ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পে কাঁপল ইরানের মাটি, মৃত ৫
আফগানিস্তানের পর এবার ইরান। শনিবার দক্ষিণ ইরানে ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে এবং ৪৪ জন আহত হয়েছেন বলে খবর মিলছে। স্থানীয় সূত্রে বলা হচ্ছে যে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল রাজধানী তেহরানের প্রায় ১০০০ কিলোমিটার দক্ষিণে হরমোজগান প্রদেশের সায়েহ খোশ গ্রাম। ঘটনাস্থলের কাছে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

প্রতিবেশী অনেক দেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সকালের ভূমিকম্পের পরেও আফটারশকগুলি এলাকায় ঝাঁকুনি দেওয়া অব্যাহত থাকায় লোকেরা রাস্তায় নেমে আসে। বহু বাড়ি এবং কাঠামোরও ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ইরানে বড় ধরনের সিসমিক ফল্ট রয়েছে এবং প্রতিদিন গড়ে একটি ভূমিকম্প হয়। ২০০৩, ২৬ হাজার মানুষ মারা যায়। ২০১৭ সালে পশ্চিম ইরানে আঘাত হানা ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ৯০০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছিলেন।
গত বুধবার আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্প কমপক্ষে এক হাজার জনের মৃত্যু হয়।তালিবান সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল এমনটাই। ৬০০ জনের বেশি আহত হন বলে খবর মিলেছিল। আহতদের বহুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
আফগানিস্তানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তালিবান সরকার ভূমিকম্প মোকাবিলা করতে ৮৭.৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করে। ভূমিকম্পে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল আফগানিস্তানের পাকটিকা প্রদেশ। এক স্বাস্থ্যকর্মী বলেছিলেন, এখনও বহু মানুষ মাটির তলায় চাপা পড়ে রয়েছেন। ইসলামিক এমিরতের উদ্ধারকারীরা ইতিমধ্যে তাঁদের কাজ শুরু করেছেন। তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্যে ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে মৃতদেহ ও আহতদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থা জানিয়েছিল, ২০০২ সালের পর আফগানিস্তানে ২০২২ ভূমিকম্প সব থেকে ভয়াবহ ছিল। আফগানিস্তানের পাশাপাশি পাকিস্তান ও ভারতের বেশ কিছু অঞ্চলে ভূকম্পন অনুভূত হয়। তবে পাকিস্তানে কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পাকটিকা প্রদেশেই ভূমিকম্পের জেরে ২২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। খোস্ত প্রদেশে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ৯০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরাস বলেছিলেন যে, আফগানিস্তানকে ইতিমধ্যে প্রাথমিক সাহায্য করা হয়েছে। চিকিৎসার সরঞ্জাম ও ওষুধ পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণের পর পরবর্তী সাহায্য করা হবে। আফগানিস্তানের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলকে এগিয়ে আসতে হবে। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সাহায্যের সিদ্ধান্ত নেবে।












Click it and Unblock the Notifications