শুধু 'অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা' রাশিয়াকে থামানোর জন্য যথেষ্ট নয়, বললেন জেলেনস্কি
শুধু 'অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা' রাশিয়াকে থামানোর জন্য যথেষ্ট নয়, বললেন জেলেনস্কি
খারকিভ ধ্বংসস্তুপে পরিনত, রাজধানী কিয়েভ রাশিয়ান সেনা দ্বারা অবরুদ্ধ! ইউক্রেনের আকাশ জুড়ে শেষ ১২ দিনে পোড়া বারুদের গন্ধ ছাড়া আর কিছুই যেন নেই! এরকরম অবস্থায় রাশিয়া নতুন করে হুমকি দিয়েছে যে এবার ইউক্রেনের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিশানা বানাবে তাদের মিশাইল। অর্থাৎ বর্তমান তো ধ্বংস হচ্ছেই সঙ্গে ভবিষ্যতের রেশটু্কু মুছে ফেলতে চাওয়া। স্বাভাবিকভাবেই এই হুমকির মুখে পড়ে আর চুপ করে বসে থাকতে পারেননি ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলদোমির জেলেনস্কি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের কটাক্ষ করে আক্ষেপের সুরে বলেছেন শুধু অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে রাশিয়াকে থামানো যাবে না৷

রবিবার একটি ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ঘোষণা করেছে যে আগামীকাল তারা আমাদের প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানে বোমা হামলা চালাবে। যার বেশিরভাগই আমাদের শহরগুলিতে অবস্থিত, আর এই প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলির আশেপাশে প্রচুর অসামরিক সাধারণ মানুষের বাস রয়েছে৷ তাই এই প্রতিরক্ষা শিল্পগুলিকে মিসাইলের লক্ষ্য বানানো আদপে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। কিন্তু আমি অবাক হচ্ছি আমি এ বিষয়ে এখনও বিশ্বের কোনও নেতার প্রতিক্রিয়া শুনতে পাইনি!
প্রসঙ্গত, রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণের মূল কারণ হিসেবে বারবার ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দিতে চাওয়াকে সামনে রেখেছে৷ মস্কোর দাবি তারা নিজেদের দেশের সীমান্তে কোনভাবেই ন্যাটোর সেনাকে দাঁড়াতে দিতে পারে না। এমনকি এই যুদ্ধ চলাকালীন ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্ত হওয়ার জন্যও আবেদন করেছে ইউক্রেনে। অন্যদিকে ন্যাটো কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এতদিন ইউক্রেনকে সাহায্য ও সুরক্ষার বার্তা দিয়ে এলেও সরাসরি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়নি৷ তবে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করা থেকেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ শুরু করেছে আমেরিকা, ফ্রান্সচ, ইংল্যান্ড, জার্মানি সহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলি৷ যার মাশুল দিতে হচ্ছে ইউক্রেনকে। কারণ অর্থনৈতিক অবরোধ পুতিনকে থামাতে তে পারেইনি উল্টে আরও বপশি আগ্রাসী করে তুলেছে। ইতিমধ্যেই ইউক্রেন থেকে ১.৪ মিলিয়ন লোক অন্যদেশে পালাতে বাধ্য হয়েছেন৷ সামরিক, অসামরিক মিলে ইউক্রেনে প্রতিদিন মৃতের সংখ্যাটাও শয়ের উপর!
স্বাভাবিকভাবেই এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ চাইলেন জেলেনস্কি। এদিন ভিডিও বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, আগ্রাসনকারীর (রাশিয়ার) সাহসিকতা পশ্চিমের কাছে একটি স্পষ্ট সংকেত যে রাশিয়ার উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলি যথেষ্ট নয়। ইউক্রেনকে দখলদার মুক্ত করা সম্পর্কে চিন্তা করুন। তারা (রাশিয়া) যে কোনও সময় পরিকল্পিত নৃশংসতা ঘোষণা করতে পারে। এই যুদ্ধে যারা নৃশংসতা করেছে তাদের শাস্তি হোক। যারা আমাদের শহরে আমাদের জনগণের উপর ক্ষেপণাস্ত্র গুলি বৃষ্টি করার আদেশ দিচ্ছে আমরা ঠিক তাদের খুঁজে নেবো৷ এই পৃথিবীতে কবর ছাড়া তাদের শান্তির জন্য একটিও জায়গা থাকবে না।












Click it and Unblock the Notifications