বছর শেষে শুল্কযুদ্ধ থেকে যুদ্ধক্ষেত্র, বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘোরানো এক বছর
চলতি বছর বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকল। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, ক্রমবর্ধমান ভূ রাজনৈতিক টানাপোড়েন, অর্থনৈতিক নীতির আমূল বদল এবং শক্তির সমীকরণে রদবদল সব মিলিয়ে এই বছর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বৈশ্বিক অর্থনীতির দিশা নতুন করে নির্ধারণ করেছে। কূটনৈতিক সংঘাত থেকে বাণিজ্য যুদ্ধ ঘটনাপ্রবাহে বারবার বদলেছে বিশ্বের মানচিত্রের ভারসাম্য।
২০২৪ এর নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে জানুয়ারি ২০২৫-এ যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর প্রত্যাবর্তনে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বিদেশ নীতিতে বড়সড় মোড় আসে, যার প্রভাব পড়ে বিশ্ব কূটনীতিতেও।

২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন। লস্কর ই তইবার সহযোগী সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট প্রথমে দায় স্বীকার করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে। পাল্টা জবাবে ৭ মে ভোরে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী 'অপারেশন সিন্দুর' চালিয়ে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি পরিকাঠামোর ন'টি ঘাঁটি লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এর পর থেকেই দুই দেশের সীমান্ত ও কূটনৈতিক সম্পর্ক চরম উত্তেজনার মধ্যে থাকে।
রাশিয়া ইউক্রেন সংঘাত ২০২৫ সালেও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বজায় রাখে। ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে টানাপোড়েন তীব্র হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় শান্তি উদ্যোগ নেওয়া হলেও পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
২০২৫ এর প্রথমার্ধে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। ১২ দিনের তীব্র সংঘর্ষের পর শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এই সময় ইজরায়েল ইরানের পরমাণু স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়, যার জবাবে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরান। সংঘাতের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন 'ফোর্দো', 'নাতাঞ্জ' ও 'ইসফাহান'এ অবস্থিত তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে।
প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়। চিনা পণ্যের উপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে ওয়াশিংটন, যার জবাবে বেইজিংও কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। এর জেরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড়সড় ধাক্কা লাগে।
২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশে রাজপথ উত্তাল হয়। বাংলাদেশে এক চাঞ্চল্যকর গুলিচালনার ঘটনার পর ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা যায়, পাশাপাশি ভারতের ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসের লিঞ্চিংয়ের প্রতিবাদেও আন্দোলন ছড়ায়।
পাকিস্তানে বন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্যের খবর জানতে দাবিতে বিক্ষোভ হয়। নেপালে দুর্নীতির অভিযোগ ও প্রস্তাবিত সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে গণআন্দোলন চরমে ওঠে, যার জেরে কেপি ওলির সরকার পতনের মুখে পড়ে।
বছল শেষের মুখে এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণ বছরের শেষে দাঁড়িয়ে বিশ্ব যেন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে। মীমাংসাহীন যুদ্ধ, বদলে যাওয়া অর্থনৈতিক নীতি ও নতুন করে গড়ে ওঠা জোট ও সম্পর্ক সব মিলিয়ে আগামী দিনের আন্তর্জাতিক রাজনীতি কোন পথে যাবে, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েই গেল।












Click it and Unblock the Notifications