হাতে নেগেটিভ রিপোর্ট থাকলেই কি নিশ্চিন্ত? সাবধান করলেন বিশেষজ্ঞরা
নেগেটিভ রিপোর্ট নিয়েই যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে?
গোটা বিশ্বের মধ্যে প্রথম সংক্রমণের বর্ষপূর্তীও পার হয়েছে এই মাসেই। এখনও দেখা নেই কোনও কার্যকরী করোনা ভ্যাকসিনের। এমতাবস্থায় ভারত, আমেরিকা, ইংল্যাল্ড, রাশিয়ার মতো কিছু দেশ ভ্যাকসিন প্রস্তুতিতে বিশেষ আশা দেখালেও নতুন বছরের আগে যে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না তা বলাই বাহুল্য। এদিকে টেস্টের পর প্রাথমিক রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও পরবর্তীতে ফের করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। যাতে বাড়ছে উদ্বেগ।

সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে করোনা ক্লান্তি
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অক্টোবরের শুরু থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন ধরনের উৎসবের আমেজে গা ভাসাচ্ছে সাধারণ মানুষ। বাদ নিয়ে ভারতও। নবরাত্রি, দুর্গাপুজো, ধনতেরাস, দীপাবলির পর এবার আসছে বড়দিন, নতুন বছর। এদিকে পার্টি হোক বা বিভিন্ন আনন্দ-অনুষ্ঠানে আগের মতো আর করোনার চোখ রাঙানিকে ভয় পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। অনেকে আবার কোভিড নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়েও হাজির হচ্ছেন। কিন্তু আদৌও কী তাতে কমছে উদ্বেগ?

নেগেটিভ রিপোর্ট থাকলেই কী নিশ্চিন্ত ?
বিজ্ঞানীরা বলছেন, একজন ব্যক্তির হাতে নেগেটিভ রিপোর্ট থাকা মানেই তিনি যে মারণ করোনার দ্বারা সংক্রমিত নন বা ভাইরাস বাহক নন তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। কারণ অনেকের দেহে কোনও উপসর্গের চিহ্ন দেখতে না পাওয়া গেলেও দেখা গেছে তারা করোনা শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি শরীরে করোনার জন্মকাল বা উন্মেষপর্ব ১৪ দিন। তাই এই সময়কালের আগে কোনও ব্যক্তির করোনা টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ আসতেই পারে। তাই তাই নিয়ে প্রচুর আশাবাদী হওয়ার কিছু নেই।

কী বলছেন গ্লোবাল হেলথ সায়েন্স-র বিশেষজ্ঞরা ?
জর্জিটাউন সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথ সায়েন্স অ্যান্ড সিকিউরিটির সাথে যুক্ত ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ডাঃ অ্যাঞ্জেলা রাসমুসেন এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেন, " সামাজিক ভাবে মেলামেশা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমাদের কখনওই শুধুমাত্র পরীক্ষার ফলাফলের উপর নির্ভর করা উচিত নয়। কারণ করোনা টেস্টে শুধুমাত্র কিছু মূহূর্ত বা কিছুদিনের জন্য মানবদেহে করোনা উপস্থিতি জানা যায়। তাই করোনা বিধি মেনে চলা বা সামাজিক দূরত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিন্দু মাত্র ঢিলেমি দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। "

সংক্রামিত হলেও আসতে পারে নেগেটিভ রিপোর্ট
অনেক বিশেষজ্ঞই আবার বলছেন, আমরা কখন কী ভাবে কোথা থেকে কোন সময় সংক্রামিত হচ্ছি তা কেউই বিশেষ বুঝতে পারি না। তাই শরীরে করোনা শাখাপ্রশাখা বৃদ্ধির আগেই শুধুমাত্র সংক্রমিত হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই যদি কেউ টেস্ট করার তবে তার রিপোর্টও নেগেটিভ আসতে পারে। এমনকী সঠিক তথ্য বিশ্লেষণও সম্ভব নাও হতে পারে। তাই গোটা শরীরে মারণ ভাইরাসের জাঁকিয়ে বসতে ১৪ দিনের কাছাকাছি সময় লেগে যায়। তাই করোনা টেস্টের রিপোর্ট যে সর্বদা নির্ভরযোগ্য এর কোনও নিশ্চয়তাই নেই।












Click it and Unblock the Notifications