নোবেলজয়ীকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা করার দাবি, কে এই মহম্মদ ইউনূস?
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ডাক দেওয়া হয়েছে। সেই দেশের নোবেল জয়ী মহম্মদ ইউনূসকে নেতৃত্বে চাইছে ছাত্রসমাজ। তবে এই নিয়ে চূড়ান্ত কোনও রূপরেখা এখনও ঠিক হয়নি।
গতকাল সোমবার থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাধারণ মানুষ বঙ্গভবনে ঢুকে গিয়েছে। লুটপাট চলেছে বঙ্গভবনের ভিতরে।

সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিলেও সমালোচনা চলছে। ছাত্র সমাজ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকতে চায় না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অবিলম্বে গঠন করতে হবে। দ্রুত নির্বাচনের প্রক্রিয়া করতে হবে। এই ডাক ছাত্র সমাজ থেকে দেওয়া হয়েছে।
মহম্মদ ইউনূসের নাম চর্চায় রয়েছে। তাঁর কাছে বার্তাও পাঠানো হয়েছে। কে এই মহম্মদ ইউনূস? প্রফেসর মহম্মদ ইউনূস ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল দরিদ্রদের তাদের জন্য উপযুক্ত শর্তে ঋণ প্রদান। তাদের নিজেদের সাহায্য করার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট আর্থিক নীতি শেখানো। সেই মাধ্যমে দারিদ্র অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করা।
১৯৪০ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন অধ্যাপক ইউনূস। বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। পরে, তিনি ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ার জন্য সুযোগ পান। ১৯৬৯ সালে ভ্যান্ডারবিল্ট থেকে অর্থনীতিতে পিএইডি করেন। পরের বছরে তিনি মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক হয়েছিলেন।
বাংলাদেশে ফিরে আসার পর ইউনূস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান হন। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত, তিনি মহিলাদের উপর চতুর্থ বিশ্ব সম্মেলনের জন্য আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা গ্রুপের সদস্য ছিলেন।পরবর্তীতে তিনি গ্লোবাল কমিশন অব ওমেন্স হেলথ, সাসটেইনেবল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের উপদেষ্টা কাউন্সিল এবং ইউএন এক্সপার্ট গ্রুপ অন উইমেন অ্যান্ড ফিন্যান্সেও কাজ করেছেন।
ইউনূস তাঁর কাজ, ধারণার জন্য বিশ্বের বহু দেশে সমাদৃত৷ অসংখ্য আন্তর্জাতিক সম্মান তাঁর ঝুলিতে আছে। তিনি সিওল শান্তি পুরষ্কার পেয়েছেন ২০০৬ সালে। তিনি জাতিসংঘ ফাউন্ডেশনের বোর্ডের সদস্য।
২০০৬ সালে বাংলাদেশে মাইক্রোফিন্যান্স ব্যাঙ্ক তৈরির জন্য নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। দারিদ্র দূর করা, মানুষকে আর্থিক উন্নতির রাস্তা দেখানোর জন্য তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন। তবে সদ্য পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দূরত্ব ছিল তাঁর। আওয়ামি লিগ বহু বার তাঁর কাজের সমালোচনা করেছে।
মহম্মদ ইউনূসের সংস্থা গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। বাংলাদেশের শ্রম আইন ভাঙার অভিযোগ আসে৷ ঢাকা আদালত মহম্মদ ইউনূসকে ছয় মাসের জেলের সাজাও শোনায়৷ এই নোবেল জয়ীর বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সরকার ১৯০ টির বেশি মামলা দিয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications