শরিয়তি আইন মেনে নারী স্বাধীনতা, আফগানিস্তানে কতটা মানবে তালিবানরা ?

শরিয়তি আইন মেনে নারী স্বাধীনতা, আফগানিস্তানে কতটা মানবে তালিবানরা ?

তালিবানরা আফগানিস্তান দখল করতেই আতঙ্কে কাঁটা আফগান নারীরা। ২০ বছর আগে নারকীয় অত্যাচারের কথা ভেবে আতঙ্কে রয়েছে তারা। যদিও তালিবানরা নিজেদের উন্নততর দাবি করে নারী স্বাধীনতা দেওয়ার দাবি করেছে। শরিয়তি আইন মেনে আফগান নারীদের স্বাধীনতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তালিবানরা। কিন্তু সেই শরিয়তি আইন ঠিক মত কার্যকর হবে তো আফগানিস্তানে? না কী তালিবানরা নিজেদের পছন্দ মত বদলে নেমে আইন।

শরিয়তি আইনে কতটা স্বাধীনতা মেয়েদের

শরিয়তি আইনে কতটা স্বাধীনতা মেয়েদের

শরিয়তি আইনে মেয়েদের বাইরে বেরনোর অধিকার দেওয়া হয়েছে। শরিয়তি আইনে নারীদের প্রসাধনকে অপরাধ বলে মনে করা হয়। সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ ঘোরতর অপরাধ শরিয়তি আইনে। সে কারণে বোরখা পরা অবস্য পালনীয় কর্তব্য নারীদের েক্ষত্রে। শরিয়তি আইন মেয়েদের শিক্ষার অধিকার দেয় ঠিকই। কিন্তু স্কুল-কলেজ বা মাদ্রাসায় গিয়ে পড়াশোনার কোনও অধিকার দেওয়া হয়নি। শরিয়তি আইন লঙ্ঘন করলে ভয়ানক শাস্তি। প্রকাশ্য রাস্তায় পাথর ছুড়ে মারা হবে অভিযুক্তকে। পাথর ছুরে মেরেই মৃত্যুর শাস্তি দেওয়া হবে।

কতটা শরিয়তি আইন মানবে তালিবানরা

কতটা শরিয়তি আইন মানবে তালিবানরা

তালিবানরা নারী স্বাধীনতার কথা বলেছে। তারা বলেছে ইসলামি আইনে যতটা নারী স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে ততটাই স্বাধীনতা তারা দেবে। ২০ বছর আগের তালিবানি শাসনে। চরম নির্যাতনের স্বীকার হয়েছিলেন আফগান নারীরা। তাঁদের বাইরে যাওয়ার অধিকার থাকলেও সঙ্গে বাড়ির কোনও পুরুষ সদস্য থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। এমনকী সেই সদস্য নাবালাক হলেও চলবে। একপ্রকার ঘরবন্দি করে রাখা হয়েছিল আফগান নারীদের। ১২ বছরের উর্ধ্বে কোনও পুরুষের সঙ্গে কথা বলার অধিকার ছিল না মেয়েদের। সাজগোজ করা নিষিদ্ধ ছিল মেয়েদের। এমন কী নেল পলিশও পরতে পারতেন না তারা। শরিয়তি আইনে গান-বাজনা নিষিদ্ধ মেয়েেদর জন্য। তালিবান শাসনে মেয়েরা কোনও যন্ত্র বাজালে বা গান-বাজনা করলে ঘোর শাস্তির মুখে পড়তে হত।

কাজের স্বাধীনতা

কাজের স্বাধীনতা

তালিবানরা মেয়েদের কর্মসংস্থানে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার কথা বলেেছ। কিন্তু তালিবানরা আফগানিস্তান দখলের পরেই দেখা গিয়েছে অন্য ছবি। আফগানিস্তানের সব সরকারি সংবাদ মাধ্যমের মহিলা সঞ্চালকদের বরখাস্ত করা হয়েছে। এমনকী সবসরকারি দফতর এবং ব্যাঙ্কের মহিলা কর্মীদের বাড়িতে থাকতে বলে তাঁদের পরিবারের পুরুষ সদস্যদের তাঁদের জায়গায় কাজে যোগ দিতে বলেছে। বোরখা পরা বাধ্যতামূলক শরিয়তি আইনে। তবে তালিবানরা এবার হিজাব পরলেই হবে বলে জানিয়েছে। কেমন করে মেয়েরা কথা বলবে তাও শরিয়তি আইনে বলা রয়েছে। আগের তালিবান জমানায় মেয়েদের জোরে কথা বলার অধিকার ছিল না। বাড়ির যেকোনও পুরুষ সদস্যের চেয়ে নীচু স্বরে তাঁদের কথা বলতে হত। শরিয়তি আইনে মেয়েরা কেমন করে চলাফেরা করবে তাও বলা হয়েছে। তালিবান জমানায় হুলিয়া জারি করে বলা হয়েছিল মেয়েরা এমন ভাবে চলবে যাতে তাঁদের পায়ের শব্দ কেউ শুনতে না পায়। ২০ বছর আগের তালিবান জমানায় বাড়ির ব্যালকনিতে দাঁড়ানোর অধিকার ছিল না নারীদের। মহিলাদের কোনও ছবি খবরের কাগজ, বই অথবা ম্যাগাজিনে ছাপা নিষিদ্ধ ছিল।

শরিয়তি আইন ভাঙলে কী সাজা

শরিয়তি আইন ভাঙলে কী সাজা

শরিয়তি আইন ভাঙলে নারকীয় শাস্তি দিত তালিবানরা। তাঁদের জারি করা কোনও হুলিয়া লঙ্ঘন করা হলে প্রকাশ্যে নির্যাতনের সাজা শোনানো হত নারীদের। এছাড়াও অপরাধ অনুযায়ী তাঁদের মারধর এবং পাথর ছুড়ে মারা হত। যতক্ষণ না মৃত্যু হচ্ছে ততক্ষন তাঁদের পাথর ছুড়ে মারা হত। এবারকী এরকম একাধিক সাজা বরাদ্দ হবে আফগান নারীদের জন্য। এই নিয়ে শঙ্কার মেঘ ঘনাচ্ছে। আফগান নারীরা এক প্রকার মরিয়া হয়েই গতকাল কাবুলের রাস্তায় প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন।

খবরের ডেইলি ডোজ, কলকাতা, বাংলা, দেশ-বিদেশ, বিনোদন থেকে শুরু করে খেলা, ব্যবসা, জ্যোতিষ - সব আপডেট দেখুন বাংলায়। ডাউনলোড Bengali Oneindia

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+