ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ফের উদ্বেগ প্রকাশ আমেরিকার! মোদী-ট্রাম্প বন্ধুত্বে তৈরি হচ্ছে দূরত্ব?
ফের একবার ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তব্য পেশ করল আমেরিকার আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা-সম্পর্কিত কমিশন। এদিন এই বিষয়ে কমিশনের অ্যাম্বাস্যাডর স্যামুয়েল ব্রাউনব্যাক এদিন বলেন, 'ঐতিহাসিক ভাবে ভারত খুব সহনশীল দেশ। তবে সাম্প্রতিক কালে সেদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে বলে আমেরিকা উদ্বিগ্ন।'

মার্কিন কমিশনের দাবিতে অস্বস্তিতে পড়েন মোদী-শাহ
প্রসঙ্গত, প্রথমে এনআরসি পরবর্তীতে সিএএ, উভয় ক্ষেত্রেই আমেরিকার আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা-সম্পর্কিত কমিশন দাবি করেছিল যে এগুলোতে ভারতীয় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিশানা করা হয়েছে। এরপর গড়িয়েছে অনেক জল। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আমেরিকা সফরে গিয়ে এই বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

এরপর ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রতি সম্মান জানায় আমেরিকা
সেই সময় মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তরফে এক বিবৃতি জারি করে বলা হয়, 'ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের সম্মান রয়েছে। আমরা সেদেশে এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন চলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক মতবিরোধের উপর নজর রাখছি। আমরা সংসদে এই নিয়ে আলোচনা ও রাস্তায় মানুষের বিক্ষোভের উপরও নজর রেখেছি। সেদেশে এই বিষয়টি বিচারাধীন। আমরা এই বিচার ব্যবস্থার উপর ভরসা রাখি। আমরা ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক অনুশীলনের উপর ভরসা রাখি। আমাদের ভারতের সঙ্গে আরও আলোচনা করতে হবে। সংখ্যালঘুদের অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার একটি গণতন্ত্রের স্তম্ভ। আমরা নিশ্চিত যে ভারত এই বিষয়গুলি নজরে রেখেছে।'

ফের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক উস্কে দিল আমেরিকা
তবে সেই বিবৃতি পেশের পর অনেকটা সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। করোনা আবহে সিএএ-এনআরসি বিতর্ক ধামাচাপা পড়ে যায়। এর আগে অবশ্য ভারত সফরে এসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই একই সময় দিল্লিতে শুরু হয়েছিল দঙ্গা। যদিও সেই বিষয়ে তখন কোনও মন্তব্য করা হয়নি আমেরিকার তরফে। তবে এবার ফের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক উস্কে দিল আমেরিকা।

ট্রাম্প প্রশাসনের নথিতে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা-সম্পর্কিত কমিশনের প্রকাশিত রিপোর্টটি মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদিত। সেটি প্রকাশ করেন আমেরিকার সেক্রেটারি অফ স্টেট মাইক পম্পেও। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই প্রকাশিত নথিতে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ফের উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

রিপোর্টকে ভালো ভাবে নেয়নি ভারত
এদিকে সেই রিপোর্টকে ভালো ভাবে নেয়নি ভারত। মার্কিন কংগ্রেসকে উপদেশ দেওয়া বেসরকারি সংস্থার পরামর্শদাতাদের ভারতে আসার ভিসা দেওয়া হল না। এর আগে বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের আমেরিকা সফরকালে মার্কিন কংগ্রেসর সদস্য প্রমীলা জয়পালের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা থাকলেও সেই বৈঠক বাতিল করা হয়। প্রমীলা ভারতের সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলে সেসময় বেশ কিছু মন্তব্য করেছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications