দিল্লি হত্যার ছায়া বাংলাদেশে! প্রেমিকাকে শ্বাসরোধ করে খুনের পর দেহ টুকরো, ধৃত প্রেমিক
লিভ-ইন পার্টনারকে খুন করে ৩৫টি টুকরোয় কেটে ফেলার ঘটনার রেশে এখনও আতঙ্কিত দেশবাসী। আর তারই মাঝে একই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেল ভারতের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ থেকে। আবু বকরের সঙ্গে কবিতা রানীর দেখা, তারপর প্রেম এরপর খুন এবং একই কায়দায় প্রেমিকার দেহের টুকরো। বাংলাদেশের এই খুনের সঙ্গে শ্রদ্ধা ওয়াকারের খুনের মিল পাওয়া গিয়েছে, যাঁকে তাঁরই প্রেমিক আফতাব শ্বাসরোধ করে খুন করে এবং ৩৫ টুকরোয় কেটে শহরজুড়ে ১৮ দিন ধরে লোপাট করে। ইতিমধ্যেই এই কাণ্ড গোটা দিল্লি সহ দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলেছে।

গত ৬ নভেম্বর আবু বকর কাজে যাননি এবং ফোনেও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছিল না। আবু বকর যে পরিবহন সংস্থায় কাজ করত, সেখানকার মালিক আবুর ভাড়া বাড়িতে তাঁরই এক কর্মীকে পাঠান। কিন্তু বাড়ি বাইরে থেকে তালাবন্ধ ছিল। আবু বকরের আচমকা গায়েব হয়ে যাওয়ায় সন্দেহ দানা বাধে এবং বাড়ির মালিক পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে এবং দরজা ভেঙে ঢোকে। ঘরে ঢুকেই পুলিশ বাক্সে এক মহিলার মুণ্ডুহীন দেহ পায়। মহিলার মাথা অন্য জায়গায় রাখা ছিল পলিথিনে মোড়া। হাত দু'টি পাওয়া যায়নি। মৃত মহিলার পরিচয় জানা যায়, তাঁর নাম কবিতা রানী, কালীপদ বাচারের মেয়ে।
৭ নভেম্বর পুলিশ তার লিভ-ইন পার্টনার স্বপ্না সহ আবু বকরকে গ্রেফতার করে। বাংলাদেশের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন ওরফে র্যাব অফিসার জানিয়েছেন যে আবু বকর ও স্বপ্না গত চার বছর ধরে একসঙ্গে গোবরচাকা স্কোয়ার এলাকায় একসঙ্গে থাকত। সম্প্রতি আবু কবিতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে এবং দেখা হওয়ার পাঁচদিনের মাথায় সে কবিতাকে খুন করে একাধিক টুকরো করে। জানা গিয়েছে, আবু বকর কবিতাকে তাঁর ভাড়া বাড়িতে আসতে বলে, সেই সময় স্বপ্না কাজের জন্য দূরে ছিল। কিন্তু আবু ও কবিতার মধ্যে ঝগড়া শুরু হয় এবং অত্যাধিক রাগের বশে আবু শ্বাসরোধ করে কবিতাকে মেরে ফেলে। এরপরই শুরু হয় পাশবিকতার খেলা। অভিযুক্ত আবু প্রথমে কবিতার দেহ থেকে ধড় আলাদা করে, এরপর হাত কেটে দেওয়ার পর তা নর্দমায় ফেলে দেয়। মাথাটাকে পলিথিন ব্যাগে ভরে দেয় এবং বাকি দেহটিকে বাক্সে ভরে রাখে এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
র্যাবের পক্ষ থেকে এও জানা গিয়েছে যে ওই রাতে আবু বকর তার লিভ-ইন সঙ্গী স্বপ্নাকে নিয়ে রুপসা নদী পেরোয় এবং ঢাকার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। কিন্তু আবুর ভাড়া বাড়ি থেকে তার পরের দিনই কবিতা রানীর দেহ উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশ তল্লাশি অভিযান শুরু করে দেয়। পুলিশের সঙ্গে র্যাবও অভিযুক্ত আবু বকর ৬ নভেম্বর রাতে কোথায় ছিল তা ট্রেস করতে শুরু করে। গাজিপুর জেলার বসন পুলিশ থানার অর্ন্তগত চৌরাস্তা মোড় থেকে পুলিশ আবু ও স্বপ্নাকে গ্রেফতার করে। পুলিশি জেরায় আবু তার অপরাধ স্বীকার করে। র্যাব গোবরচক্র এলাকার নীচু নর্দমার মধ্যে থেকে কবিতার পলিথিনে মোড়া দু'টি কাটা হাত উদ্ধার করে।












Click it and Unblock the Notifications