বাণিজ্য টানাপোড়েনের মাঝেও ট্রাম্পের মোদীর প্রশংসা, কূটনৈতিক বার্তা নাকি রাজনৈতিক কৌশল?জানুন
ভারত আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কের জট এখনও পুরোপুরি কাটেনি, রুশ তেল আমদানি বা ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন শুল্ক নিয়ে পাল্টা সুরও চলছে। তবুও দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে প্রায়শই কথা বলেন ট্রাম্প এবং তাঁর মনে মোদীর প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধা রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগেও দীপাবলি উপলক্ষে ওভাল অফিসে ভারতীয় ও আমেরিকান উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিকদের সঙ্গে উৎসব পালন করার সময় সরাসরি ফোনে কথা বলেছেন ট্রাম্প ও মোদী। তিনি বলেন, "প্রেসিডেন্ট ভারত যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তিনি ইতিবাচক ও দৃঢ় অবস্থানেই রয়েছেন এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে। আমাদের ভারতের জন্য একজন দক্ষ রাষ্ট্রদূত রয়েছেন সার্জিও গোর। একই সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য দল দিল্লির সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আলোচনা চালাচ্ছে।"

সম্প্রতি এশিয়া সফরে ট্রাম্প দাবি করেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ 'অনেকটাই কমিয়েছে' ও এই পদক্ষেপকে তিনি প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। যদিও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে ভারতের জ্বালানী কেনার সিদ্ধান্ত দেশের স্বার্থ ও উপভোক্তা কল্যাণ বিবেচনায় নেওয়া হয়, বাইরের চাপে নয়।
এদিকে, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম পর্যায়ে পাঁচ দফা বৈঠক ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। কিন্তু উত্তেজনা বেড়ে যায় যখন চলতি বছরের অগাস্টে ওয়াশিংটন ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে। কারণ হিসেবে দেখানো হয়, রাশিয়া থেকে ভারতের ধারাবাহিক তেল আমদানি।
নয়াদিল্লি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এই সিদ্ধান্তকে আখ্যা দিয়েছে "অন্যায্য, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য।" অন্যদিকে ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, "মার্কিন ও ভারত বাণিজ্য এতদিন সম্পূর্ণ একতরফা ছিল, যা আমেরিকার ক্ষতি করেছে।"
সব মিলিয়ে উভয় দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও, কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ চলছে দ্রুত গতিতেই। ট্রাম্প ও মোদী সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের আলোচনাই এখন অপেক্ষা করছে বাস্তব সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়ার।












Click it and Unblock the Notifications