হিন্দুদের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইলেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিক্ষোভকারীদের সাতদিনের সময়সীমা
পাঁচ অগাস্ট বাংলাদেসের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর থেকে বাংলাদেশে অরাজকতা চলছে। গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ গ্রহণের পর থেকে তা কিছুটা কমলেও, কোথাও কোথাও হামলা-লুট বলছে বলে অভিযোগ।
অনেক ক্ষেত্রেই আক্রমণের শিকার হয়েছেন সেখানকার সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। এব্যাপারে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের উপদেষ্টা (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এম সাখাওয়াত হোসেন হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না দিতে পারার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন।

- কী বলছে অন্তর্বর্তী সরকার
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, সংখ্যালঘু হিন্দুদের রক্ষা করা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের কর্তব্য। এব্যাপারে ব্যর্থতার কথা তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন। ভবিষ্যতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি উন্নতি নিয়েও আশাপ্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভা রবিবার সংখ্যালঘুদের ওপরে হামলা নিয়ে প্রথম বিবৃতি দেয়। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপরে হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, তারা অবিলম্বে এই ধরনের হামলার ঘটনা বন্ধে উপায় খুঁজে বের করবে। তারপরেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহঃ ইউনুস হিন্দু ছাত্র-যুবদের বৈঠক ডেকেছেন সোমবার বিকেলে।
- বিক্ষোভকারীদের নির্দেশ
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অব) এম সাখাওয়াত হোসেন সোমবার বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেছেন, ১৯ অগাস্টের মধ্যে তারা যেন সব অবৈধ ও অঅনুমোদিত আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেন। এর মধ্যে অনেক অস্ত্র, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হিংসার সময় পুলিশের কাচ লুট করা। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সেই অস্ত্রগুলি যদি কাছাকাছি থানায় ফেরত দেওয়া না হয়, তাহলে তল্লাশি চালানো হবে। আর যদি সেই অস্ত্র কারও কাছে পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।
- শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরেই পরিস্থিতির অবনতি
উল্লেখ করা যেতে পারে, পাঁচ অগাস্ট সোমবার দুপুরে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে যাওয়ার পর থেকে সেখানকার হিন্দুদের ওপরে ব্যাপক হামলা হচ্ছে। তাঁদের সম্পত্তি-ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালানো হচ্ছে। এছাড়া হিন্দু উপাসনালয়েও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। হামলা এতটাই বেশি ছিল যে, শেখ হসিনা র দল আওয়ামি লিগের অন্তত দুই হিন্দু নেতাকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। এই ক'দিনে ৫২ টি জেলায় হিন্দুদের ওপরে হামলার ঘটনা দুশোর ওপরে। এখনও পর্যন্ত হিংসায় মৃতের সংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচশো।
- হিন্দুদের বিক্ষোভ, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাবি
এদিকে এই পরিস্থিতিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে ব্যাপুক বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা সারা দেশে মন্দির-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তার দাবি করেন। তাঁরা আটদফা দাবি পেশ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে। তার মধ্যে রয়েছে সংখ্যালঘুদের ওপরে হামলার ঘটনার দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, সংখ্যালঘুদের জন্য দশ শতাংশ সংসদীয় আসন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন।












Click it and Unblock the Notifications