ট্রাম্পের শান্তি পরিষদে যোগ দিতে রাজি আট ইসলামিক দেশ, কোন দেশগুলি যোগ দিচ্ছে জানুন
গাজা উপত্যকার রক্তাক্ত অস্থিরতা থামাতে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার ঢেউ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাব করা তথাকথিত 'শান্তি পরিষদে" যোগ দিতে সম্মত হলো আটটি ইসলামিক দেশের বিদেশ মন্ত্রীরা। এর মধ্যে রয়েছে কাতার, তুর্কিয়ে, মিশর, জর্ডন, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশ।
এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানায় ট্রাম্পের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে গাজাকে শান্তির পথে ফেরানোর লক্ষ্যে পরিষদে যোগ দিতে তারা একমত হয়েছে। "আমরা সম্মিলিতভাবে শান্তি পরিষদে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি" বিবৃতিতে উল্লেখ করে বলা হয়, প্রতিটি দেশ নিজ নিজ আইনগত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী চুক্তিতে স্বাক্ষর দেবে।

ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এই পরিষদকে একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনিক কাঠামো হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গাজায় যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধান উভয় দিকেই কাজ করবে এই বোর্ড।
প্রাথমিকভাবে কম সদস্যবিশিষ্ট কূটনৈতিক মঞ্চ হিসেবে পরিকল্পনা করা হলেও পরে ট্রাম্পের চিন্তায় এসেছে বড় পরিবর্তন, দুনিয়ার বহু দেশকে পাঠানো হয়েছে আমন্ত্রণপত্র। এমনকি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সংঘাতের মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও ভূমিকা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে প্রায় ৫০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, এর মধ্যে ৩০টির মতো দেশ যোগ দেবে বলে আশা।
যে দেশগুলো যোগ দিতে রাজি হয়েছে অর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহরাইন, বেলারুশ, মিশর, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডন, কাজাখস্তান, কসোভো, মরক্কো, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুর্কিয়ে, ইউএই, উজবেকিস্তান, ভিয়েতনাম ও ইসরায়েল।
যে দেশগুলো যোগ দিচ্ছে না সেগুলি হল ফ্রান্স, নরওয়ে, স্লোভেনিয়া ও সুইডেন ইতিমধ্যেই না বলে দিয়েছে।
যাদের আমন্ত্রণ গেছে সিদ্ধান্ত অনিশ্চিত ভারত, ব্রিটেন, চিন, ক্রোয়েশিয়া, জার্মানি, ইতালি, ইউরোপীয় কমিশন, প্যারাগুয়ে, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইউক্রেন।
ইউরোপের কিছু বড় দেশ ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাব থেকে সরে দাঁড়ালেও, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র পরিষদে যোগ দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে, যা কূটনৈতিক অঙ্কে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গাজা সমস্যার দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে ট্রাম্পের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও সংশয় দুটোই জন্ম দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই বোর্ড কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে রাজনীতির ময়দানে নতুন দফার কূটনৈতিক খেলায় এর ভূমিকা স্পষ্ট।












Click it and Unblock the Notifications