ভারতের সাথে কি সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায় পাকিস্তান? পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের কথায় মিলল এমনই ইঙ্গিত
তবে কি স্বাভাবিক হতে চলেছে ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ক? শত্রুতা ভুলে কি দুই দেশ এবার বন্ধু হয়ে উঠবে? অন্তত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুখে যে কথা শোনা গেল, তাতে এমনই পূর্বাভাস মিলছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং কাশ্মীরসহ সমস্ত বিরোধপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) রাজধানী মুজাফফরাবাদে "কাশ্মীর সংহতি দিবস" উপলক্ষে এক বিশেষ অধিবেশনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

পাক প্রধানমন্ত্রী শরীফ বলেন, "আমরা চাই কাশ্মীরসহ সকল সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমে হোক। ভারতের উচিত ৫ আগস্ট, ২০১৯-এর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জাতিসংঘের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং আলোচনা সংলাপ শুরু করা"। তিনি বলেন, ভারত যদি শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের পথে এগিয়ে আসে, তাহলে দুই দেশের জন্যই তা মঙ্গলজনক হবে।
প্রধানমন্ত্রী শরীফ বলেন যে পাকিস্তান ও ভারতের জন্য একমাত্র পথ হল সংলাপ, যেমনটি ইতিমধ্যেই ১৯৯৯ সালের লাহোর ঘোষণাপত্রে লেখা আছে, যা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর পাকিস্তান সফরের সময় সম্মত হয়েছিল।
তবে এই প্রসঙ্গে শুধু পাকিস্তান নয়, ভারতও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। ভারত বরাবরই পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কের পক্ষে কথা বলে এসেছে, তবে শর্ত ছিল সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ। ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই।
ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক ২০১৯ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আরও শীতল হয়ে পড়ে। যখন ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে দেশ। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত হয়ে যায়।
এই প্রসঙ্গে অবশ্য শেহবাজ শরীফ খানিকটা সুর বদল করেছেন। শান্তির কথা বলেই তিনি বলেছেন, "ভারত যদি সত্যিকার অর্থে এই অঞ্চলের উন্নয়ন চায়, তাহলে অস্ত্র মজুদ না করে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। শান্তিই অগ্রগতির একমাত্র উপায়"।
স্বাভাবিক ভাবেই বোঝা যাচ্ছে, দুই দেশ শান্তির কথা বললেও, তাঁদের বার্তার মধ্যে কোনও শান্তি নেই। স্পষ্ট বক্তব্য উভয় দেশেরই রয়েছে। এমন আবহে শান্তিপূর্ণ আলোচনা কি আদপেও সম্ভব? বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে ইসলামাবাদ এখন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার দিকে মনোযোগ দিতে চায়। তবে ভারতের কৌশলগত অবস্থান অটল রয়েছে-সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না করা পর্যন্ত কোনো সংলাপ সম্ভব নয়। এই নতুন পরিস্থিতিতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।












Click it and Unblock the Notifications