ই-সিগারেট: স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ

ই-সিগারেট বা ইলেকট্রনিক সিগারেট নিষিদ্ধ করেছে সানফ্রানসিসকো, কিন্তু অনেক দেশে ধূমপান ছাড়তে এই সিগারেট ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়।

যুক্তরাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ ধূমপায়ীদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে যে, ধূমপান ছাড়ার জন্য ই-সিগারেট সহায়ক হতে পারে।
Getty Images
যুক্তরাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ ধূমপায়ীদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে যে, ধূমপান ছাড়ার জন্য ই-সিগারেট সহায়ক হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম শহর হিসাবে ই-সিগারেট বা ইলেকট্রনিক সিগারেট নিষিদ্ধ করেছে সানফ্রানসিসকো।

তবে যুক্তরাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ ধূমপায়ীদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে যে, ধূমপান ছাড়ার জন্য ই-সিগারেট সহায়ক হতে পারে।

কিন্তু ই-সিগারেট আসলে কতটা নিরাপদ?

ই-সিগারেট কীভাবে কাজ করে?

এই সিগারেটের ভেতরে নিকোটিন, প্রোপাইলিন গ্লাইকল অথবা ভেজিটেবল গ্লিসারিন এবং সুগন্ধী মিশ্রিত থাকে।

কিন্তু তামাকের ভেতর থাকা অনেক বিষাক্ত রাসায়নিকের তুলনায় (যেমন টার এবং কার্বন মনোক্সাইড) নিকোটিন তুলনামূলক কম ক্ষতি করে।

নিকোটিনের কারণে ক্যান্সার হয় না, কিন্তু সাধারণ সিগারেটে ভেতরে থাকা তামাকের কারণে ক্যান্সার হতে পারে- যার কারণে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

এ কারণেই ধূমপান বন্ধ করতে নিকোটিন গ্রহণের মাধ্যম পরিবর্তনের জন্য অনেক বছর ধরে পরামর্শ দিয়ে আসছে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। যার মধ্যে রয়েছে গাম, স্কিন প্যাচেস বা মুখে স্প্রে করা।

আরো পড়ুন:

'ধূমপান ছাড়তে ই-সিগারেট প্রধান হাতিয়ার হতে পারে'

চিকিৎসকের দৃষ্টিতে ধূমপান ছাড়ার ১০টি সহজ উপায়

'মানুষকে ধূমপান, মদ ও মাংস খেতে দিন'

দীর্ঘ সময় কাজ করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি আছে -গবেষণা

যুক্তরাজ্যের এমপিদের কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামাকের বা সাধারণ সিগারেটের চেয়ে ই-সিগারেট অনেক কম ক্ষতিকর।
Getty Images
যুক্তরাজ্যের এমপিদের কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামাকের বা সাধারণ সিগারেটের চেয়ে ই-সিগারেট অনেক কম ক্ষতিকর।

এতে কী কোন ঝুঁকি আছে?

চিকিৎসক, স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞ, ক্যান্সার নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা বা যুক্তরাজ্যের সরকার, সবাই একমত হয়েছে যে, বর্তমানে যেসব তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে সাধারণ সিগারেটের তুলনায় ই-সিগারেট সামান্যই ঝুঁকি বহন করে।

একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, সিগারেট বা ধূমপানের তুলনায় এভাবে ধোঁয়া নেয়া ৯৫ শতাংশ কম ক্ষতির কারণ হতে পারে।

কিন্তু এর মানে এই নয় যে, এগুলো পুরোপুরি ঝুঁকি মুক্ত।

ই-সিগারেটের ভেতরে থাকা তরল পদার্থ এবং ধোঁয়া অনেক সময় এমন সব ক্ষতিকর রাসায়নিক বহন করতে পারে, যা সাধারণ সিগারেটের ভেতরেও থাকে। তবে এর মাত্রা অনেক কম।

যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা এর আগে ছোট কয়েকটি পরীক্ষায় দেখেছেন, এ ধরণের ধোঁয়া গ্রহণ বা ভ্যাপিং শরীরের ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় পরিবর্তন আনতে পারে।

সুতরাং এভাবে ভ্যাপিং বা ধোঁয়া গ্রহণে স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি হয় না, এটা এখনি বলা যাবে না। তবে বিশেষজ্ঞরা একমত যে, প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় ই-সিগারেটে ঝুঁকির মাত্রা অনেক কম।

ই-সিগারেট কি অন্যদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?

এরকম ধোঁয়া অন্যদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে, এমন কোন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রচলিত সিগারেটের ধোঁয়ায় আশেপাশের মানুষ যতটা ক্ষতির শিকার হয়, সে তুলনায় ই-সিগারেটের ক্ষতি তেমন একটা হিসাবের মধ্যে পড়ে না।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

'চিৎকার করেছি, সবাইকে বলেছি - ওরে বাঁচান'

'ঢাকায় ৩০% রিকশাচালকই জন্ডিসে আক্রান্ত'

পাকিস্তান কি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ?

ভারতে নারী এমপির বক্তব্যে সরগরম সামাজিক মাধ্যম

ই-সিগারেট নিয়েও বিতর্ক রয়েছে
Getty Images
ই-সিগারেট নিয়েও বিতর্ক রয়েছে

ই-সিগারেট নিয়ে বিতর্ক

দীর্ঘসময় ধরে বিতর্ক চলছে।

স্কটল্যান্ডে এক জরিপে দেখা গেছে, তরুণদের অনেকে ই-সিগারেট ব্যবহার করে পরে ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘ মেয়াদে এর প্রভাব কী পড়তে পারে, সে ব্যাপারে গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথাও এখন উঠছে।

ই-সিগারেটে কী থাকবে, তা নিয়ে কি কোন আইন আছে?

ই-সিগারেটের ভেতর কী থাকবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় যুক্তরাজ্যের আইন অনেক কড়া।

যুক্তরাজ্যের ই-সিগারেটে কতটুকু নিকোটিন থাকবে, তার সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের আইনে নেই।

১৮ বছরের কারো কাছে এ ধরণের সিগারেট বিক্রি করা যাবে না।

ই-সিগারেটের ক্ষেত্রে অনেকটা একই ধরণের দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে কানাডা ও নিউজিল্যান্ডে।

BBC
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+