আমেরিকায় স্কুলে বন্দুকবাজের গুলি, তিন শিশু-সহ মৃত ৬! হৃদয় বিদারক, প্রতিক্রিয়া প্রসিডেন্ট বাইডেনের
আমেরিকায় এবার বন্দুকবাজের হামলা স্কুলে। সোমবার ন্যাশভিলের একটি বেসরকারি এলিমেন্টারি স্কুলে হামলা চালায় বন্দুকবার। মৃত্যু হয় তিন ছাত্র এবং তিন কর্মীর। পরে পুলিশের গুলিতে সেই বন্দুকবাজেরও মৃত্যু হয়।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির নাম অ্যাড্রে হেল। পরবর্তী সময়ে জানা যায় এই ব্যক্তি ট্রান্সজেন্ডার ছিলেন। হামলাকারীর হেফাজত থেকে স্কুলের ভিতরে ঢোকা এবং বেরনমোর মানচিত্র পাওয়া গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী স্কুলে রেইকি করেছিল বলে সন্দেহ এবং গুলি চালালে পুলিশের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্য নিয়েও সে তৈরি ছিল।
হামলাকারীর কাছ থেকে দুটি অ্যাসল্ট রাইফেল এবং একটি হ্যান্ড গ্রেনেড পাওয়া গিয়েছে। হামলাকারী খ্রিস্টান অ্যাকাডেমি দ্য কভেনেন্ট স্কুলে ঢুকে একটি দারজার পাশ থেকে গুলি চালায়। এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে একের পর এক গুলি চালায়। পুলিশ মৃতদের শনাক্ত করেছে। তিনটি শিশুর মধ্যে একজনের বয়স আটবছর, বাকি দুজনের বয়স নয় বছর। আর বাকি তিন স্কুল কর্মীর বয়স ৬০ থেকে ৬১ বছরের মধ্যে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন স্কুলের প্রধান ক্যাথরিন কুন্স। এক শিক্ষিকা জানিয়েছেন, গুলির শব্দে তিনি টয়লেটের মধ্যে লুকিয়ে পড়েন।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় জরুরি কল পাওয়ার পরে ১৫ মিনিটের মধ্যে সেখানে যায়। বিভিন্ন ছবিতে দেখা গিয়েছে, স্কুল ছুটির সময় শিশুরা তাঁদের অভিভাবকদের হাত ধরে রয়েছে। কোনও কোনও শিশুকে স্কুলের বাসের মধ্যে কাঁদতেও দেখা গিয়েছে। স্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ২০০ বলে জানা গিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকায় বন্দুকবাজের হামলার সংখ্যা বেড়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র সহজলভ্য হওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এইবছরে এখনও পর্যন্ত ১২৯ টি বন্দুকবাজের হামলার ঘটনা ঘটেছে। সবকটি ক্ষেত্রেই চার বা বেশি সংখ্যক লোক গুলিবিদ্ধ কিংবা মৃত্যু হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট বাইডেন, এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ঘটনাটি হৃদয় বিদারক। সান্ত্বনা দিতে গিয়ে তিনি, পরিবারগুলির সবথেকে খারাপ সময় বলেও বর্ণনা করেন। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, হামলাকারীর কাছে একটি পিস্তল ও দুটি একে ৪৭ রাইফেল ছিল। তিনি মার্কিন কংগ্রেসের কাছে অস্ত্রের ওপরে নিষেধাজ্ঞা পাশের আহ্বানও জানিয়েছেন। উল্লেখ করা যেতে পারে ১৯৯৪ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে সেখানে অ্যাসল্ট রাইফেলের ওপরে নিষেধাজ্ঞা ছিল।
২০১২ সালে এমনই একটি স্কুলে হামলার ঘটনায় ২০ জন শিশু-সহ ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০১৮ সালে ফ্লোরিডার পার্কল্যান্ডে বন্দুকবাজের গুলিতে ১৪ জন ছাত্র এবং তিনজন স্কুলকর্মীর মৃত্যু হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications