ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান, রিখটার স্কেলে ৬.১ মাত্রার কম্পনে নেই সুনামির সতর্কতা
৬-এর উপর কম্পন হলেও সুনামির কোনও সতর্কতা নেই বলে জানিয়েছে জাপানের আবহাওয়া দফতর।
তুরস্কের ভূমিকম্পের ভয়বহতার রেশ কাটেনি এখনও, তারপর একের পর এক ভূমিকম্প ঘটে যাচ্ছে। এবার কেঁপে উঠল জাপান। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৬.১। তবে ৬-এর উপর কম্পন হলেও সুনামির কোনও সতর্কতা নেই বলে জানিয়েছে জাপানের আবহাওয়া দফতর।

শনিবার সন্ধ্যায় ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে জাপানের হক্কাইডো। তারপরই সুনামির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে সুনামি কোনও সতর্কতা জারি করা হয়নি। উপকূলীয় অঞ্চলে ভূমিকম্প হয়। ফলে উপকূলবর্তী শবর কুশিরো ও নেমুরো কাঁপে উঠেছিল। তুরস্কের ভূমিকম্প মনে দগদগে ঘা করে দিয়েছে। তাই মানুষ আতঙ্কের ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে।
রাস্তায় নেমে এসেও স্বস্তিতে ছিলেন না জাপানোর উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। কেননা তাঁদের মনে ছিল সুনামির আতঙ্ক। তবে সুনামির কোনও সতর্কতা জারি না হওয়ায় হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন তাঁরা। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সার্ভে সংস্থা ও জাপান আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার রাতে উত্তর জাপানের হক্কাইডোতে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। তার ফলে সুনামির কোনও সম্ভাবনা নেই। এরপর আশ্বস্ত হন উপকূলবর্তী মানুষজন।
সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরেছে উপকূলীয় ভূমিকম্পের পরে সুনামির কোনও সতর্কতা জারি না হওয়ায়। উপকূলীয় শহর কুশিরো এবং নেমুরো কেঁপে ওঠার পর জাপানের প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে বড় কোনও ক্ষতি হয়নি। এ যাত্রায় রক্ষা পেয়েছে জাপান। তবে আরও খোঁজ খবর নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
ইউএসজিএস বা মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সার্ভে সংস্থা জানিয়েছে এই কম্পনের উৎসস্থল ছিল প্রায় ৪৩ কিলোমিটার বা ২৭ মাইল গভীরতায়। রাত ১০টা ২৭ মিনিট নাগাদ এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কে মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। আফটার শকের আতঙ্ক তো ছিলই, ছিল সুনামির সতর্কতাও।
তবে জাপানে যে ভূমিকম্প হতে পারে তা বিশেষজ্ঞদের তরফে এক সপ্তাহ আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। ভূমিকম্প নিয়ে সজাগ থাকার কথা জানানো হয়েছিল জাপানের আবহবিদদের তরফে। তাঁরা সতর্ক করে বলেছিলেন, যে কোনওদিন ভূমিকম্প হতে পরে, তাই সবাই যেন সজাগ থাকে।
জাপানে ভূমিকম্প সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের 'রিং অফ ফায়ার-এ হয়ে থাকে। তীব্র ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে ধরা হয় দক্ষিণ -পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকাকে। আর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকায় অবস্থিত জাপান। ফলে সদা সতর্ক থাকা ছাড়া বিকল্প নেই। দেশটি এমনভাবেই তৈরি তীব্র মাত্রার ভূমিকম্প সহ্য করতে পারে। ফলে ৬.১ মাত্রায় তীব্র ঝাঁকুনির পর ঘরবাড়ির বিশেষ ক্ষতি হয়নি। এ দেশে কঠোর নির্মাণ বিধা মেনে চলা হয়।












Click it and Unblock the Notifications