৪ দশকেও মেলেনি নাগরিকত্ব, অন্ধকার ভবিষ্যতের পথে পাকিস্তানের লক্ষ লক্ষ বাঙালী
৪ দশকেও মেলেনি নাগরিকত্ব, কেমন আছে পাকিস্তানের লক্ষ লক্ষ বাঙালীরা
এনআরসি-সিএএ নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই উত্তাল ভারতীয় রাজনীতি। এদেশে থাকা সংখ্যালঘুদের ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন সময়। উঠেছে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও। এবার যেন একইচিত্র দেখা গেল পাকিস্তানে। তবে সেখানে অন্যান্য জাতির থেকে অনেক বেশি দুর্দশায় রয়েছে বাঙালীরা। সদ্য প্রকাশিত একাধিক রিপোর্টে সামনে আসছে সেই ছবিই।

নেই কোনও স্থায়ী নাগরিকত্ব
এদিকে ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিমদের জন্য একটি পৃথ রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন নিয়ে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের গোড়াপত্তন হলেও আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় মাত্র ২৫ বছরেই। ভেঙে দুটুকরো হয়ে যায় গোটা দেশ। জন্ম হয় বাংলাদেশের। এদিকে সন্দেহ নেই যে পাকিস্তান তৈরির পেছনে মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর যুক্তিতে সায় দিলেও পূর্ববঙ্গের মুসলিমরা কখনই তাদের বাঙালি জাতিসত্তা এবং স্বাধীনভাবে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করেনি। উল্টে দেশভাগের পর থেকেই সেদেশে থাকা বাঙালী মুসলিমদের জীবন যন্ত্রণা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।

অন্ধকার ভবিষ্যতের পথে
এদিকে কিরণ জাফর এবং কুলসুম ইয়ামির নামের পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর করাচির দুই বাঙালী কিশোর জিমন্যাস্টদের নিয়ে বর্তমানে জোর চর্চা চলছে আন্তর্জাতিক মহলে। দুই কিশোর-কিশোরই আগামীতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার আশা করছেন। এদিকে তাদের নাগরিকত্ব নিয়েই উঠছে একগুচ্ছ প্রশ্ন। সূত্রের খবর, ১৫ বছরের জাফর এবং ১৬ বছরে ইয়ামি বর্তমানে করাচির মাচার কলোনিতে বসবাস করে।

কোথায় রয়েছে এই মাচার কলোনি
এদিকে করাচির সবচেয়ে বড় বস্তিগুলির মধ্যে অন্যতম এই মাচার কলোনি। এই জায়গা আবার মুহাম্মদি কলোনি নামেও পরিচিত।যে ১১৬ টি অঞ্চলে করাচির বাঙালি অভিবাসীরা থাকেন, তার একটি এই কলোনি। এখানে বর্তমানে আনুমানিক প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষের বাস। এরমধ্যে অনেক বাঙালীও রয়েছেন। তবে এখানের বাসিন্দাদের মধ্যে সিংহভাগের কাছেই পাকিস্তানের কোনও নাগরিকত্ব নেই আজও। আর এখানেই বাড়ছে উদ্বেগ।

মুখে কুলুপ এঁটেছে ইমরান প্রশাসন
ইমরান ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের আইনজীবী ও পরিচালক তাহেরা হাসানের মতে, মাচার কলোনির প্রায় ৬৫ শতাংশ বাসিন্দা আদপে জাতিগত ভাবে বাঙালি। তাদের সিংহভাগের কাছেই নেই কোনও নাগরিকত্ব। এদিকে এই ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বারংবার চর্চা হলেও টনক নড়েনি ইমরান প্রশাসনের। এমনকী কবে তাদের স্থায়ী নাগরিকত্ব দেওয়া হবে সেই বিষয়েও বিশেষ কোনও উচ্চবাচ্য করা হয়নি। এদিকে পাকিস্তানে বর্তমানে যত বাঙালী থাকেন তাদের সিংহভাগই থাকেন করাচিতে। এমনকী পাকিস্তানি সমাজের দরিদ্রতম অংশ এই অসহায় বাঙালীরাই।

বিগত ৪ দশকেও ঘোচেনি দুর্দশা
এদিকে ১৯৮০ সালে পাকিস্তানে আসা অভিবাসীদের দুর্দশা নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের হিউম্যান রাইটস কমিশনের একটি প্রতিনিধিদল একটি পাকিস্তানে থাকা বাঙালিদের নিয়ে একটি সমীক্ষা করে। তাতেও দেখা গিয়েছিল একই দুরাবস্থার কথা। বর্তমানে জনসংখ্যা বাড়লেও পাকিস্তানে থাকা বাঙালীদের দুর্দশা ঘোচেনি এতটুকুও। এদিকে করাচিতে অন্যান্ ভাষার দাপট থাকলেও এখানে থাকা বাঙালী মুসলিমদের ৯০ শতাংশ আবার বাংলাভাষী।












Click it and Unblock the Notifications