কমছে টিকার কার্যকারিতা, অ্যান্টিবডিকেও ফাঁকি দিতে ওস্তাদ দুই নতুন করোনা স্ট্রেন! বাড়ছে আশঙ্কা
কমছে টিকার কার্যকারিতা, অ্যান্টিবডিকেও ফাঁকি দিতে ওস্তাদ দুই নতুন করোনা স্ট্রেন! বাড়ছে আশঙ্কা
মিউটেশনের ফলে বর্তমানে আগের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ও সংক্রমক রূপে ফিরে এসেছে কোভিড ভাইরাস। যদিও নিত্যনতুন আন্তর্জাতিক সংস্থার ভ্যাকসিন ট্রায়ালে উত্তীর্ণ হওয়ার পর বেশ স্বস্তিতেই ছিলেন জনসাধারণ, কিন্তু সম্প্রতি ভাইরাসবিদ শাহিদ জামিলের বক্তব্য রাতের ঘুম কেড়েছে অনেকের। আক্রান্ত কোষের এসিই২ রিসেপ্টরের সঙ্গে যুক্ত হয় ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন, সেই স্পাইক প্রোটিনেরই দু'টি বিশেষ অভিযোজনের সম্পর্কে বলেছেন হরিয়ানার অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাহিদ জামিল।

দক্ষিণ আফ্রিকার স্ট্রেনের বিষয়ে চলছে জোরদার গবেষণা
সূত্রের খবর, অ্যান্টিবডিকে কিভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার স্ট্রেন বাধা দিচ্ছে, সে বিষয়ে বর্তমানে চলছে ব্যাপক গবেষণা। পাশাপাশি ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনে এই বিশেষ অভিযোজনের সম্পর্কে শনিবার আইএনওয়াইএএসের অনলাইন মাধ্যম 'জ্ঞানটীকা'-য় বক্তব্য রেখেছেন শাহিদ। শাহিদের ব্যাখ্যানুযায়ী, "স্পাইক প্রোটিনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অ্যামাইনো অ্যাসিড উপস্থিত থাকে। এন৫০১ওয়াই ও ই৪৮৪কে অভিযোজনের কারণে ঋণাত্মক অ্যামাইনো অ্যাসিড ধনাত্মক হয়ে পড়ে!"

দেশে প্রবেশ করল ব্রাজিলের স্ট্রেন
মঙ্গলবারই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছিল চারজনের দেহে দক্ষিণ আফ্রিকার স্ট্রেন পাওয়ার কথা। সম্প্রতি একজনের শরীরে আবার মিলল ব্রাজিলের স্ট্রেন, যা দেশে এই প্রথম! বর্তমানে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১.১ কোটির কাছাকাছি, ফলে দেশেই নতুন স্ট্রেনের উদ্ভবের বিষয়ে সাবধান করেছেন শাহিদ। যেভাবে অ্যান্টিবডিকে এড়িয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে নবস্ট্রেনগুলি, তা বোঝার জন্য জিনোমিক সিকোয়েন্সিং-ই যে একমাত্র পন্থা, তাও জানান শাহিদ।

১০টি ল্যাবরেটরির বিশেষ সাহায্যে নব করোনাকে ঠেকানোর চেষ্টা কেন্দ্রের
ভারতীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে খবর, বর্তমানে ভারতে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের ঘনত্ব মাত্র ০.০৫%-এর কাছে। সেই হারকে প্রায় ৫%-এ উন্নীত করার লক্ষ্যে দেশের ১০টি সেরা গবেষণাগারের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করেছে ইনসা-সিওজি, শনিবার জামিল জানান এমনটাই। পাশাপাশি মহামারীর আবহে ভাইরাসের অভিযোজনের গতিপথ বুঝতে সম্প্রতি প্রায় ৫০০০ জনের উপর গবেষণা চালিয়েছে হায়দরাবাদের সিএসআইআর (সিসিএমবি)।

জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের উপর জোর দিচ্ছেন সকলেই
ভারতে অন্যান্য দেশের স্ট্রেনের চেয়েও যে এন৪৪০কে স্ট্রেনের প্রকোপ বাড়ছে দক্ষিণী রাজ্যগুলিতে, সে বিষয়ে জানান সিসিএমবির অধিকর্তা রাকেশ মিশ্র। পাশাপাশি দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার স্ট্রেন কম পাওয়া গেলেও বিদেশি স্ট্রেনের মত এই স্ট্রেনও যে অ্যান্টিবডিকে ফাঁকি দিতে ওস্তাদ, তাও জানান রাকেশ। দেশে যেভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, তাতে অভিযোজনের ক্ষেত্র পাচ্ছে ভাইরাস, ফলে জিনোম সিকোয়েন্সিংই যে একমাত্র পথ, সে বিষয়ে একমত কমবেশি সকল গবেষকই।












Click it and Unblock the Notifications