'প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ'! কেন এমন বললেন হাসিনা পুত্র? জেনে নিন

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ। গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা চলার সময় তাঁর মায়ের উপর হত্যাচেষ্টা থামানোর জন্য ভারতকে তিনি কৃতিত্ব দিয়েছেন। তারই সঙ্গে তিনি আবার, ঢাকার অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন এবং তাঁর মায়ের মৃত্যুদণ্ডের জন্য পরিচালিত বিচারের প্রক্রিয়ার নিন্দাও করেছেন।

এক সংবাদ সংস্থার সাথে কথা বলার সময়, সজীব বাংলাদেশের বর্তমান শাসকদের বিরুদ্ধে আইনের কারসাজি, বিচারকদের বরখাস্ত এবং হাসিনাকে তাঁর সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, " ভারত সবসময়ের জন্যই আমাদের ভালো বন্ধু। এই বিপদের সময় ভারত আমার মায়ের জীবন বাঁচিয়েছে। যদি তিনি তখন বাংলাদেশ ছেড়ে না যেতেন, তাহলে তিনি হত্যা হয়ে যেতেন। সেরকম পরিকল্পনাই করা হয়েছিল।"

তিনি ২০২৪ সালের আগস্টে দেশব্যাপী বিক্ষোভের একদম তুঙ্গে থাকা অবস্থায় হাসিনার ভারতে পালিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, " আমার মায়ের জীবন বাঁচানোর জন্য আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।" গত বছরের ছাত্র নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভকারীদের উপর মারাত্মক দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ ছিল হাসিনার বিরুদ্ধে। সেইকারনে গত ১৭ই নভেম্বর, ৭৮ বছর বয়সী হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT)। আর তার কয়েকদিন পরই এরকম মন্তব্য এল।

বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে এরকম কঠোর রায় বাংলাদেশের রাস্তায় আনন্দ ও ক্ষোভ উগরে দিয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি জানানোর পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সজীব ওয়াজেদ এই কার্যক্রমকে রাজনৈতিক তামাশা বলে ব্যঙ্গ করে উড়িয়ে দেন। এর সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও প্রতিটি পর্যায়ে যথাযথ প্রক্রিয়াকে লঙ্ঘন করেছে।

তিনি বলেন, "প্রত্যর্পণের জন্য নির্দিষ্ট বিচারের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। বাংলাদেশে এমন একটি সরকার আছে যা অনির্বাচিত, অসাংবিধানিক এবং অবৈধ। তারা আমার মাকে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য এবং বিচার তাড়াতাড়ি সম্পন্ন করার জন্য আইনগুলি অবৈধভাবে সংশোধন করেছে। আমার মাকে নিজের প্রতিরক্ষা আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাঁর আইনজীবীদের আদালতে প্রবেশের অনুমতিও দেওয়া হয়নি।"

তিনি আরও দাবি করেন যে, ট্রাইব্যুনাল পূর্বনির্ধারিত রায় নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, " বিচারের আগেই আদালতে সতেরো জন বিচারককে বরখাস্ত করা হয়েছিল, নতুন বিচারক নিয়োগ করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে কয়েকজনের বেঞ্চে থাকার কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না। বিচারের কোনও যথাযথ প্রক্রিয়া ছিল না। প্রত্যর্পণের জন্য, বিচারের যথাযথ প্রক্রিয়া থাকা অবশ্যই প্রয়োজন।"

হাসিনা, গত বছরের জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে আগস্টের শুরুর দিকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিচারটিকে স্বচ্ছ এবং আইনসঙ্গত বলে সমর্থন করেন।

এদিকে, বর্তমানে বাংলাদেশ জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলিতে, রায় ঘোষণার আগেই বাংলাদেশের কিছু জায়গায় অপরিশোধিত বোমা বিস্ফোরণ এবং যানবাহনে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। যার ফলে সরকারি ভবন এবং বিচার বিভাগীয় কমপ্লেক্সের চারপাশে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+