বাংলাদেশে যেসব উপায়ে অবৈধভাবে স্বর্ণ চোরাচালান করা হচ্ছে

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে আজ মঙ্গলবার ১,৩৪০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস প্রিভেনটিভ টিম।

বাংলাদেশে যেসব উপায়ে অবৈধভাবে স্বর্ণ চোরাচালান করা হচ্ছে

ঐ ব্যক্তি দুবাই থেকে ঢাকাগামী একটি ফ্লাইটে সকাল ন'টায় বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা এস কে তরিকুল ইসলাম বলেন, কাস্টমসের কাছে গোপন তথ্য ছিল যে ঐ ব্যক্তির কাছে অবৈধ স্বর্ণ রয়েছে।

বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে স্ক্যানিং-এর সময় ওই যাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তার কাছে কোন স্বর্ণ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন।

পরে ঐ যাত্রীর পকেট থেকে স্বর্ণের দুটো বার এবং ৯৮ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।

আরো পড়ুন:

স্বর্ণের দাম কিভাবে নির্ধারিত হয়, কেন ওঠা নামা করে?

স্বর্ণ কেনা বিনিয়োগ হিসেবে কতটা লাভজনক?

স্বর্ণ চোরাচালান কি নীতিমালা দিয়ে বন্ধ করা যাবে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে স্বর্ণ কারা রাখেন

এরপর স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ওই ব্যক্তির দেহে এক্স রে করলে দেখা যায় যে তার পায়ুপথে চারটি ধাতব পদার্থ রয়েছে।

পরে ধাতব পিণ্ডগুলো খুললে ১.০১০ কেজি ওজনের পেস্ট আকারের কেমিক্যাল মিশ্রিত স্বর্ণ পাওয়া যায়।

মি. ইসলাম বলেন, "আটককৃত পণ্যের আনুমানিক বাজার মূল্য এক কোটি টাকা।"

"চোরাচালানের উদ্দেশ্যে স্বর্ণবারসহ পেস্ট-সদৃশ স্বর্ণগুলো ওই ব্যক্তি রেক্টামে করে নিয়ে এসেছিল যা গুরুতর অপরাধ।"

কর্মকর্তারা বলছেন দুবাই, সৌদিআরব, মালয়েশিয়া,সিঙ্গাপুর থেকে এসব স্বর্ণ আসে। আর বাংলাদেশকে স্বর্ণ চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রীরা মূলত স্বর্ণের ক্যারিয়ার বা বাহক হিসবে কাজ করেন। এর পিছনে রয়েছে আরো অনেক বড় সিন্ডিকেট।

যেসব উপায়ে স্বর্ণ নিয়ে আসে?

গত কয়েক বছর ধরে বিমানবন্দরে যেসব স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে সেগুলো মানুষের শরীরের মধ্যে থেকে যেমন উদ্ধার করা হয়েছে, তেমনি বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে থেকেও সেগুলো জব্দ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে যেসব কর্মকর্তা স্বর্ণ জব্দ করছেন তারা কয়েকটি উপায়ের কথা উল্লেখ করেছেন।

পায়ুপথ:

কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন বেশ কয়েক বছর ধরে পায়ুপথে ভরে স্বর্ণ আনা হচ্ছে বলে তারা দেখতে পাচ্ছেন।

তাই কারো কাছ থেকে অঘোষিত স্বর্ণবার উদ্ধার করা হলে তারা ওই ব্যক্তির দেহে এক্স রে করেন।

পেটের নীচের অংশে কোন ধাতব বস্তু থাকলে ওই এক্স রে-তে সেটা ধরা পড়ে।

তরিকুল ইসলাম বলেন, "এগুলো দেখতে গুড়া বা ভেজা ময়দার মতো।"

এসব স্বর্ণ আবার কালো স্কচ টেপে মোড়ানো থাকে। তারা মুখে খায় না বরং পায়ুপথে ঢুকিয়ে নিয়ে আসে।

পণ্যের ভেতরে:

কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন পণ্য যেমন ফ্যান, হাড়ি পাতিল, খেলনা এসবের মধ্যে স্বর্ণের প্রলেপ দিয়ে কালো টেপ দিয়ে ঢেকেও স্বর্ণ নিয়ে আসা হয়।

এসব স্বর্ণ ধরা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সিটে, টয়লেটে:

কর্মকর্তারা বলছেন সিটে ও টয়লেটে করে স্বর্ণ আনার কাজটা খুব টেকনিক্যাল। তারা বিমানের সিটের মধ্যে, হাতলে বা টয়লেটে স্বর্ণ রেখে আসে। পরে একজন সেখান থেকে সেই স্বর্ণ সংগ্রহ করেন।

এ ধরনের কাজ করতে একটা বড় চক্র কাজ করে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

আলোচনার সময় রুশ অলিগার্ক আব্রামোভিচকে বিষপ্রয়োগের সন্দেহ

মাথার চুল ঝরে যাওয়ার রোগ অ্যালোপেসিয়া কেন হয়?

রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হতে পারে আজ

গরমের রোগব্যাধি থেকে যেভাবে নিরাপদ থাকতে পারেন

BBC
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+