কালীঘাটের মতোই 'পালা' পড়ে মার্কিন মুলুকের এই পুজোয়
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব প্রদেশেই পৌঁছে গেছে দুর্গাপুজো, ইন্ডিয়ানার সঞ্চারীর চোখে তাঁদের ওখানের পুজো ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলার পাতায়
বিদেশের পুজোয় এবার মার্কিন মুলুকে সফরে যাওয়া যাক। ইন্ডিয়ানা, কেন্টাকি এবং ওহিও তিনটি প্রদেশের বাঙালিরা পালা করে প্রতিবছর মা দুর্গাকে বরণ করে নেন।
অনেকটা বনেদী বাড়িতে যেমন এক একবার এক এক বংশধরের পালা পরে, সেরকমই মার্কিন মুলুকের তিনটি প্রদেশও সেভাবই ভাগ করে নেয়।

সঞ্চারীর পরিচয়
২০১২ সালে বিবাহ সূত্রে পাড়ি মার্কিন মুলুকে। সঞ্চারী কুন্ডু থেকে কর্মকার হয়ে ওঠার পথে এটাও একটা ধাপ। দেশ , স্বজন ছেড়ে বিদেশে গিয়ে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া। কিন্তু একটা জিনিসে মানিয়ে নিতে হয়নি , সেটা দুর্গাপুজো। কলকাতা ছেড়ে ইন্ডিয়ানা প্রদেশের বাসিন্দা হয়ে আজও চেটেপুটে উপভোগ করেন দুর্গাপুজো।

উইকএন্ড ফেস্টিভ্যাল
মার্কিন মুলুকে পাঁচদিনের কাজই রীতি । তো তার মধ্যে অফিস সামলে কী করে পুজোর জাঁক করা সম্ভব। তাই দুর্গাপুজোয় সামণ্য বদল। সপ্তাহান্তের ছুটির মজা ডবল হয়ে যায়। কারণ শনি-রবি দুদিনেই সারা হয় মায়ের আরাধনা। বসের চোখ রাঙানি, সহকর্মীর ভুরু কোঁচকানো নেই, নিজের নায্য ছুটিতে নিজেদের পুজো আয়োজন।

অধ্যাপক যখন পূজারী
বছরের আর পাঁচটা দিন ডায়টন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক , কিন্তু মাতৃ আরাধনায় তিনিই পূজারী। মৃণ্ময়ী দেবীকে চিন্ময়ী করে তোলার কান্ডারীও তিনিই। পাশাপাশি সকলের মধ্যে মণীশ চট্টোপাধ্যায় দারুণ জনপ্রিয় পুরোহিত, কারণ তিনি বাংলায় সব মন্ত্র অনুবাদ করে দেন।

কব্জি ডুবিয়ে ভুরিভোজ
বাঙালির দুর্গাপুজো আর খাওয়াদাওয়া হবে না তাও কী হতে পারে। ভোগের খিচুড়ি থেকে নবমী পুজোর পাঁঠার মাংস সবকিছুর জোগাড় থাকে। বাদ যায়না চিংড়িও। আসলে বাঙালির রসনার পরিচয়ও তো সারা পৃথিবীতে বিখ্যাত। তবে জিভে জল আনা এই রান্নার ঝাল মশলায় যদি কচি-কাচাদের অসুবিধা হয়, তাই তাদের জন্য আলাদা করে রান্নাবান্না করা হয়।

'প্রাণে খুশির তুফান উঠেছে'
স্বামীর অফিস যাওয়া নেই, ছোট ছানাদের স্কুল যাওয়া নেই। সঞ্চারী তাই একদম অন্য মেজাজে থাকেন এই সময়টায়। পরিবারের সঙ্গে অন্য আনন্দ ভাগ করে নেওয়া, আর বাঙালি পরিবারে পুজোর আনন্দ ভাগ করে নেওয়া একদমই অন্য মাত্রা। তা শুধু বাঙালিরাই সঠিকভাবে বুঝতে পারেন। তাই সঞ্চারীও সপরিবার আনন্দ সাগরে ডুব দেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
এখন ইন্টারনেটের দৌলতে পৃথিবীর সব প্রান্তে বসে সহজে বাংলা সংস্কৃতির ছোঁওয়া পাওয়া যায়। কিন্তু লাইভ অনুষ্ঠান শোনা তো আরও মজার। তাই পুজোতে গান বাজনা-র আয়োজনও থাকে। পরমা, জয় সরকার থেকে লোপামুদ্রা সকলেই আসেন মঞ্চ মাতাতে। পাশাপাশি বাংলা সংস্কৃতির ধুনুচি নাচ থেকে শঙ্খ বাজানো সব কিছু নিয়ে হয় প্রতিযোগিতা।

'রাঙিয়ে দিয়ে যাও যাও'...
সিঁদুর খেলায় শেষ দু'দিনের আনন্দোৎসব। মাতৃ প্রতিমাকে রাঙানোর পর প্রার্থনা আবার এসো, এরপর শুরু হয় একে অপরকে রাঙিয়ে দেওয়ার পালা।

বাঙালিদের বাজিমাত
বাঙালি সুন্দরী এখন বং বিউটি নামে বেশি পরিচিত। এই ছবি হারাতে পারে বিশ্বের যে কোনও সুন্দরীদের। শাড়ি পরিহিত, সিঁদুর সুশোভিত 'সঞ্চারী'রা হয়ে ভারতের প্রতীক বিশ্ব মঞ্চে। শুধু মাতৃপ্রতিমায় নয়, বাঙালিদের ঘরে ঘরে দুর্গা।












Click it and Unblock the Notifications