ব্যালট-ইভিএম নয়, এই দেশে জনতা ভোট দেন গুলি দিয়ে! অন্যথা হয় না রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও
ব্যালট-ইভিএম নয়, এই দেশে জনতা ভোট দেন গুলি দিয়ে! অন্যথা হয় না রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও
এ এমন এক দেশে, যেখানে ভোট হয় গুলি দিয়ে। ব্যালট-ইভিএমের চালু ভোটদানের রীতি থেকে বেরিয়ে অভিনব এক উপায়ে হয় ভোটটান। এ দেশে জনতা ভোটের লাইনে দাঁড়ান। একে একে মার্বেল বা গুলি দিয়ে নিজেদের ভোট দিয়ে যান। নেহাতই কোনও স্থানীয় নির্বাচন নয়, এভাবেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও হয় এ দেশে।

অনন্য ভোটদান পদ্ধতি ব্যবহার
ভোটদানের আজব এই রীতি পশ্চিম আফ্রিকার এক দেশে। সেই দেশের নাম গাম্বিয়া। গাম্বিয়ানরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও মার্বেল দিয়ে ভোট দেন। কোনও ব্যালট বা ইভিএমের ব্যবস্থা এখানে থাকে না। শনিবার পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ায় ভোটাররা একটি অনন্য ভোটদান পদ্ধতি ব্যবহার করল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে।

ব্যালট ড্রামে মার্বেল ফেলে ভোট
স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক অগ্রগতির একটি পরীক্ষা হিসাবে দেখা হচ্ছে এই ভোটদানের পদ্ধতিকে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিটি প্রার্থীর ব্যালট ড্রামে মার্বেল ফেলে ভোট দিচ্ছেন গাম্বিয়ানরা। গাম্বিয়ানরা ২০১৬ সালে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া জামেহর পদত্যাগ করার পর প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিতে দেখা গেছে। এবং এটি দেশের গণতন্ত্রের পরীক্ষা হিসাবে একটি মাইলফলক বলে চিহ্নিত হচ্ছে।

গুলি দিয়ে ভোট, ছয় প্রার্থীর ৬ ড্রাম
প্রায় এক মিলিয়ন ভোটার ছয়টি ব্যালট ড্রামের মধ্যে একটিতে মার্বেল ফেলে ভোট দেবেন। এক একটি ব্যালট ড্রাম এক একজন প্রার্থীর মুখ এবং নাম দিয়ে সজ্জিত। ২০১৬ সালে জামেহ পরাজিত হল বিরোধী জোটের কাছে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি অ্যাডামা ব্যারোর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট জয়ী হয়েছিল। পরাজয় স্বীকার করে ২০১৭ সালে গিনিতে পালিয়ে যান তিনি।

অ্যাডামা ব্যারোর মুখোমুখি ৫ প্রার্থী
এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান রাষ্ট্রপতি অ্যাডামা ব্যারো রয়েছেন। ব্যারো ৫৬ বছর বয়সী একজন প্রাক্তন নিরাপত্তা প্রহরী। তিনি রাজধানী বানজুলের একটি জনাকীর্ণ ভোট কেন্দ্রে তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে ভোট দিয়েছেন। ভোটদানের পর তিনি বলেন, "আমি গাম্বিয়ান ভোটারদের একটি বড় লাইন দেখে খুশি এবং জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।এবার ভোটে ব্যারো তার প্রাক্তন রাজনৈতিক পরামর্শদাতা ৭৩ বছর বয়সী ওসাইনো ডারবো-সহ পাঁচ প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হচ্ছেন।

বিভিন্ন প্রার্থীর দলীয় রঙে রাঙানো ড্রামে গুলি
গাম্বিয়ানরা তাদের এই অনন্য ভোটিং সিস্টেমের জন্য বেশ গর্বিত। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ভোটে ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হল না। পরিবর্তে, একটি ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানোর পরে তাঁদের পরিচয়পত্র যাচাই করা হল। একজন ভোটারকে বিভিন্ন প্রার্থীর দলীয় রঙে রাঙানো ড্রামের একটি সিরিজের দিকে নির্দেশ করা হবে।

ভোটদানের অভিনব পদ্ধতি গাম্বিয়ায়
প্রতিটি ড্রামের উপর থেকে বেরিয়ে আসা একটি পাইপ, যাতে একটি মার্বেল পুরে ভোটার একটি নির্বাচনী কর্মকর্তার হাতে তুলে দেবেন। এটি ড্রামে ফেলে দেওয়ার সঙ্গে একটি ঘণ্টার আওয়াজ হবে। যাতে কেউ একাধিকবার ভোট দেওয়ার চেষ্টা করলে কর্মকর্তারা শুনতে সক্ষম হন। ভোট শেষ হলে, প্রতিটি ব্যারেল থেকে মার্বেলগুলি গণনা করা হয়।

কবে চালু ভোটদানের এই অভিনব রীতির
গাম্বিয়ার নিরক্ষরতার হারের কারণে ১৯৬৫ সালে স্বাধীনতার পরে ভোট দেওয়ার এই পদ্ধতিটি চালু হয়েছিল। ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর ইয়াহা জামেহ অনিচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকটি সংস্কারের পর তা ফের প্রয়োগ করা হল। কিছু নির্বাচন কর্মকর্তা মনে করছেন ভবিষ্যতের নির্বাচনে আরও বেশি প্রার্থীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনার সাথে মার্বেল-পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ সমস্যার হবে।












Click it and Unblock the Notifications