বিরোধী দলকে অন্তর্ভূক্ত করে সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিলেন হাসিনা

শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায় কোন বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পাবে, এমনকী বিরোধী দলকে সমঝোতায় আসার আনুষ্ঠানিক আহ্বান প্রধানমন্ত্রী জানাবেন কি না তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। সেই সব কৌতুহলের নিরসন করে এদিন শেখ হাসিনা বলেন, "নির্বাচনের সময় আমরা সব দলের সমন্বয় দল গঠন করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হল নিরপেক্ষ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। বিরোধী দলের কাছে আমাদের প্রস্তাব, সংসদ সদস্যদের মধ্যে থেকে আপনারাও নাম দিতে পারেন, যাদের নিয়ে আমরা অন্তর্বর্তীকালে মন্ত্রিসভার সদস্য করে সর্বদলীয় সরকার গঠন করতে পারি।" তাঁর প্রস্তাবে বিরোধী দল ইতিবাচক মনোভাব দেখাবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
এদিন সভায় সর্বদলীয় সরকার গঠনের পাশাপাশি সরকারের গত ৫ বছরের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ানও তুলে ধরেন হাসিনা। তাঁর কথায়, কৃষি, শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, পরিকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠান-সহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন হয়েছে। দারিদ্র হ্রাস পেয়েছে। নিম্নবিত্তের সংখ্যা কমেছে, মধ্যবিত্তের সংখ্যা বেড়েছে। মানুষের মাথাপিছু আয়বৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়েছে। দেশের ৬০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ পরিষেবা পাচ্ছে বলেও দাবী করেন হাসিনা। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও পরিসংখ্যান বলছে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঊর্ধ্বগামী।
এদিন প্রায় ২২ মিনিটের ভাষণে সংবিধান থেকে উদ্ধৃতি তুলে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে নিজের ব্যাখ্যাও স্পষ্ট করে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ৯০ দিনের মধ্যে যাতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। সেই জন্য সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে রাষ্ট্রপতিকে যথাসময়ে লিখিত পরামর্শ দেওয়া হবে। বিরোধী দলকেও পরামর্শ জানানোর আহ্বাণ জানান তিনি।
বিরোধী দলনেতাকে হিংসার রাজনীতি ছেড়ে বেরিয়ে আসারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।












Click it and Unblock the Notifications