হায়দরাবাদের স্কুলে হঠাতই সৌদি-ফেরত এনআরআইদের ভিড়! কিন্তু কেন
কর বৃদ্ধির কারণে সৌদি আরবে থেকে বিপুল সংখ্যক এনআরআই পরিবার দেশে ফিরে আসছেন।
সৌদি আরব থেকে দলে দলে ভারতীয় শ্রমিকদের পরিবার দেশে ফিরে আসছেন। সংখ্যাটা কত তার কোনও হিসেব নেই ভারত বা সৌদি কোনও দেশের কাছেই। অনাবাসী ভারতীয়রা বলছেন খরচ এত বেড়েছে, পরিবার নিয়ে আর থাকা যাচ্ছে না। হঠাত করেই কেরল বা তেলেঙ্গানা মতো রাজ্যে অনাবাসী ভারতীয়দের সংখ্যার চাপ পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হায়দরাবাদের বেশ কয়েকটি স্কুলের দাবি গত কয়েক সপ্তাহে হঠাত করেই আরব উপসাগরীয় এনআরআইদের ভর্তির সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। এদের বেশিরভাগই সৌদি আরবে থাকতেন। এমএস গ্রুপ অব স্কুলস-এর চেয়ারম্যান এম এ লতিফ জানিয়েছেন, তাঁদের সব স্কুল মিলিয়ে, এবছর এখন পর্যন্ত সৌদি থেকে ফিরেছে এমন ২০০ জনেরও বেশি ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছেন। এদের বেশিরভাগই মেয়ে। স্প্রিংফিল্ড চেইন স্কুলস-এর প্রধান হুমাইরা হায়দর জানিয়েছেন, তাঁদের স্কুলগুলিতে সোদি থেকে এসে ভর্তি হওয়া ছাত্রছাছাত্রীর সংখ্যা ১৫০। প্রাইভেট স্কুল ম্যানেজমেন্টের প্রেসিডেন্ট ফজলুর রহমান খুররম বলেন, 'সৌদি আরব থেকে বহু শিক্ষার্থী হায়দরাবাদে স্কুলে ভর্তি হচ্ছে বলে আমাদের কাছে রিপোর্ট এসেছে। তাদের প্রথম পছন্দ সিবিএসই পাঠক্রমের স্কুলগুলি। আসিফনগর, মেহদীপতনম ও তোলিচৌকিতে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।'
কিন্তু হঠাৎ সৌদি থেকে পরিবারদের দেশে ফেরত পাঠানোর এই ধূম পড়ল কেন? এম এ লতিফ জানান, 'বাবা-মায়েরা বলছেন সৌদি আরবে পরিবার নিয়ে বাস করা ক্রমশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে, তাই পরিবারদের দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার পথে হাঁটছেন তাঁরা।' সমাজকর্মী মহম্মদ বাকের তিন দশক কাটিয়েছেন সৌদিতে। তিনিও মাত্র কয়েক মাস আগে হায়দরাবাদে ফিরে এসেছেন। তিনি নিজ অভিজ্ঞতা থেকে জানিয়েছেন, সৌদি সরকার সম্প্রতি প্রবাসীদের থেকে উচ্চহারে বিভিন্ন পরিষেবার বিনিময়ে কর আদায় করা শুরু করেছে। সবচেয়ে সমস্যাজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে 'রেসিডেন্স ফি'. অর্থাত সৌদিতে থাকার কর। আগে এই কর চালু ছিল পরিবার প্রতি। তা এখন করা হয়েছে ব্যক্তি প্রতি। ফলে, যত বড় পরিবার হবে, তাদের থাকা তত বেশি ব্যয়বহুল হবে। তিনি বলেন, 'সামান্য বেতনভোগী শ্রমিকদের পক্ষে পরিবার-সহ থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কারণ রেসিডেন্স ফি-র সঙ্গে তাকে বাড়ি ভাড়া, খাওয়ার খরচ, শিক্ষার খরচ চালাতে হবে। পাশাপাশি নতুন আরোপিত করগুলিও মেটাতে হবে।'
স্প্রিংফিল্ড স্কুলস-এর হুমাইরা হায়দরও জানাচ্ছেন অনেক সময়ই সৌদি থেকে আসা ছাত্রছাত্রীদের বাবা-মায়েরা ছাড়ের জন্য অনুরোধ করছেন। তিনি জানান, 'হঠাৎ এই পরিস্থিতিতে বাবা-মায়েরা বিভ্রান্ত। তাঁরা আমাদের বলছেন তাঁদের কোনও সঞ্চয় নেই। আমাদের কাছে শিক্ষাই হচ্ছে অগ্রাধিকার, তা তো আর বন্ধ করা যায় না।' লতিফও জানিয়েছেন তাঁরা ওই এনআরআইদের পরিস্থিতি বুঝে বিভিন্নভাবে ছাড় দেওয়া শুরু করেছেন। তিনি জানান, "যদি অন্য স্কুলগুলোও ভর্তি এবং অন্য ফি ছাড়তে পারে, তবে গাল্ফ দেশগুলো থেকে ফেরত আসা মানুষগুলোর এই কঠিন সময়ে অনেক উপকার হবে।' বেকের অবশ্য এই সঙ্কটে তেলঙ্গানা সরকারের তরফে পদক্ষেপ নেওয়ার আশা করছেন।
প্রায় ৩০ লক্ষ ভারতীয় সৌদি আরবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিযুক্ত। এর মধ্যে কেরালার মানুষই বেশি। সৌদির অনাবাসী ভারতীয়দের প্রায় ৪০ শতাংশই এই রাজ্যের। এইপরেই আছে তেলেঙ্গানা, ২০ থেকে ২৫% কর্মরত সৌদি আরবে। এছাড়া মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থান থেকেও অনেকে যান সৌদি মুলুকে কাজের সন্ধানে। তবে তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদ, করিমনগর ও নিজামাবাদ থেকেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ যান সেদেশে। তাই এ অঞ্চলেই তাদের ফিরে আসার প্রভাবটাও বেশি চোখে পড়ছে। সমাজকর্মী মহম্মদ জিয়াউদ্দিন নায়ার সতর্ক করে বলেছেন, 'সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর উপর এ ঘটনা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।'












Click it and Unblock the Notifications