আমেরিকাতেও মঙ্গলবার মহালয়া, শিউলি ফুলের গন্ধ আর বোধনের সুরে রাত জাগছে অরুন্ধতীরা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব প্রদেশেই পৌঁছে গেছে দুর্গাপুজো, ডেলাওয়েরার অরুন্ধতীর চোখে তাঁদের ওখানের পুজো ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলার পাতায়।
মানচিত্র অনুযায়ি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাপে নিউ জার্সির ঠিক পাশের রাজ্য ডেলাওয়ের। আজ বিদেশের পুজোয় অরুন্ধতী বসুর হাত ধরে ঘুরে আসব ডেলাওয়ের বা তাঁর মার্কিনি রসিকতায় ডেলা হোয়্যার।

বাংলার মেয়ে অরুন্ধতী বেশ খানিকটা গর্ববোধ করেন এই ডেলাওয়েরে থাকার জন্য। কারণ বাংলা যেমন ভারতের স্বাধীনতায় বড় ভূমিকা নিয়েছিল ,ঠিক তেমনিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম স্বাধীনতা পেয়েছিল এই রাজ্য। আয়তনে মার্কিন মুলুকের অন্য স্টেটগুলির চেয়ে অনেকটাই ছোট এই দেলওয়ারা। কিন্তু বাঙালি হিসেবে দারুণ আনন্দের বিষয় যেটা সেটা দুর্গাপুজো হয়। আর দুর্গাপুজো ঘিরে বাঙালিদের হইচইও থাকে দেখার মত।

বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশান অফ ডেলাওয়ের ভ্যালি নামের সংস্থা আয়োজন করছে দুর্গা পুজো। গত এক দশক ধরে পুজো হয় হকেসানের হিন্দু মন্দিরে। পুজোর সবচেয়ে কাছাকাছি উইকএন্ডে তিন দিন ধরে পুজো হয়। অরুন্ধতীকে দেশের বন্ধুরা খোঁটাও শুনতে হয় বিদেশের পুজো তো বাসি পুজো। কিন্তু বহু বছর দেশের বাইরে তিনি, এখন প্রবাসের এই পুজোই তাঁর কাছে খোলা জানলার মত। তাই তিনি জানিয়ে দেন. 'প্রবাসে নিয়ম নাস্তি'।

তবে বন্ধুরা বললে মন তো কাঁদেই, বিশেষত যারা একটা বড় সময় কলকাতার পুজোয় কাটিয়েছেন। তাই অরুন্ধতীর কাছে , এতদিন পরও পুজো মানে কাছের মানুষরা আর কলকাতা। আজ দুই মেয়েকে নিয়ে অরুন্ধতী নিজে মা। ছোটবেলায় তাঁর মায়ের পুজো পালন দিয়ে বোধ তৈরি হয়েছিল পুজোর। ছিল মায়েদের ষষ্ঠী, অষ্টমী পালন, ছিল পুজোর ঝলমলে কলকাতা , ছিল ভাই বোনদের ঠাকুর দেখার অকৃত্রিম উৎসাহ, প্রিয় বন্ধু র সঙ্গে বিরতিহীন আড্ডা। অরুন্ধতীর মেয়ের কাছে পুজো মানে এক সুপার হিরোর কাহিনী। কারণ তারা জানে সুপারহিরোরাই দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন করে। আর মা দুর্গাও তো তাই করেন। অরুন্ধতীর মেয়েদের এই ভাবনাটা বেশ নতুন । এভাবে ভাবলে কিন্তু গল্পে একটা মাত্রা বাড়ে বই কমে না। নতুন প্রজন্মের চোখ দিয়ে যত পৃথিবী দেখা যাবে তত নতুন থাকা যাবে।

তবে পুজো আলাদা দিনে হলেও মহালয়ার দিনটা একইরকম, সেই ভোরবেলা উঠে মহালয়া শোনা। পুজো আসার বার্তা বয়ে নিয়ে আসে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের মন্ত্রোচ্চারণের মহালয়া। এভাবে আসে অরুন্ধতীদের পুজো। সাত সাগর তেরো নদী পেরিয়ে যেখানের বাসিন্দা এখন এই বাঙালিরা।

তবু তো পুজো আসে সেটাই বা কম কথা কী। স্বজনদের সঙ্গে দেখা না হলেও প্রবাসের বাঙালিরা সবাই এক হন, এক স্টেটের গন্ডি পেরিয়ে মা দুর্গাকে উপলক্ষ্য করে মিলিত হন বন্ধুরা। অরুন্ধতীর বাড়তি পাওনা পুজোর সময় দেখা হয় স্কুলে পড়া বন্ধুদের সঙ্গে। সেই ছোটবেলার গুরুত্বপূর্ণ সময়টা যাঁদের সঙ্গে কাটিয়ে এসেছেন তাঁদের সঙ্গে। পেশাসূত্রে সবাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছেন। পুজোয় মায়ের আবহান যেন অন্য এক আবাহনের সুর নিয়ে আসে। নীলাঞ্জনা-দেবযানী- অরুন্ধতীরা রোজকার ব্যস্ততার রুটিন পিছনে ফেলে দিয়ে এক নতুন মিলন মঞ্চ পান।

তবে বাঙালিরদের পুজোয় খাওয়ার তরিতুজ থাকলেও ডেলওয়েরে পুজোতে নিরামিষ খাওয়াদাওয়া।কারণ পুজো হয় মন্দির প্রাঙ্গনে। নবমীতে পাঁঠার মাংসের জন্য কোনও কোনও সময় মনটা যে কেঁদে ওঠে। খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি অবশ্য মেলা , সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানের আসরও থাকে। বাংলা থেকে শিল্পীরা যান, পাশাপাশি কচিকাঁচারাও পারফরম্যান্স করে।

রবিবারের ক্লান্ত সন্ধে জানান দেয় শীত আসছে. ঘুমে ঢুলতে থাকা মেয়েদের টানতে থাকেন অরুন্ধতী, পরের দিন সোমবার আবার কাজের দিন, স্কুলের দিন. আড়চোখে আর একবার শেষ দেখে নেন। এক বছর পর তবে আবার দেখা কি মা? নীলকন্ঠ পাখি টা খবর দেবে অরুন্ধতীর কলকাতাকে।












Click it and Unblock the Notifications