করোনা ধাক্কায় প্রায় দু-দশক পর সর্বাধিক জিডিপি পতন চিনে
করোনা ধাক্কায় প্রায় দু-দশক পর সর্বাধিক জিডিপি পতন চিনে
করোনার জেরে প্রায় পঙ্গু অর্থনীতি আর এরই মাঝে ১৯৯২-এর পর এই প্রথম চিনের জিডিপিতে দেখা গেল উল্লেখযোগ্য পতন। সমীক্ষকদের মতে, চিনে প্রথম তিনমাস কালে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে জিডিপি পতনের সম্ভাবনা ছিল ৬.৫%, কিন্তু শুক্রবার তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬.৮%।

আর্থিক সাহায্যের ব্যাপারে কি ভাবছে বেজিং?
ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চিন সমানতালে ব্যবসাবাণিজ্য জারি রাখলেও করোনার করল গ্রাসে সব বানচাল হতে থাকে। নোমুরা সংস্থার দাবি, এই আর্থিক ধাক্কা সামলাতে বেজিং যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাহায্যে প্যাকেজের ব্যবস্থা করে তাহলে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সুবিধা হতে পারে। এই সংস্থা আরও জানিয়েছে, পূর্বে লভ্যাংশ বা আর্থিক প্যাকেজ ব্যবসার পরিকাঠামো, সামগ্রীর গুণগত মান বৃদ্ধির জন্যে লগ্নি করা হলেও বর্তমানে কোভিড-১৯-এ বিপর্যস্ত অঞ্চলগুলির ব্যাঙ্ক, এন্টারপ্রাইজ ও ক্ষুদ্র শিল্পগুলির পাশে দাঁড়াতে হবে।

সর্বাধিক ক্ষতি ব্যবসা-বাণিজ্যে
চিনের কারখানাগুলির উৎপাদন ২০১৯-এর মার্চের থেকে এ বছরে কমেছে প্রায় ১.১%। একই সময়ে খুচরা বিক্রেতাদের বিক্রি কমেছে প্রায় ১৫.৭৮%। জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে লগ্নি কমেছে প্রায় ১৬.১%।

বেকারত্বের আশঙ্কায় চিনা নাগরিকরা
চিনের মফস্বল এলাকায় ফেব্রুয়ারি মাসে বেকারত্বের হার ৬.২% থেকে কমে মার্চে হয় ৫.৯%। যদিও সামগ্রিকভাবে এর উপকার পাচ্ছেন না নাগরিকরা। সমীক্ষকদের মতে, ২০০৮-০৯ সালের ২ কোটি চাকরি হারানোর রেকর্ডকে ছাপিয়ে এ বছরে প্রায় ৩ কোটি মানুষ বেকারত্বের কবলে পড়তে পারেন।

অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে সর্বতোভাবে সচেষ্ট চিন
তুমুল আর্থিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার জন্যে চিনের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক থেকে বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত্রে আর্থিক সাহায্য, ভর্তুকি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক প্যাকেজের দাওয়াই দিয়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলতে সচেষ্ট অর্থনীতিবিদরা। ফিসকালের সাহায্য নিয়ে বেজিং উঠেপড়ে লেগেছে ২০২০-এর বাজেটকে নিয়ন্ত্রণ করতে। যদিও আশার আলো এই যে, প্রায় ১,৩০,০০০ মানুষের মৃত্যুর পর চিনে করোনার গতি কমেছে।












Click it and Unblock the Notifications