২৯০ কোটি মানুষ এখনও করোনার প্রথম ডোজ পাননি, এর জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাতই কী দায়ী!
২.৯ বিলিয়ন মানুষ এখনও করোনার প্রথম ডোজ পাননি, এর জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাতই কী দায়ী!
করোনা মহামারি এখনও বিশ্ব থেকে বিদায় নেয়নি। প্রায় ২৯০ কোটি মানুষ এখনও করোনার প্রথম টিকার জন্য অপেক্ষারত। সেই সঙ্গে কিন্তু চলছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাত। এর জেরে বিশ্বব্যাপী আন্তঃসংযোগের উপর বিশেষ প্রভাব পড়ছে। ইউক্রেনের সংঘাতের ফলে বিভিন্ন দেশগুলো প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার জেরে পরিস্থিতি কিন্তু ক্রমশ জটিল হচ্ছে। তাহলে প্রশ্ন যুদ্ধের জন্যই কী এখন এত মানুষ কোভিড টিকা পাননি!

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কী জানাল
করোনা মহামারী নির্মূল করার জন্য আমাদের কিন্তু কোভ্যাক্স এর টিকার খুব দরকার। আমরা কেউই কিন্তু জোর দিয়ে বলতে পারিনা যে মহামারী শেষ হয়ে গেছে। এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে উন্নয়নশীল দেশগুলি দুর্বল সম্প্রদায়ের সমর্থন থেকে ব্যর্থ বলে জানা গিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছিল, ২০২২ সালের জুনের মধ্যে নিম্ন ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জনসংখ্যার ৭০% কেই টিকা দিতে প্রস্তুত।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞের মত কী
করোনা মহামারি প্রক্রিয়া ও পরিচালনার জন্য বিশেষ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তার পাশাপাশি রয়েছে অনেক সমস্যাও। কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রস্তাবের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। নিম্ন আয়ের দেশগুলিতে করোনা টিকার সরাবরাহ বাড়ানো দরকার।

সমীক্ষা অনুযায়ী কী জানা গেল
তথ্য অনুযায়ী দেখা গেছে, উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে জনসংখ্যার প্রায় ৭১.৪ শতাংশ ও ৬৮.৭ শতাংশ মাঝারি দেশগুলো সম্পূর্ণরূপে টিকাপ্রাপ্ত কম হওয়ার সংখ্যা। অর্থাৎ নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে মাত্র ৬ শতাংশ ও একদম নিম্ন দেশগুলিতে ৩৯.৯ শতাংশ সম্পূর্ণরূপে টিকাপ্রাপ্ত। মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সংহতি সম্পর্কিত জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ হিসাবে, ওবিওরা সি. কাফোর বলেন, এই কঠিন মহামারি কখনও ও কারোর জন্যই শেষ হবে না।

মেডিসিনের রিপোর্ট অনুযায়ী কী জানা গেল
জাতিসংঘের মহাসচিবের প্যানেল মেডিসিনের রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা গিয়েছে, ভারসাম্যহীনতা ও অকার্যকর আইপিআর ব্যবস্থাগুলি মোকাবিলার জন্য একটি প্রশিক্ষণের দরকার। ৭৪ তম সুপারিশগুলি সঠিকভাবে কোন বিবেচনা করা হয়নি। যদিও মে মাসে বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিন কর্মপরিকল্পনা প্রতিশ্রুতি কিন্তু দেওয়া হয়েছিল তবুও যদিও এই ভ্যাকসিন তৈরি ও সরবরাহের জন্য অর্জনের জন্য একটি সমাধান প্রক্রিয়া কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশ বিরোধিতা করছে
এই প্রস্তাব ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক বেশি কিন্তু বিরোধিতা করেছে। অল্পসংখ্যক দেশ মানে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ করার ইচ্ছাকে প্রকাশ করেছে। ৫৪ টি সরকার ও ১০০ টির বেশি দেশেই এটিকে সমর্থন করেছে। তারা দাবি করে জানাচ্ছেন, পেটেন্ট মওকুফের সঙ্গে কোভিড ভ্যাকসিনের সস্তা জেনেরিক সংস্করণ তৈরি করতে হবে। অপরদিকে টি আর আই পি এস আর আই পি এস ডাব্লু টি ও ও বাধ্যতামূলক লাইসেন্স প্রদান করতে হবে। যা জেনেরিক ভ্যাকসিন তৈরি করতে ব্যবহার করা যায়।

চিনে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা
ক্রমশ চিনে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে চিন সরকার। চিনে প্রায় ৩০ মিলিয়ন লোক ঘরবন্দি অবস্থায় রয়েছে। অনেক উন্নত দেশ তাদের জনসংখ্যাকে টিকা দিতে তাঁরা স্বচ্ছল তবুও তাঁরাও জানাচ্ছে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি শেষ হয়ে গিয়েছে। নতুন করে আর কোনও জরুরি বিধি নিষেধের দরকার বা প্রয়োজন নেয়। এতে কিন্তু করোনার ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। মহামারি নিয়ন্ত্রণও কমছে। কোভিড এখনও বিশ্ব থেকে বিদায় নেয়নি। সে সকল উন্নত দেশ কোভিড ভ্যাকসিন ডোজ মজুত করছেন তাঁদের এটি বন্ধ করা উচিত। উন্নয়নেরশীল দেশে করোনা যেন কোনও রোগে পরিণত না হয়। সে দিকে নজর দেওয়া আমাদের সবার লক্ষ করা উচিত।












Click it and Unblock the Notifications