চিনের আপত্তি ‘যুদ্ধ’ শব্দ ব্যবহারে, ইউক্রেন-সংকটের নিন্দার পরও যৌথ বিবৃতি নেই জি-২০ বৈঠকে
চিন জানিয়েছিল তারা ‘যুদ্ধ’ শব্দটি মুছে ফেলতে চায় সমস্ত নথি থেকে। শনিবার জি-২০ বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে চিনের ভূমিকার বিরুদ্ধো যৌথ বিবৃতি তুলে ধরতে ব্যর্থ জি-২০ সদস্যরা।
ভারতের সভাপতিত্বে জি-২০ বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তীব্র নিন্দা করেছে বেশিরভাগ সদস্যই। তারপরও চিন যখন 'যুদ্ধ' শব্দ ব্যবহারে আপত্তি তুলেছে, তা নিয়ে কোনো যৌথ বিবৃতি নেই জি-২০ বৈঠকে। চিন নভেম্বের থেকে 'যুদ্ধ' শব্দের ব্যবহার নিয়ে প্রবল আপত্তি তুলেছিল।

চিন জানিয়েছিল তারা 'যুদ্ধ' শব্দটি মুছে ফেলতে চায় সমস্ত নথি থেকে। শনিবার জি-২০ বৈঠকে ভারতের বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর একটি যৌথ আলোচনা হয়। সেই আলোচনায় রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে চিনের ভূমিকার বিরুদ্ধে যৌথ বিবৃতি তুলে ধরতে ব্যর্থ জি-২০ সদস্যরা।
জি-২০ সভাপতি ভারত এদিনের বৈঠকের সারসংক্ষেপ করেছে এইভাবেই যে, বেশিরভাগ সদস্য ইউক্রেনের যুদ্ধের তীব্র নিন্দা করেছেন। বেঙ্গালুরুতে দুই দিনের বৈঠকে পরিস্থিতি ও নিষেধাজ্ঞার বিভিন্ন মূল্যায়ন করা হয়েছে। এক লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নভেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে যে ঘোষণা হয়েছিল, তা নিয়ে আলোচনায় রাশিয়া ও চিন ছাড়া সমস্ত দেশ সম্মত হয়েছিল।
গত ফ্রেব্রুয়ারিতে জি-২০ গ্রুপের সদস্য রাশিয়া তার প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেন আক্রমণ করার পর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রধানদের পূর্ববর্তী বৈঠকগুলিও একটি সাধারণ যোগাযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ। চিন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা ইউক্রেনের বিষয়ে সম্মত হতে পারেনি অন্য দেশগুলির সঙ্গে। অর্থনৈতিক ও আর্থিক সমস্যাগুলি মোকাবিলা করাই তাদের কাছে অগ্রাধিকার।
অন্যদিকে ১৮টি দেশ মনে করছে যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। উল্লেখ করা দরকার যে, চিন কৌশলগত কারণেই বন্ধু রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নিজেকে নিরপেক্ষ রাখতে চাইছে। শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ইয়ের বরাত দিয়ে বলেছে যে, চিন মস্কোতে রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রাশিয়ার সঙ্গে 'কৌশলগত সমন্বয়' রক্ষা করতে ইচ্ছুক।
শুক্রবার রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের প্রথম বার্ষিকীতে চিন ১২ দফা দাবি প্রকাশ করেছে। সেই দাবিপত্রে ইউক্রে সঙ্কটের 'রাজনৈতিক নিষ্পত্তি' করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু সেখানে যুদ্ধ শব্দ ব্যবহার করা হয়নি। যুদ্ধ শব্দটি ব্যবহারে প্রবল আপত্তি জানানো হয়েছে।
পশ্চিমা দেশগুলি- যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং ফ্রান্স-সহ আগে জোর দিয়েছিল যৌথ বিবৃতি প্রকাশের ব্যাপারে। নভেম্বরে ইন্দোনেশিয়ায় জি-২০ নেতাদের বৈঠকে এ ব্যাপারে সম্মত হয়েছিল তারা। কিন্তু এবার ভারতে জি-২০ বৈঠকে যৌথ বিবৃতি জারি করা হল না চিনের যুদ্ধ শব্দ ব্যবহারের আপত্তি নিয়ে।
জার্মান অর্থমন্ত্রী ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডনার বলেন, "এটি একটি যুদ্ধ এবং এই যুদ্ধের একটি কারণ আছে। সেই একটি কারণ হল রাশিয়া এবং ভ্লাদিমির পুতিন। এটি এই জি-২০ অর্থ সভায় স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা উচিত।" ভারতের সংক্ষিপ্ত নথিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সামান্য উন্নতি হয়েছে, যদিও সামগ্রিক বৃদ্ধি ধীর রয়ে গিয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মহামারীর পুনরুত্থান এবং অনেক দরিদ্র দেশ ঋণ সংক্রান্ত ঝুঁকি রয়ে গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications