অসম্ভবও সম্ভব, শুক্র গ্রহে কি প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে?‌ মেঘের আড়ালে লুকিয়ে, দাবি বিজ্ঞানীদের

অসম্ভবও সম্ভব, শুক্র গ্রহে কি প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে?‌ মেঘের আড়ালে লুকিয়ে, দাবি বিজ্ঞানীদের

এতদিন পর্যন্ত মঙ্গলগ্রহে প্রাণ নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছিলেন বৈজ্ঞানিকরা। অনেকে তো ভেবেও রেখেছিলেন মঙ্গলগ্রহে জমি কিনে বাড়ি তৈরি করে বসবাস করবেন। তবে এ বছর মঙ্গল গ্রহ থেকে মনোযোগ সরিয়ে জ্যোর্তিবিজ্ঞানীরা শুক্র গ্রহের ওপর তাঁদের দৃষ্টি রেখেছেন। বিজ্ঞানীদের মতে শুক্র গ্রহের মেঘের আড়ালে প্রাণের অস্তিত্ত্ব থাকতে পারে। মজার বিষয় হল, মঙ্গলগ্রহে প্রাণ থাকাটা যতটাই সম্ভব, তার থেকে বহুগুণে অসম্ভব শুক্রগ্রহে প্রাণ থাকাটা। তা সত্ত্বেও, বছর শেষের এক গবেষণা যুক্তি-তত্ত্ব দিয়ে দাবি করেছে, শুক্রগ্রহে সম্ভবত প্রাণ রয়েছে, মেঘের আড়ালে লুকিয়ে।


বিজ্ঞানীদের গবেষণা

বিজ্ঞানীদের গবেষণা

নতুন তত্ত্বে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন যে এই প্রাণীরা হয়ত সেখানে রাসায়নিক বিক্রিয়ার কোনও জলপ্রপাত তৈরি করতে পারে যা শুক্র গ্রহকে আরও বেশি বাসযোগ্য করে তুলেছে। নতুন অনুমানটি গ্রহের উপরের বায়ুমণ্ডলে দেখা দীর্ঘস্থায়ী অসামঞ্জস্য নিয়ে এসেছে, যা বিজ্ঞানীদের দীর্ঘকাল ধরে বিভ্রান্ত করেছে। শুক্র গ্রহে অ্যামোনিয়া গ্যাসের উপস্থিতি, যা প্রথম ১৯৭০-এর দশকে প্রথম সনাক্ত হয়েছিল, তা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে কারণ এই প্রজন্মের দিকে কোন রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রমাণ নেই। কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়, এমআইটি ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা নতুন এই গবেষণাটি প্রকাশ করেছেন প্রসেডিং অফ দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সে।

অ্যামোনিয়া গ্যাসের সন্ধান

অ্যামোনিয়া গ্যাসের সন্ধান

গবেষকদের গবেষণায় উঠে এসেছে, শুক্র গ্রহের মেঘের মধ্যে একাধিক অস্বাভাবিক রাসায়নিক বিক্রিয়া তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন। এই অস্বাভাবিকতাগুলি ছিল কিছু অ-গোলাকার কণা, যার মধ্যে অক্সিজেন, সালফার ডাই অক্সাইড এবং জলীয় বাষ্পের অপ্রত্যাশিত বেশি মাত্রায় উপস্থিত ছিল। এই রাসায়নিক বিক্রিয়া তৈরি হতে পারে, একমাত্র যদি শুক্রের মেঘে প্রচুর পরিমাণে অ্যামোনিয়া থাকে তাহলেই। কিন্তু শুক্র গ্রহে এত বেশি পরিমাণে অ্যামোনিয়া এল কোথা থেকে? অন্যদিকে গবেষকদের মতে, যদি মেঘের মধ্যে অ্যামোনিয়া প্রকৃতপক্ষে উপস্থিত থাকে তবে গ্যাসটি রাসায়নিক প্রতিক্রিয়াগুলির একটি জলপ্রপাত তৈরি করবে যা সালফিউরিক অ্যাসিডের আশেপাশের ফোঁটাগুলিকে নিরপেক্ষ করবে। এই নিরপেক্ষকরণের ফলে মেঘের পিএইচ মোটামুটি -‌১১ থেকে ০ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। যদিও এর পরিসীমা এখনও অম্ল, আর এই অম্লতার সীমার মধ্যে হতে পারে কোনও প্রাণ তা সহ্য করতে পারছে।

কোথা থেকে এল অ্যামোনিয়া

কোথা থেকে এল অ্যামোনিয়া

বিজ্ঞানীদের গবেষণার মতে, শুক্র গ্রহে একমাত্র অ্যামোনিয়া গ্যাস আসতে পারে বড় বড় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে। কিন্তু তাও সন্দেহ দেখা দিচ্ছে অ্যামোনিয়া গ্যাস মেঘে জমা হতে পারে না। আর এখানেই গবেষকরা প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন। তবে বিজ্ঞানীরা এর অন্য ব্যাখাও দিচ্ছেন। তাঁরা মনে করছেন, শুক্র গ্রহে প্রাণ রয়েছে আর তারাই হয়ত এই বিপুল পরিমাণে অ্যামোনিয়া তৈরি করছে। কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডঃ উইলিয়াম বেইনস এক বিবৃতিতে বলেছেন, '‌আমরা জানি পৃথিবীতে অম্ল পরিবেশেও জীবন বাড়তে পারে, তবে শুক্রের মেঘের মধ্যে অ্যাসিডের মতো কিছু রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়নি। কিন্তু যদি মেঘের মধ্যে অ্যামোনিয়া তৈরি হয়, তবে এটি কিছু ফোঁটাকে নিরপেক্ষ করবে এবং তাদের আরও সম্ভাব্য বাসযোগ্য করে তুলবে।'‌

প্রাণীরা নিজেরাই শুক্র গ্রহকে বাসযোগ্য করে তুলছে

প্রাণীরা নিজেরাই শুক্র গ্রহকে বাসযোগ্য করে তুলছে

গবেষকদের দলটি জানিয়েছে যে পৃথিবীতে এমন প্রাণ রয়েছে যা নিরপেক্ষ করতে অ্যামোনিয়া তৈরি করে এবং এটিকে অন্যথায় উচ্চ অম্লতর পরিবেশকে বাসযোগ্য করে তোলে। শুক্র গ্রহের মেঘে অ্যামোনিয়ার উপস্থিতি নিয়ে এমআইটির আর্থ বিভাগের অধ্যাপক সারা সিগার বলেন, '‌শুক্র গ্রহে অ্যামোনিয়া থাকা উচিত নয়। এর সঙ্গে হাইড্রোজেন সংযুক্ত রয়েছে এবং খুব কম পরিমাণে হাইড্রোজেন চারপাশে রয়েছে। যে কোনো গ্যাস যা তার পরিবেশের পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্ভুক্ত নয় তা প্রাণ দ্বারা তৈরি হওয়ার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সন্দেহজনক।'‌

 পরিচিত কোনও প্রাণী বা উদ্ভিদ নয়

পরিচিত কোনও প্রাণী বা উদ্ভিদ নয়

তবে, বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, শুক্র গ্রহে যদি সত্যিই প্রাণের অস্তিত্ব থাকে, তাহলে তা আমাদের পরিচিত কোনও জীব বা উদ্ভিদের মতো হবে না, তার থেকে অনেকটাই অন্যরকম হবে। চেহারাতেও, চরিত্রেও। সারা সিগার জানিয়েছেন, '‌আমরা জানি শুক্রে প্রাণের অস্তিত্ব থাকা অসম্ভব। কিন্তু এই গ্রহে সম্ভবত কিছু অন্য ধরণের প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। তারাই শুক্রের পরিবেশকে পরিবর্তিত করে তাকে তাদের বাসযোগ্য করে তুলেছে। সেই কারণেই শুক্রের মেঘে ওই অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছে।'‌

মহাকাশযান পাঠানো হবে

মহাকাশযান পাঠানো হবে

প্রসঙ্গত, রকেট ল্যাব নামে, ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বেসরকারী মহাকাশ চর্চা সংস্থা, ২০২৩ সালেই শুক্র গ্রহে একটি মহাকাশযান পাঠাতে চলেছে। এই গবেষণার প্রস্তাব সেই অভিযানে খতিয়ে দেখা হবে, সন্ধান চালানো হবে অন্যরকম প্রাণের।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+