মহামারি এখনই শেষ নাও হতে পারে, শিশুদের জন্য তৃতীয় ডোজ আনার পথে ফাইজার
এখন মনে হতেই পারে যে কোভিড–১৯ মহামারি হয়ত শেষ হওয়ার পথে, কিন্তু এই আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে শুক্রবার ফাইজার ইঙ্ক জানিয়েছে যে ২০২৪ সালের আগে হয়ত বিশ্ববাসীকে ছেড়ে কোভিড–১৯ মহামারি কোথাও যাবে না। শুধু তাই নয়, মার্কিন ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থার পক্ষ থেকে এও জানানো হয়েছে যে ২ থেকে ৪ বছরের শিশুদের মধ্যে ফাইজার টিকার ট্রায়াল চালিয়ে দেখা গিয়েছে এই টিকা প্রত্যাশিত প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম নয়।

২০২৪ সালের আগে মহমারি শেষ হবে না
সাম্প্রতিক এক প্রকাশিত তথ্যে ফাইজারের সেফ তথা বৈজ্ঞানিক অফিসার মিকেল ডলস্টেন বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছেন যে সংস্থা আশা করছে যে কিছু অঞ্চলে কোভিড-১৯ কেসের স্তরের মহামারি পরের বছর বা পরের দু'বছর ধরে ক্রমাগত চলবে। একই সময়ের মধ্যে অন্যান্য দেশে করোনার কেস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং তারা মহামারি শেষের পথে থাকবে। তবে ফাইজারের মতে ২০২৪ সালের আগে বিশ্ব থেকে এই মহামারি শেষ হবে না। ডলস্টোন বলেন, 'কখন এবং কীভাবে এটি ঘটবে তা রোগের বিবর্তনের উপর নির্ভর করবে। সমাজ কতটা কার্যকরভাবে ভ্যাকসিন এবং চিকিৎসা করতে সক্ষম হয় এবং সমবন্টন সেখানে প্রযোজ্য যেখানে টিকাকরণের হার কম।' তিনি এও বলেন, 'মহামারি দীর্ঘদিন স্থায়ী হওয়ার পেছনে নতুন ভ্যারিয়েন্টের ভূমিকাও রয়েছে।'

২০২২ সালে মহামারি শেষ হবে আমেরিকায়
ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট মাথ চাড়া দিয়ে ওঠার আগে মার্কিনী শীর্ষ রোগ সংক্রমণের চিকিৎসক অ্যান্টনি ফউসি পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে আমেরিকায় ২০২২ সালেই মহামারি শেষ হয়ে যাবে। যদিও ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট নভেম্বরে আসার পরই এই পূর্বাভাস সামনে এসেছিল। ভাইরাসের প্রকৃত ভার্সানের সঙ্গে তুলনা করলে এই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের ৫০টি মিউটেশন রয়েছে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠেনি
ফাইজার ভ্যাকসিন আমেরিকায় পাঁচ বছর ও তার বেশি বয়সের শিশুদের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। যদিও শুক্রবার সংস্থার পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয় যে তাদের গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে ২ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের ৩ মাইক্রোগ্রাম করে ভ্যাকসিনের ২টি ডোজ দেওয়ার পরও তাদের মধ্যে কোনও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। যদিও একই ডোজ একটু বেশি বয়সের শিশুদের প্রয়োগ করার ফলে তাদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দেখা গিয়েছে। এই ৩ মাইক্রোগ্রাম ডোজ ৬ থেকে ২৪ মাস বয়সের শিশুদের মধ্যে কিন্তু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমত গড়ে তুলেছে।

তৃতীয় ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত
সংস্থা তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার কমপক্ষে ২ মাস পর ৩মাইক্রোগ্রাম পরিমাণ ভ্যাকসিনের তৃতীয় ডোজ দেওয়া শুরু করবে, যা এই শিশুদের শরীর প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে আশা করছে ফাইজার। ফাইজারের পূর্বের গবেষণার ভিত্তিতে, শিশুদের জন্য ডোজের পরিমাণ নির্ধারণ করে ট্রায়াল শুরু করা হয়। যা ছিলো ১২ বছরের উর্ধ্ব শিশুদের জন্য ৩০ মাইক্রোগ্রাম, ৫ থেকে ১০ বছরের শিশুদের জন্য ১০ মাইক্রোগ্রাম এবং এর চেয়ে বয়সে ছোটদের জন্য ৩ মাইক্রোগ্রাম। কিন্তু নতুন অন্তর্বর্তী তথ্য মতে, ভ্যাকসিনের এই নির্দিষ্ট পরিমাণ ২ থেকে ৫ বছরের শিশুদের শরীরে যথেষ্ট কার্যকর নয়। ফাইজার আরও জানিয়েছে, ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে টিকার তৃতীয় ডোজ প্রয়োগ সংস্থাটির ঝুঁকি নিরসনে তাদের প্রতিশ্রুতিকে প্রকাশ করে।

তৃতীয় ডোজ আসতে পারে ২০২২ সালে
যদি এই তৃতীয় ডোজ সফল হয় তবে ২০২২ সালের প্রথমার্ধে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকলের জন্য টিকার জরুরি ব্যবহার অনুমোদনে সমর্থনের জন্য ফাইজার তাদের সকল তথ্যাবলী জনসম্মুখে আনবে। এছাড়া ফাইজার বেশি বয়সী শিশুদের উপরও টিকার তৃতীয় ডোজ ট্রায়াল দেবে, যার মধ্যে ৫ থেকে ১০ বছর এবং ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সীরা এই টিকা পাবে।

ওমিক্রনের বিরুদ্ধে টিকা
ফাইজার ও বায়োটেক একত্রিত হয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ওমিক্রন ভ্যারিয়ান্টের বিরুদ্ধে টিকা নিয়ে গবেষণা করছে। সংস্থা জানিয়েছে যে এই টিকার ক্লিনিকাল ট্রায়াল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে নতুন বছরের জানুয়ারি মাসে। প্রসঙ্গত, উচ্চ-সংক্রমণযোগ্য করোনা ভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ইতিমধ্যেই ৭৭টি বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।












Click it and Unblock the Notifications