Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

তুরস্কে খনি দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭৪, চলছে বিক্ষোভ

তুরস্ক
সোমা (তুরস্ক), ১৫ মে: কয়লা খনিতে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৭৪ জন। এখনও অনেকে ভিতরে আটকে রয়েছেন। তবে বিষাক্ত গ্যাস আর জমে না থাকায় তাঁদের জীবন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা। এই ঘটনার জেরে প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়িপ এরডোগানের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে গণবিক্ষোভ। শ্রমিকদের সুরক্ষায় সরকার কেন ব্যবস্থা নেয়নি, এটাই হল বিক্ষোভের ইস্যু।

গতকাল সোমা শহরের উপকণ্ঠে কয়লা খনিতে বৈদ্যুতিক লাইনে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন ছড়ায়। জ্বালানি মন্ত্রী তানের ইলদিজ বলেছেন, যখন বিস্ফোরণ ঘটে, সেই সময় ৭৮৭ জন শ্রমিক ১৪০০ ফুট গভীর খনিতে কাজ করছিলেন। এখনও পর্যন্ত ২৭৪টি শব উদ্ধার করা হয়েছে। ৩৬৩ জনকে অসুস্থ অবস্থায় বের করে আনা হয়েছে। কিছু শব পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে, শনাক্ত করাও সম্ভব হয়নি। বাকিরা মারা গিয়েছে কার্বন ডাই অক্সাইডে দমবন্ধ হয়ে।

উদ্ধারকর্মীরা জানান, গতকাল ঘটনার পরপরই তাঁরা নামার চেষ্টা করেছিলেন খনিতে। কিন্তু কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস এত বেশি পরিমাণে বেরোচ্ছিল যে, এগোতে সাহস পাননি। আস্তে আস্তে সেই গ্যাসের প্রাবল্য কমে আসার পরই খনির ভিতরে ঢোকা সম্ভব হয়েছে। বৃহস্পতিবারও খনির মুখে রয়েছে পুলিশের কড়া পাহাড়া।

এদিকে, এই ঘটনায় তুরস্ক সরকারের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। সোমা ছাড়াও ইস্তানবুল এবং রাজধানী আঙ্কারাতে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন মানুষ। হাতে প্ল্যাকার্ড, "চোর প্রধানমন্ত্রী, খুনি প্রধানমন্ত্রী গদি ছাড়ো।" অবস্থা এমনই যে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত খনিমুখ পরিদর্শনে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তখন বিক্ষোভকারীরা লাঠি, লোহার রড নিয়ে তাড়া করে তাঁকে। পুলিশ তাঁকে নিয়ে কাছের একটি সুপার মার্কেটে ঢুকে পড়ে। পরে লাঠি চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়িপ এরডোগানের বিরুদ্ধে মূলত তিনটি কারণে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। প্রথমত, যে কোম্পানির মালিকানাধীন এই কয়লাখনিটি, সেই 'সোমা কোমুর ইসলেতমেলেরি'-র মালিক গা ঢাকা দিয়েছেন। ইনি শাসক দল এনকেপি পার্টির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু বলে পরিচিত। এই কারণে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করছে না, এই অভিযোগ তুলেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। দ্বিতীয়ত, ওই কয়লাখনিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যে ঢিলেঢালা, সেটা বহুবার শ্রমিকরা জানিয়েছিলেন কর্তৃপক্ষকে। সরকারকেও জানানো হয়েছিল। কেউ উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়নি। তৃতীয়ত, ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, "এগুলো তুচ্ছ বিষয়। যে কোনও কাজের জায়গাতেই ঘটতে পারে। খনিতে দুর্ঘটনা ঘটবে না, এটা বলা সম্ভব নয়, করাও সম্ভব নয়।" মানুষের ক্ষোভ বাড়িয়ে দেয় এমন অসংবেদনশীল মন্তব্য।

পরিস্থিতি তপ্ত থাকায় আলবানিয়া সফর বাতিল করেছেন প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়িপ এরডোগান। বলেছেন, "চক্রান্ত করে আমার সরকারকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারা এ সব করছে, পুলিশকে তদন্ত করতে বলেছি।"

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+