বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপরে আক্রমণ নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহঃ ইউনুস, কী বললেন তিনি
সোমবার শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছাড়ার পরে বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধম হিসেবে শপথ নিয়েছেন নোবেল জয়ী মহঃ ইউনুস। তারপরেও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে হিন্দুদের ওপরে হামলার খবর এসেছে।
অন্যদিকে, ঢাকা-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুরা একজোট হয়ে সভা করে বলছেন, এটাই তাদের দেশ, তা কোথাও যাবেন না। পরিস্থিতি কঠোর হাতে মোকাবিলার জন্য সেখানকার সংখ্যালঘুরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

- কী বলছেন মহঃ ইউনুস
বাংলাদেশে চলা হিংসা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহঃ ইউনুস। তিনি সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দুদের লক্ষ্য করে হামলার নিন্দা করেছেন। আর এই হামলার কাজকে জঘন্য বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দেসে সংখ্যালঘুদের ওপরে হামলা তাদের অগ্রগতি নষ্ট করার চেষ্টা হতে পারে।
- ছাত্রদের উদ্দেশে ইউনুস
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে মহঃ ইউনুস বলেন, সংখ্যালঘুরা কি এদেশের মানুষ নন? তোমরা (ছাত্র) এদেশকে বাঁচাতে পারো, কিছু পরিবারকে বাঁচাতে পারো না? ছাত্রদের বলতে হবে কেউ তাঁদের ক্ষতি করতে পারবে না। তসবাই একসঙ্গে লড়াই করব, একসঙ্গে থাকব, এই স্লোগানও তিনি বেঁধে দেন ছাত্রদের উদ্দেশে।
- হিন্দুদের ওপরে একের পর এক হামলা
পাঁচ অগাস্ট সোমবার শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে হিন্দুদের ওপরে হামলার খবর এসেছে। হামলা হয়েছে মন্দিরে। এছাড়া বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপরে হামলা হয়েছে কিংবা হচ্ছে। যে কারণে নিরাপত্তার দাবিতে শনিবার বিক্ষোভ সমাবেশ করে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
প্রসঙ্গত,উল্লেখ্য বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের মধ্যে হিন্দুরাই সব থেকে বেশি। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার আট শতাংশ অর্থাৎ ১.৩ কোটি। তবে এমন নয় যে শেখ হাসিনার শাসনকালে হিন্দুরা বাংলাদেশে শান্তিতেই ছিলেন। সেই সময় ৫২ টিজেলায় সংখ্যালঘুদের ওপরে দুশোর বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
- নজরদারিতে ভারতের কমিটি
এদিকে ভারত সরকার বাংলাদেশে ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সেখানকার হিন্দু-সহ অন্য সংখ্যালঘুদের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের এজিডি ও সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই কমিটি বাংলাদেশে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক এবং সেখানে বসবাসকারী হিন্দু ও অন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।












Click it and Unblock the Notifications