিসার ক্ষেত্রে তিনি ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। মিথ্যে কথা বলেছিলেন। এটা অবশ্যই অপরাধ। বিদেশ দফতর মামলা শুরু করে। ওরাই তদন্ত করেছিল। অথচ ভারত সরকার, ভারতের মিডিয়া বলল, আমি নাকি সাদা চামড়ার মনিবদের খুশি করতে এ সব করছি। এটা নির্বোধ সমালোচনা। আমি স্বীকার করছি, আমি ব্যথা পেয়েছিলাম। আমিও তো মানুষ। কিন্তু ওদের অভিযোগ আরও আরও নির্বোধ হচ্ছিল, একটা সময় ব্যাপারটা হাস্যকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অথচ সবাই তো সেটা বুঝতে পারেনি। আমাকে খারাপ ভেবেছিল। আমার মেয়েও আমাকে প্রশ্ন করতে শুরু করেছিল। আমি মানসিকভাবে চাপে পড়ে গিয়েছিলাম।"
আশ্চর্যের ব্যাপার হল, দেবযানী খোবরাগাডেকে যখন হেনস্থা করা হচ্ছে, সেই সময় মার্কিন বিদেশ দফতর বারবার বলেছিল, এটা বিচার দফতর দেখছে। মামলায় তাদের কোনও ভূমিকা নেই। বিদেশ দফতরের মুখপাত্র মেরি হার্ফ বিবৃতি দিয়ে সে কথা জানিয়েছিলেন। অথচ এখন প্রীত ভরারা বলছেন, মামলা করেছিল বিদেশ দফতর। তদন্তও করছিল বিদেশ দফতর। ফলে পরস্পর-বিরোধিতা প্রকট হয়ে পড়েছে।












Click it and Unblock the Notifications