নয় বছরে বিশ্বের নয় শহর ভাসবে জলে, তালিকায় ইতালির ভেনিসের সঙ্গে রয়েছে কলকাতাও
নয় বছরে বিশ্বের নয় শহর ভাসবে জলে, তালিকায় ইতালির ভেনিসের সঙ্গে রয়েছে কলকাতাও
বিশ্ব উষ্ণায়নে (Global Warming) বাড়ছে সমুদ্রের জলের স্তর। কিন্তু যদি জলের ঘাটতি দেখা দেয়, কিংবা দাবানল লেগে যায়, তাহলে তাও যে উষ্ণায়নের জন্য হচ্ছে, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। তবে পৃথিবী যে উষ্ণ হচ্ছে তা স্বীকার করে নিয়েছে আমেরিকার মতো উন্নত কিংবা ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশ। এর মারাত্মক প্রভাব যে সাধারণ মানুষের ওপরে পড়তে পারে, তা নিয়ে অনেক জায়গাতেই রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। সেখানেই ২০৩০ সালে নির্দিষ্ট করে জলবায়ুর সম্ভাব্য পরিবর্তনের প্রভাবের কথা বলা হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে সেই সংক্রান্ত ম্যাপ। সেই ম্যাপে বিশ্বের নটি শহরের মধ্যে কলকাতার নামও স্থান পেয়েছে। যা বেশ শঙ্কারও বটে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি হাজির হয়েছিলেন জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত শীর্ষ বৈঠকে। সেখানে অনেক রিছু পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এখন থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে অনেক কিছুর পরিবর্তন হতে পারে। এর মধ্যে যেমন বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে। যদি সিওপি২৬-এর কথা অনুযায়ী পরিকল্পনা করা হয়, তাহলে বিশ্ব উষ্ণায়নে বাধা তৈরি করতে পারে। কিন্তু যদি কিছুই না হয়, তাহলে যেসব ফলাফলের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে নটি শহরের তলিয়ে যাওয়ার কথা। শহরগুলির কিছু অংশ কিংবা পুরোটাই তলিয়ে যেতে পারে এক দশকের মধ্যে।

নেদারল্যান্ডসের আমস্টার্ডাম
নেদারল্যান্ডসের আমস্টার্ডাম, রোটার্ডাম এবং গেহ শহর অনেকটাই নিচে এবং উত্তর সাগরের কাছে। নেদারল্যান্ডস অনেকদিন ধরেই তাদের বন্যা প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। তবে বর্তমানে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধির যে কথা বলা হচ্ছে, তাতে ওই দেশে বাঁধ, বন্যা প্রতিরোধী ব্যবস্থা, ফ্ল্যাডগেটগুলি সামনের বছরগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।

আমেরিকার নিউ অরলিনস
আমেরিকার এই শহরকে এখনও পর্যন্ত রক্ষা করে চলেছে উত্তরে থাকা সালভাডোর লেক এবং দক্ষিণ থাকা লিটল লেক। যদিও মাঝে মধ্যেই বিপর্যয়ের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি শহরের দুই অংশে থাকা বিলক্সি এবং জিন ল্যাফিটি বনাঞ্চলকে ম্যাপে নিমজ্জিত বলে মনে হচ্ছে।

আমেরিকার সাভানা
আমেরিকার জর্জিয়ার শহর সাভানা। যা রয়েছে হ্যারিকেনের কেন্দ্রবিন্দুতে। হ্যারিকেনের সঙ্গে হড়কা বানও দেখে এই শহর। কিন্তু ভবিষ্যতে আরও খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা আবহাওয়াবিদদের।

ইতালির ভেনিস
ভেনিস দুটি সংকটে পড়তে চলেছে। একটি হল সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধিজনিত অপরটি হল শহরের বসে যাওয়া জনিত পরিস্থিতি। ইতিমধ্যে ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন হয়েছে এই শহর। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে উঁচু বানের সংখ্যা বাড়বে বলেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিউ অরলিনসের মতোই ভেনিসেও বন্যা প্রতিরোধী ব্যবস্থা থাকলেও, পরিস্থিতি খুব খারাপ হলে, তা পরিচর্যা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

ভিয়েতনামের হোচি মিন শহর
জলবায়ু পরিবর্তনের যে মানচিত্র রয়েছে, সেখানে ভিয়েতনামের হোচিমিন শহরের পূর্বাংশের কথা বলা হয়েছে। মেকং ডেল্টা বরাবর শহরের অংশে ক্রমেই অসুবিধা বাড়বে। এবং ২০৩০ সাল নাগাদ শহরের কেন্দ্রের অংশ জলের তলায় চলে যেতে পারে।

ভারতের কলকাতা
তালিকায় বিশ্বের শহরগুলির সঙ্গে কলকাতারও নাম রয়েছে। কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকা উর্বর বলেই পরিচিত। কিন্তু বর্ষার মরশুমে শহরে অবস্থা প্রকট হয়ে পড়ে। শহর থেকে বৃষ্টির জল বেরনোর জায়গা নেই। কলকাতাবাসীর দুর্দশা যে অচিরেই আরও বাড়তে চলেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্কক
২০২০-র এক সমীক্ষায় ধরা পড়েছিল বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে খারাপ অবস্থা হতে পারে ব্যাঙ্ককের। থ্যাইল্যান্ডের রাজধানী সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র দেড় মিটার ওপরে রয়েছেষ। ভেনিসের মতোই এই শহরও নিমজ্জিত হচ্ছে। বছরে দুই থেকে তিন সেন্টিমিটার করে বসে যাচ্ছে এই শহর। ২০৩০ সাল নাগাদ থাইখাম, সমুত প্রকান জলের তলায় চলে যেতে পারে। এছাড়াও শহরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও চলে যেতে পারে জলের তলায়।

গিয়ানার জর্জটাউন
গিয়ানার রাজধানী জর্জটাউনও চলে যেতে পারে জলের তলায়। শহরের ৯০ শতাংশ মানুষ উপকূলেই বসবাস করেন। সমুদ্র থেকে বাঁচতে সেখানে দেওয়াল রয়েছে। তবে ক্ষতির থেকে বাঁচতে এই দেওয়াল আরও উঁচু করার প্রয়োজন হয়ে পড়ছে।

ইরাকের বসরা
সাত-অল-আরবের ধারে অবস্থিত ইরাকের বসরা বন্দর। এই সাত-অল-আরবের জলেই পুষ্ট পারস্য উপসাগর। রিপোর্ট অনুযায়ী, বসরা এবং এর আশপাশের এলাকা সমুদ্রের উষ্ণতাবৃদ্ধির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বসরায় ইতিমধ্যেই জলবাহিত রোগের প্রাদুর্বাভ দেখা দিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications