'আমি দোষী নই' , গ্রেফতারির পরেই আদালতে দাবি ট্রাম্পের
কোনও ভাবেই দোষী নই গ্রেফতারির পরে দাবি করেছেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হাশ মানি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। অনেক টালবাহানার পরে অবশেষে ভারতীয় সময় মঙ্গলবার মধ্যরাতে ম্যানহ্যাট কোর্টে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। তারপরেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
বেশ কয়েকদিন ধরেই তাঁকে গ্রেফতারি নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। ট্রাম্পই প্রথম প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পর্নতারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলের সঙ্গে যৌনকেলেঙ্কারির ঘটনা ধামাচাপা দিলে মোটা টাকা তাঁকে ঘুষ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে। স্টর্মি তাঁর নিজের আত্মজীবনীতে সেকথা উল্লেখ করেছে। এবং একাধিকবার প্রকাশ্যে তা দাবিও করেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তখন তাঁর বয়স ছিল ৬০ বছর। ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালে প্রথমবার আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হন। সেসময় এই যৌন কেলেঙ্কারির কথা প্রকাশ্যে আসে। ভোটের আগে এতে ভাবমূর্তিতে আঘাত আসতে পারে আশঙ্কা করে স্টর্মি ড্যানিয়েলকে মোটা টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ রাখার কথা বলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
কিন্তু েসই কেলেঙ্কারি চাপা থাকেনি। ট্রাম্প রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পরেই এই নিয়ে সরব হন স্টর্মি ড্যানিয়েল। এবং প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হওয়ার কথা স্বীকারও করেছিলেন তিনি। এই নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছিল নিউ ইয়র্কের জুরি। তারপরেই ম্যানহ্যাটন কোর্টে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। প্রথমে আত্মসমর্পণ করতে রাজি ছিলেন না ট্রাম্প। কিন্তু পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে আশঙ্কা করে অবশেষে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

গতকাল ফ্লোরিডা থেকে নিজের ব্যক্তিগত বিমানে তিনি নিউইয়র্কে আসেন। রাত কাটিয়েছিলেন ট্রাম্প টাওয়ারে। তার পরে ম্যানহ্যাটন কোর্টের নির্দেশে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। মোট ৩৪টি ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু গ্রেফতারির পর আদালত কক্ষে বসে ট্রাম্প দাবি করেছেন তিনি কোনওভাবেই দোষী নন। ম্যানহ্যাটন কোর্টে প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে কথা বলেছেন তিনি। আদালতে সওয়াল-জবাবের মধ্যে দৃঢ় কণ্ঠে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন তিনি অপরাধী নন। বলেছেন' আই অ্যাম নট গিলটি'।

কোর্ট রুমে অত্যন্ত বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর চোখে মুখে ছিল বিরক্তির ছাপ। তারপরে অবশ্য চুপচাপই সওয়াল জবাব শুনেছিলেন তিনি। ট্রাম্পের গ্রেফতারি ঘিরে নউইয়র্ক শহর জুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ৩৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল গোটা শহরে। ম্যানহ্যাটন কোর্ট চত্ত্বর এবং ট্রাম্প টাওয়ারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। লোহার ব্যারিকেড দিয়ে মু়ড়ে ফেলা হয়েছিল গোটা এলাকা।












Click it and Unblock the Notifications